প্রায়ই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে যেন এমন সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি দুটি পদে অটোমেটেড ডিজিটাল টাইপিং সিস্টেম সফটওয়্যার ই-জয় ব্যবহার করেছে। এতে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ই-জয় সফটওয়্যারটি মূলত লোকাল নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত একটি টাইপিং সফটওয়্যার। এটি তৈরিতে রেস্ট্রিকটেড টাইপিং মেথড প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য প্রযুক্তির তুলনায় সফটওয়্যারটি অধিক কার্যকরী এবং হ্যাক হওয়ার সুযোগ নেই। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়ই এটি কার্যকর। সফটওয়্যারটি পরিচালনায় পাসওয়ার্ড প্রোটেকটেড অ্যাডমিন প্যানেলও রয়েছে।

সফটওয়্যারটিতে পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে যাবতীয় নির্দেশনাও দেয়া আছে। মূল পরীক্ষায় প্রবেশের আগে অংশগ্রহণকারীদের ১ মিনিটের অনুশীলন শেষ করতে হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও টাইমার চালুসহ নির্ধারিত সময় শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরীক্ষা শেষ হয়।

নিজস্ব এ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার অপারেটর পদে ৩২ জন এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে ১৪৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছে রাকাব।

সফটওয়্যারটির উদ্ভাবক ও নির্মাতা রাকাবের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবুল কালাম জানান, বিভাগের একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী আইটি কর্মকর্তার সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে সফটওয়্যারটির উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। দ্রুত সময়ে ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইলেকট্রনিক্যালি এ চ্যালেঞ্জ জয় করায় সফটওয়্যারটির নাম ই-জয় দেয়া হয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর আরো তিন ব্যাংকের দুটি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত হয়। সে সময় রাকাবের এ দুটি পদে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল। নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নিয়োগ কমিটির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। এ পরিপ্রেক্ষিতে টাইপিং সফটওয়্যার তৈরি করে নিজস্ব কম্পিউটার ল্যাবে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর অটোমেটেড ডিজিটাল টাইপিং সিস্টেম সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হয়। চূড়ান্তকরণের আগে কয়েক দফায় এর পরীক্ষা চলে।

গত ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাই করেন। সে সময় ব্যাংকের নিয়োগ উপকমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় এতে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ করেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে দক্ষদের বেছে নেয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাকাবের কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগের ডিজিএম ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব রণজিত কুমার সেন। তিনি বলেন, মূল পরীক্ষা শুরুর আগে প্রার্থীদের ১০ মিনিট পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ব্রিফিং করা হয়েছে। প্রার্থীরা অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছেন। ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে সুবিধা হয়েছে।

রাকাবের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এমসিকিউ পরীক্ষা পর আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করলাম। আমাদের সমৃদ্ধ ও দক্ষ আইসিটি কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিজস্ব সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছি। স্বয়ংক্রিয় এ পরীক্ষায় দ্রুত ফলও পাওয়া গেছে। আশা করছি, আগামীতেও আমাদের যাবতীয় নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পাদন করতে পারব।

রাকাবের পরীক্ষা চলাকালীন পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ম্যানেজার (ইন্টার্নশিপ) মাহবুব করিম।

পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি খুবই সীমিত। তবে রাকাবের পদ্ধতিটি একেবারেই ভিন্ন এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। লোকাল নেটওয়ার্কে থাকায় স্বচ্ছতার পাশাপাশি আমরা তাত্ক্ষণিক পরীক্ষার ফলও পেয়ে যাচ্ছি। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সফটওয়্যারটির ব্যাপক প্রসারে সম্মতিও জানান।