২০৩২ সাল নাগাদ ফ্ল্যাগশিপ আইফোন কিনতে ৬ হাজারের বেশি ডলার ব্যয় হবে। স্মার্টফোন মার্কেটপ্লেস মজিলিয়ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর গিজচায়না।

প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতি বছর স্মার্টফোনের গড় মূল্যও বাড়ছে। ছয়-সাত বছর আগে কেউ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ১ হাজার ডলার ব্যয়ের কথা ভাবেনি। তবে এটিই এখন বাস্তব। কিছু ক্ষেত্রে ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ও প্রিমিয়াম বৈশিষ্ট্যের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ৯৯৯ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়।

বাজারে রেগুলার ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের দাম নির্ধারণে অ্যাপল এগিয়ে। ২০১৭ সালে কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি ৯৯৯ ডলারে আইফোন এক্স উন্মোচন করে। সে সময় এ ধরনের মূল্যমানের দিক থেকে এটিই ছিল প্রথম বিখ্যাত স্মার্টফোন। আইফোন এক্স বাজারজাতের পর স্যামসাং, সনিসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডও একই কাজ করে। সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের জন্য পরিচিত চীনা প্রতিষ্ঠান অপো, শাওমি, ভিভোও একই পথে হাঁটে।

মজিলিয়নের জরিপে গত ১০ বছরে সব স্মার্টফোনের মূল্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। জরিপের তথ্য থেকে প্রতিষ্ঠানটি আগামী ১০ বছরের জন্য একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। মজিলিয়নের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে ১৯৯ ডলারে আইফোন বিক্রি শুরু হলেও ২০২১ সালে তা ১ হাজার ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। দাম বাড়ার হার ৪৫২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী ১০ বছর যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে ২০৩২ সালে ফ্ল্যাগশিপ আইফোনের মূল্য ৬ হাজার ৬৯ ডলারে দাঁড়াবে।

ফ্যাক্ট চেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে ৬৪৯ ডলারে আইফোন ৫ বাজারজাত করা হয়েছিল। বর্তমানে ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে ১ হাজার ৯৯ ডলারে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স পাওয়া যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩২ সালে একটি ফ্ল্যাগশিপ আইফোনের দাম ২ হাজার ডলারের কাছাকাছি হবে।

গত ১০ বছরে মটোরোলা, হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখেছে। মজিলিয়নের বিশ্বাস ২০৩২ সাল নাগাদ হুয়াওয়ের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হবে। প্রযুক্তিবিদ, বিশ্লেষকদের অনুমান ২২১ শতাংশ হারে এ বৃদ্ধি আগামী ১০ বছর চলমান থাকবে। অন্যদিকে গত এক দশকে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনের মূল্য ১৮৪ শতাংশ, ওয়ানপ্লাসের মূল্য ১৪২ শতাংশ, সনির মূল্য ১০৫ শতাংশ এবং নকিয়া স্মার্টফোনের মূল্য ৫৫ শতাংশ বেড়েছে।