২০২৬ সাল নাগাদ প্রিমিয়াম অ্যাপে ভোক্তা ব্যয়, অ্যাপে কেনাকাটা ও বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন বাবদ ব্যয় ২৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে, ২০২১ সালের ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তুলনায় যা ৭১ শতাংশ বেশি। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা সেন্সর টাওয়ারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২১-২৬ সালের মধ্যে অ্যাপে কেনাকাটা ও ব্যয়ের সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হার (সিএজিআর) থাকবে ১২ শতাংশ। করোনা মহামারীর শুরুর দিনগুলোয় অ্যাপে কেনাকাটা ও অর্থ ব্যয় চূড়ায় পৌঁছার পর চলতি বছর স্থিতিশীল হয়েছে। তবে সামনের বছরগুলোয় অ্যাপে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। সেন্সর টাওয়ারের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে অ্যাপে কেনাকাটার পরিমাণ ২৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরের সিএজিআর থাকবে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সাল নাগাদ অ্যাপ স্টোরে বার্ষিক অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ সিএজিআরে গুগল প্লেতে ২০২৬ সালে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

ভোক্তা ব্যয়ে উভয় প্লাটফর্মেই শীর্ষস্থান থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ সিএজিআরে ২০২৬ সাল নাগাদ অ্যাপে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় দাঁড়াবে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার এবং গুগল প্লেতে ২ হাজার ৭৪০ কোটি ডলার।

প্রথমবারের মতো অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে ডাউনলোডের পরিমাণও পরবর্তী পাঁচ বছরে বাড়বে। ৪ দশমিক ৭ শতাংশ সিএজিআরে ডাউনলোডের সংখ্যা ১৮ হাজার ১০০ কোটিতে দাঁড়াবে। নতুন করে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ডাউনলোড হবে ৩ হাজার ৭৮০ কোটিবার এবং প্রথমবারের মতো গুগল প্লে ডাউনলোড হবে ১৪ হাজার ৩১০ কোটিবার। বর্তমানে আয়ের দিক থেকে মোবাইল গেম অ্যাপগুলোর হিস্যা অর্ধেকেরও বেশি। তবে ২০২৬ সাল নাগাদ নন-গেম অ্যাপগুলো আয়ের দিক থেকে গেমিং অ্যাপগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে। আয়ের দিক থেকে গেমিং অ্যাপের হিস্যা থাকবে ৪৩ শতাংশ, ২০২০ সালের তুলনায় যা ২৩ শতাংশ কম। নন-গেম অ্যাপের ক্ষেত্রে আইওএসে বিনোদন শীর্ষ ক্যাটাগরি। আয়ের হিস্যা ৫ পয়েন্ট বেড়ে ২০২৬ সালে ১৩ শতাংশে দাঁড়াবে। গুগল প্লেতে আয়ের দিক থেকে শীর্ষে থাকবে সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন ও সৃজনশীল নন-গেম অ্যাপগুলো।

নতুন অ্যাপ ব্যবহার এবং অ্যাপ স্টোর ডাউনলোডে অঞ্চল হিসেবে পরবর্তী পাঁচ বছরে শীর্ষে থাকবে এশিয়া। ভোক্তা ব্যয়ে উত্তর আমেরিকা নেতৃত্বে থাকলেও অ্যাপ ডাউনলোডের দিক থেকে শীর্ষে থাকবে জনবহুল অঞ্চলটি। ২০২৬ সাল নাগাদ প্রথমবারের মতো গুগল প্লে ও অ্যাপ স্টোর ৮ হাজার ৮৩০ কোটিবার ডাউনলোড হবে। ২০২৬ সাল নাগাদ ডাউনলোডের সিএজিআর থাকবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ডাউনলোডে এশিয়ায় নেতৃত্বে প্রধান ভূমিকা থাকবে ভারতের। ২০২৬ সাল নাগাদ গুগল প্লে ও অ্যাপ স্টোর নতুন ডাউনলোড হবে ৪ হাজার ২০ কোটিবার, ২০২১ সালের ২ হাজার ৭৮০ কোটিবারের তুলনায় যা ৪৪ শতাংশ।