টুইটারের নতুন নির্বাহী নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। গুঞ্জনকে সত্য প্রমাণ করে এনবিসি ইউনিভার্সালের বিজ্ঞাপন বিভাগের সাবেক প্রধান লিন্ডা ইয়াকারিনোকে নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন ইলোন মাস্ক। খবর বিবিসি।
মার্কিন এ ধনকুবের জানান, লিন্ডা এখন থেকে বিজনেস অপারেশন দেখভাল করবেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণের পর থেকে মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটি আয় অব্যাহত রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। ছয় সপ্তাহের মধ্যে লিন্ডা কাজ শুরু করবেন বলেও জানান মাস্ক। এখন থেকে ইলোন মাস্ক টুইটারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
এক টুইট বার্তায় মাস্ক বলেন, ‘লিন্ডার সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে প্লাটফর্মটিকে সবকিছুর অ্যাপে পরিণত করতে আমি উদগ্রীব।’ নতুন নির্বাহীর নাম ঘোষণা করার একদিন আগে মাস্ক টুইটারের নতুন প্রধানের সন্ধান পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে তখন তিনি নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।
২০২২ সালে মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্ম অধিগ্রহণের পর থেকে অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনায় চাপের মুখে পড়েন। এর মধ্যে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা ও রকেট ফার্ম স্পেসএক্স রয়েছে। বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম প্রতিষ্ঠানে নারী নেতৃত্ব রয়েছে। সেদিক থেকে ইয়াকারিনো অন্যতম একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেয়ার মাধ্যমে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছেন। ইয়াকারিনো ইতালিয়ান-আমেরিকান পরিবারে বড় হয়েছেন। তার বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা।
পেন স্টেট থেকে স্নাতক শেষ করার পর লিন্ডা ১৫ বছর টার্নার এন্টারটেইনমেন্টে কাজ করেছেন। সেখানে ২ হাজার মানুষ দেখভাল করেছেন এবং স্ট্রিমিং পরিষেবা চালুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এরপর এনবিসি ইউনিভার্সালে যুক্ত হন। এছাড়া তিনি অ্যাপল নিউজ, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন।
বিজনেস ইনসাইডারের ক্লেয়ার অ্যাটকিনসন প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়াকারিনোর কর্মজীবন পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন খাতে লিন্ডার যে ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে তা টুইটারের জন্য সহায়ক হবে। ইলোন মাস্কের হাতে মালিকানা যাওয়ার পর বিজ্ঞাপন খাত থেকে টুইটারের আয় অনেকাংশেই কমে গেছে।
অ্যাটকিনসন বলেন, ‘বর্তমানের তুলনায় টুইটার যদি আরো ভালোভাবে মনিটাইজেশন শুরু করতে চায় তাহলে বিজ্ঞাপন খাতই মূল। আর লিন্ডার হাত ধরে এ খাতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। সে এমন এক ব্যক্তিত্ব যাকে ইলোন মাস্কের প্রয়োজন।’
লিন্ডা ইয়াকারিনোর আলোচনা করার যে দক্ষতা সেজন্য তাকে ভেলভেট হ্যামার ডাক নাম দেয়া হয়েছিল। ২০১২ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। ইয়াকারিনো এমন একটি ব্যবসাকে দেখভাল করতে হবে যেটি দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানে রয়েছে। এছাড়া ভুয়া তথ্য ও ঘৃণিত বক্তব্য রোধে প্লাটফর্মটির উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।










