বিশ্বের অন্যতম সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস সম্প্রতি বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট অব র‍্যানসমওয়্যার ২০২৩’ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী গত বছরে এশিয়া প্যাসিফিক এবং জাপানে (এপিজে) র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের হার কিছুটা কমেছে।

সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান র‍্যানসামওয়্যারের শিকার হয়েছে যা আগের বছর ছিল ৭২ শতাংশ। সমীক্ষা করা ৭১ শতাংশ র‍্যানসমওয়্যারের সম্মুখীন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তথ্য বা ডাটা ডিক্রিপ্ট করার জন্য মুক্তিপণ দিয়েছে, যা গত বছরের ৫৫ শতাংশের হার থেকে সামান্য কম হলেও ২০২৩ সালের বৈশ্বিক গড় ৪৭ শতাংশের চেয়ে বেশি।

বিশ্বব্যাপী সমীক্ষায় উঠে আসে যে, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের ডাটা ডিক্রিপ্ট করার জন্য মুক্তিপণ প্রদান করে, তখন তাদের খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষায় ব্যাকআপ রাখতে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার খরচ হয়। সেখানে শুধু তথ্য পুনরুদ্ধারের খরচ ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এমনকি মুক্তিপণ পরিশোধ করে তথ্য পুনরুদ্ধার করতে সময়ও তুলনামূলক বেশি লাগে। 

৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান যারা ব্যাকআপ রেখেছিল, তারা এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের তথ্য ফিরে পায়। অন্যদিকে ৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান যারা মুক্তিপণ দিয়েছে তাদের আরো সময় প্রয়োজন হয়।

বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, এপিজে প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের মূল কারণগুলো হলো দুর্বল সিস্টেমে হামলা (৩৭ শতাংশের ক্ষেত্রে), এবং কম্প্রোমাইজড ক্রেডেনশিয়াল (২৮ শতাংশের ক্ষেত্রে)। হামলার এ দিকগুলো সফোসের ‘‌২০২৩ অ্যাকটিভ অ্যাডভারসেরি রিপোর্ট ফর বিজনেস লিডারস’ প্রতিবেদনের ইনসিডেন্ট রেসপন্স অংশে উঠে এসেছে। স্টেট অব র‍্যানসমওয়্যার ২০২৩ প্রতিবেদনে ৩ হাজারের বেশি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। এটি একটি ভেন্ডরভিত্তিক সমীক্ষা যার সময়কাল ছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস।