বিমানবন্দরে ভিড় কমানো এবং যাত্রীদের স্পর্শবিহীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে বায়োমেট্রিকস প্রযুক্তি গ্রহণ করা উড়োজাহাজ সংস্থার সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারলাইনস জোট স্টার অ্যালায়েন্স জানায়, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের অর্ধেকেরও বেশি সদস্য বায়োমেট্রিকস গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিমানবন্দরগুলোয় টাচপয়েন্টের সংখ্যা বাড়াতে যাচ্ছে স্টার অ্যালায়েন্স। ফেসিয়াল বায়োমেট্রিকসের মাধ্যমেই বোর্ডিং পাস নিতে পারবেন যাত্রীরা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ, মালামাল পরিবহন, বহির্গমন গেট ও লাউঞ্জে প্রসেসিং সময় কমানোর চেষ্টা করছে বলে জানায় জোটটি।

২০২৫ সালের মধ্যে বায়োমেট্রিকস প্রযুক্তি গ্রহণ করা উড়োজাহাজ সংস্থার সংখ্যা ১২-১৫টিতে নিয়ে যেতে চায় স্টার অ্যালায়েন্স। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান জোটটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ড্রেগার।

ড্রেগার রয়টার্সকে আরো বলেছেন, এই প্রথমবারের মতো জোট তার সদস্যদের জন্য ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো পরিষেবা এবং প্রকল্পগুলোর সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা দিয়েছে।

এয়ারলাইনস ছাড়াও চারটি ইউরোপীয় বিমানবন্দর যেগুলো তার বায়োমেট্রিকস প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করছে তারা অতিরিক্ত টাচপয়েন্ট যোগ করবে, সেই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে বলেও আশাবাদী স্টার অ্যালায়েন্স।

বিমান যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক না হলেও বায়োমেট্রিকস পরিষেবা প্রদানে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের আগে নির্ধারিত লেনে যাত্রীর পরিচয় যাচাই করার জন্য বেসরকারি খাতের আগ্রহ রয়েছে। ক্লিয়ার সিকিউরের মতো কোম্পানিগুলো পেইড এয়ারপোর্ট মেম্বারশিপের সাহায্যে যাত্রীদের ভ্রমণ আইডির পরিবর্তে তাদের বায়োমেট্রিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।

বৃহস্পতিবার মন্ট্রিয়লে জাতিসংঘের একটি বিমান চালনাবিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনে যখন বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে বায়োমেট্রিকসের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন স্টার অ্যালায়েন্সের এমন ঘোষণা সামনে এল।

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) রানওয়ে চিহ্নিত থেকে শুরু করে দুর্ঘটনার তদন্ত পর্যন্ত সবকিছুর নীতিমালা নির্ধারণ করে, যা সাধারণত ১৯৩টি সদস্য দেশ অনুসরণ করে। তবে ভ্রমণে বায়োমেট্রিকসের ব্যবহার বিভিন্ন দেশের গোপনীয়তার নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবের কারণে অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়, যা প্রযুক্তিটি চালু করা কঠিন করে তোলে।

আকাশ যোগাযোগ ও আইটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এসআইটিএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী তিন বছরে ৩৮ শতাংশ বিমানবন্দর সব চেকপয়েন্টে একটি করে ফেস-স্ক্যান উপযোগী বায়োমেট্রিক পয়েন্ট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। স্টার অ্যালায়েন্সের সদস্য ইউনাইটেড এয়ারলাইনস বলেছে যে তারা বিমানবন্দরজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে বায়োমেট্রিকস ব্যবহারের মাধ্যমে ভ্রমণ সহজ করার নীতিমালা অনুসরণ করছে।

ভ্রমণ সহজ করতে বায়োমেট্রিকসের অন্যান্য ব্যবহার সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। আইসিএওর ভ্রমণকারী শনাক্তকরণ প্রোগ্রামের কারিগরি কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান ডারমারকার জানান, আইসিএওর প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য রাষ্ট্র এখন ভ্রমণকারীদের ছবিসহ সুরক্ষিত চিপসংবলিত ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে, যা ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল।

স্টার অ্যালায়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ড্রেগার আশা করেন, যখন কমপক্ষে অর্ধেক যাত্রী বায়োমেট্রিকস ব্যবহার করবেন, তখন এর সুবিধাগুলো চোখের সামনে দেখা যাবে।