যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ২০৩০ সালের মধ্যে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের সুবিধা দিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাইডেন প্রশাসন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর এনগ্যাজেট।

১ লাখ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় অবকাঠামো আইনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিস্তারে নির্ধারিত ৬৫ হাজার কোটি ডলারের মধ্য থেকে এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এখন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশ ও অন্য সংস্থাগুলো সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিতে যে তিনটি প্রোগ্রাম রয়েছে, সেগুলোয় অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী গিনা রাইমন্ডো বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে আপনি যদি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার না করতে পারেন, তাহলে আপনি সহজে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন না। বাইডেন প্রশাসনের প্রকল্পটির ব্যয়সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন গিনা।

তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় অবকাঠামো আইনের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ধন্যবাদ। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীরা আর উচ্চগতির ইন্টারনেটের অভাবে পিছিয়ে থাকবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে, ছোট ব্যবসা চালু করতে পারে, ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারে, সেজন্য তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

প্রদেশগুলো অর্থায়নকে কাজে লাগিয়ে ফাইবার-অপটিক্যাল কেবল সংযোগ দেয়া, বিভিন্ন স্থানে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক চালু করাসহ ক্ষেত্রবিশেষে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে ফ্রি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা দিতে পারবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ভর্তুকিযুক্ত ইন্টারনেট সেবা প্রদানে ২০টি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করে বাইডেন প্রশাসন। এ খবরের পর পরই নতুন প্রকল্প চালুর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ইন্টারনেট ফর অল বা সবার জন্য ইন্টারনেট প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থায়ন ব্রডব্যান্ড ইকুইটি, অ্যাকসেস ও ডেপ্লয়মেন্ট (বিইএডি) প্রোগ্রাম থেকে আসবে। বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলকে তাদের কাজের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত চিঠি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত বাজেটের বিষয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পাঁচ বছরের জন্য ৫০ লাখ ডলারের ফান্ড দেয়া হবে। যেটির মাধ্যমে তারা অঞ্চলের অধিবাসীদের উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করবে।

যেসব প্রদেশ এ প্রকল্পে অংশ নেবে, তারা বিইএডির ৪২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল থেকে ১০ কোটি ডলার করে পাবে। এরপর থেকে ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় থাকা অঞ্চলের ম্যাপ অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১০০ কোটি ডলারের মিডল মাইল ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো প্রোগ্রামের অধীনে পরবর্তী ধাপের অর্থায়নের বিষয়টি পরিচালনা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতামূলক বাজার, অধিক দূরত্বে উচ্চগতিতে তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের স্টেট ডিজিটাল ইকুইটি প্ল্যানিং গ্র্যান্ট প্রোগ্রামটি মূলত ডিজিটাল লিটারেসি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বস্তরে ইন্টারনেটের ব্যবহার নিশ্চিতে সাজানো হয়েছে।