জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতে শুরু করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব দেশে স্যামসাংয়ের কার্যক্রমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যামসাংয়ের এ লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট উচ্চাভিলাষী। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিমিত প্রতিশ্রুতি এ লক্ষ্যমাত্রাকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্যামসাং মূলত দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান। কম্পিউটারের মেমোরি চিপস ও স্মার্টফোন উৎপাদনে এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি। বিশ্বের যে কয়টি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি জ্বালানি খরচ করে, তার মধ্যে অন্যতম স্যামসাং। এ কোম্পানিই এখন বায়ু বা সৌরবিদ্যুতের মতো শতভাগ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার শুরু করতে চায়। এজন্য আরই১০০ ক্যাম্পেইনেও যোগ দিয়েছে।
গতকাল কোম্পানির এ লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করে স্যামসাং। তাদের লক্ষ্য হলো প্রাথমিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে মোবাইল টেলিফোন, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সামগ্রী নির্মাণে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। এরপর ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে স্যামসাংয়ের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম হলো সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন।
নতুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ অর্থ কার্বন নিঃসরণ কমাতে, পানি সংরক্ষণে, দূষণ কমাতে ও বৈদ্যুতিক পণ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের কাজে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি স্যামসাং এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে যার মাধ্যমে কম বিদ্যুৎ খরচ হবে। সেটা ভোক্তাদের ব্যবহূত যেকোনো বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ক্ষেত্রে হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন হবে আরো বেশি সক্ষমতার চিপ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরবরাহ চেইন ও লজিস্টিক খাত থেকেও কার্বন নিঃসরণ কমাতে চায় স্যামসাং।
স্যামসাংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জং হি হ্যান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে স্যামসাং উদ্বিগ্ন। সে কারণে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে এমন টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হবে যার মাধ্যমে দিনশেষে পৃথিবীর উপকার হয়।
স্যামসাংয়ের এ পদক্ষেপ এরই মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বৈদ্যুতিক সামগ্রীর বাজারে এটি দারুণ প্রভাব ফেলবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কঠোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি, সেখানে স্যামসাংয়ের এ প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৃহত্তম এ কোম্পানি কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হয়েছে। সংস্থাটি প্রতিশ্রুতি দেয়ার ক্ষেত্রেও সমকক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে পিছিয়ে ছিল। স্যামসাংয়ের প্রধান চিপ ক্রেতা ২০১৬ সালে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যবসা ও উৎপাদন চেইনজুড়ে নিঃসরণ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।










