দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত টাটা কোম্পানির ইলেকট্রনিকস কারখানায় আইফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদন হয়। তবে অ্যাপলের কাছ থেকে আরো বেশি ব্যবসা আনার জন্য এবার ভারতীয় এ কোম্পানি তাদের কারখানার কর্মী সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চীনের মহামারী সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলোকে কাজে লাগিয়েই টাটা অধিক পরিমাণ ব্যবসা করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।

তামিলনাড়ু রাজ্যের হোসুর শিল্পনগরীর কারখানায় ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ৪৫ হাজার নারী শ্রমিক নিয়োগ করতে যাচ্ছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ এ কোম্পানি। কারণ আরো বৃহৎ পরিসরে যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য নতুন উৎপাদন লাইন স্থাপন করতে যাচ্ছে তারা। খবর ফ্রিমালয়েশিয়াটুডে।

টাটার যে কারখানায় আইফোনের যন্ত্রাংশ সংযোজন বা ডিভাইস একসঙ্গে ধরে রাখে এমন যন্ত্রাংশ উৎপাদন করা হয়, সেখানে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী।

বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে অ্যাপল বর্তমানে চীনের বাইরেও তার সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক এ সুযোগই কাজে লাগাতে চাচ্ছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো।

যদিও ভারতে খুব বড় পরিসরে নয়, অল্প পরিসরে আইফোনের যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। তবে দেশটি চীনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য জোরালো ধাক্কা দিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক। কারণ ভারতের প্রতিবেশী দেশটি কভিড সম্পর্কিত লকডাউন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে লড়াইয়ে নিয়োজিত। তাই অ্যাপলও চীনের ওপর থেকে তাদের যন্ত্রাংশ উৎপাদন সম্পর্কিত নির্ভরতা কমিয়ে অন্য অঞ্চল ঘিরে মনোযোগী।

৫০০ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত হোসুর কারখানা। সেপ্টেম্বরে এখানে আদিবাসী উপজাতি সম্প্রদায়সহ প্রায় পাঁচ হাজার নারীকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা ফ্রিমালয়েশিয়াটুডেকে জানায়, কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গোপনীয়ভাবেই করা হয়েছে।

লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের কর্মশক্তিতে আরো বেশি নারী নিয়োগের চেষ্টা করছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। তবে টাটা ও অ্যাপলের প্রতিনিধিদের মন্তব্য চেয়ে ই-মেইল পাঠানো হলেও কোনো জবাব আসেনি।

হোসুর কারখানার নারী শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১৬ হাজার রুপি (১৯৪ ডলার), যা ভারতীয় শিল্পের অন্য কর্মচারীদের, বিশেষ করে যারা হাতের পাশাপাশি প্রচলিত যন্ত্র ব্যবহার করে, গড় মজুরির তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। তাছাড়া টাটার কর্মীদের কারখানার মধ্যে বিনামূল্যে খাবার ও বাসস্থান সুবধািও দেয়া হয়। শোনা যাচ্ছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা প্রদানের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

ভারতের নতুন ইলেকট্রনিকস শিল্প মূলত মহামারী মোকাবেলায় চীনের চ্যালেঞ্জগুলোকেই পুঁজি করে নিজেদের লাভবান করার চেষ্টা করছে। অ্যাপলের প্রধান উৎপাদন অংশীদার ফক্সকন টেকনোলজি গ্রুপ সম্প্রতি এ উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই করছে, বড়দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ ছুটির মৌসুমের আগে কভিডের আরো একটি ধাক্কা চীনের কারখানাগুলোর উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

চীনের বাইরে সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার জন্য ফক্সকন এবং তাদের সহযোগী তাইওয়ানের উইস্ট্রন কর্প ও পেগাট্রন কর্প ভারতে আইফোনের উৎপাদন বাড়িয়েছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আর্থিক প্রণোদনা কর্মসূচির দ্বারাও বেড়েছে।

তথ্যানুসারে প্রতিযোগী আইফোন হাউজিং সরবরাহকারীদের মধ্যে রয়েছে লেন্স টেকনোলজি কো., জাবিল ইনক ও লিঙ্গি আইটেক গুয়াংডং কো.।

তাছাড়া টাটা গ্রুপ যৌথ উদ্যোগে ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের জন্য উইস্ট্রনের সঙ্গে আলোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু যন্ত্রাংশ তৈরি নয়, ভারতেই আইফোনের বিভিন্ন অংশ সংযুক্তির কাজগুলো সম্পন্ন করা।