তিনি তখন লন্ডনে। বাসে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। এমন সময় তার মাথায় ‘পাকিস্তান’ নামটির ধারণা আসে। সেই সঙ্গে ইতিহাসে তার নামটিও যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়ে যায়। চৌধুরী রহমত আলী নামে তিনি ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯৩১ সাল। কেমব্রিজের ইমানুয়েল কলেজের আইন বিভাগে ভর্তি হন চৌধুরী রহমত আলী। তার পিতা তাকে ইংল্যান্ডে পড়তে যেতে অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে একটি শর্ত ছিল। তিনি কখনো নাচে অংশ নিতে পারবেন না। 

লন্ডনে থাকাকালীন চৌধুরী রহমত আলীর হাউজকিপার কাম সেক্রেটারি ছিলেন মিস ফ্রস্ট। ১৯৭১ সালের ২ জুন এক সাক্ষাৎকারে তিনি চৌধুরী রহমত আলী সম্পর্কে এ ধরনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। 

মিস ফ্রস্টের সঙ্গে চৌধুরী রহমত আলীর প্রথম দেখা হয় ১৯৩২ বা ১৯৩৩ সালে। চৌধুরী রহমত আলী তখন মিস ওয়াটসনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। আর মিস ওয়াটসনের কাছেই থাকার জন্য একটি ঘর খুঁজতে গিয়েছিলেন মিস ফ্রস্ট। দোরগোড়ায় চৌধুরী রহমত আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। সেই থেকে দুজনের আলাপ শুরু। 

মিস ফ্রস্টের মতে, চৌধুরী রহমত আলী ছিলেন একজন প্রকৃত চিন্তাশীল ও আদর্শবাদী মানুষ। তিনি রাত জেগে কাজ করতেন। বিকাল পর্যন্ত ঘুমাতেন। মিস ফ্রস্ট বলেন, ‘তিনি অনেকের সঙ্গে চিঠিপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন।’ উপমহাদেশে মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা ব্যক্ত করে তিনি তাদের কাছে লেখা পাঠাতেন। তারা এসব লেখা লিফলেট ও ব্রডশিট আকারে ছাপিয়ে বিলি করতেন। লিফলেটগুলোর অধিকাংশই ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠানো হতো। প্রয়োজন অনুসারে গণমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছেও লেখাগুলো পাঠাতেন। চৌধুরী রহমত আলী নিজ হাতে তার এসব রচনার খসড়া তৈরি করতেন। অনেক লেখা তিনি ১০, এমনকি ২০ বারও খসড়া করেছেন। সঠিক শব্দ নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন থাকতেন। এক্ষেত্রে তিনি রগেটের সমার্থক শব্দকোষের সাহায্য নিতেন। তিনি বিভিন্ন তথ্য, বিশেষ করে ঐতিহাসিক তথ্য যাচাই করতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে যেতন। এ সময় মিস ফ্রস্ট তাকে সাহায্য করতেন। তিনি প্রায়ই তাড়াহুড়া করে ডাকঘরে যেতেন চিঠি পাঠাতে বা গ্রহণ করতে। একবার তার পকেটে কোনো টাকা ছিল না। তিনি ডাকটিকিটের মাধ্যমে ট্যাক্সির ভাড়া চুকিয়েছিলেন। তার কয়েকটি চিঠি ‘ইংলিশ প্রেস’-এ ছাপা হয়েছিল। 

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গেও চৌধুরী রহমত আলীর যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে জিন্নাহ তেমন আগ্রহী ছিলেন না। মিস ফ্রস্টের বক্তব্য অনুসারে, ১৯৩৭ বা ১৯৩৮ সালের দিকে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে চৌধুরী রহমত আলীর মোহভঙ্গ হয়। 

১৯৪২ সালে চৌধুরী রহমত আলী পাকিস্তানে যান। মিস ফ্রস্টের ধারণা, সে সময় তিনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চৌধুরী রহমত আলীর মনে হয়েছিল, সে যাত্রায় কেউ একজন তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করেছিল। মিস ফ্রস্ট জানান, চৌধুরী রহমত আলী সবসময় ডাকাতি বা খুন হওয়ার ভয়ে ভীত থাকতেন। হয়তো এর যথাযথ অনেক কারণও ছিল। চিঠিপত্রে নাম, ঠিকানা ও হোটেলের সুনির্দিষ্ট বিবরণ উল্লেখ না করার ব্যাপারে তিনি সবসময় জোর দিতেন। 

হাউজকিপার কাম সেক্রেটারি হওয়ার সুবাদে চৌধুরী রহমত আলীকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন মিস ফ্রস্ট। তার পর্যবেক্ষণ অনুসারে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও গণহত্যার বিভীষিকা দেখে চৌধুরী রহমত আলী অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি জানতেন যে পাকিস্তান সৃষ্টিতে মুসলিমদের লড়াই করতে হবে। তথাপি এমন ধ্বংসযজ্ঞ তার কাছে অকল্পনীয় ছিল। দেশভাগের কারণে তিনি অনেক জমি হারিয়েছিলেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হয়ে যান। তখনো তিনি মিস ফ্রস্টের বেতন চালিয়ে গিয়েছিলেন। 

ব্যক্তিগত ঝগড়ার রেশ ধরে ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে মিস ফ্রস্টের সঙ্গে চৌধুরী রহমত আলীর সম্পর্কের ইতি ঘটে। সব পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ততদিনে তার হৃদরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে সে সময় তার পাশে ছিলেন ড. ইজ্জত আবু হিন্দিয়া নামে মিসরীয় এক বন্ধু। 

১৯৫১ সালে চৌধুরী রহমত আলী মৃত্যুবরণ করেন। ইমানুয়েল কলেজের অধ্যক্ষ এডওয়ার্ড ওয়েলবর্ন তার শেষকৃত্যের খরচ বহন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকার তাকে সে অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছিল।

লন্ডনে চৌধুরী রহমত আলীর আরেক ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন মিস ওয়াটসন। তার বাড়িতে চৌধুরী ভাড়া থাকতেন। তারা আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন। 

১৯৭০ সালের ২২ নভেম্বর দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চৌধুরী রহমত আলী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন মিস ওয়াটসন। সে সময় তার বয়স ছিল ৮৫ বছর। তিনি কখনো বিয়ে করেননি। 

চৌধুরী রহমত আলী ১৯৩২ বা ১৯৩৩ সালে প্রথম মিস ওয়াটসনের কাছে বাড়ি ভাড়া নিতে যান। তিনি এক রাত থাকার জন্য ঘর খুঁজছিলেন। মিস ওয়াটসন জানান, তিনি প্রথমে চৌধুরী রহমত আলীকে ঘড় ভাড়া দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চৌধুরী রহমত আলী তাকে রাজি করাতে পেরেছিলেন। কিন্তু এক রাতের কথা বলে ছয় মাস থেকে যান তিনি। তখন মিস ওয়াটসন তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তিনি আবার মিস ওয়াটসনকে বোঝান। ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি মিস ওয়াটসনের ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে ২ পাউন্ড ভাড়া দিতেন। ভাড়া ছিল আরো বেশি। কিন্তু তা দেয়ার সামর্থ্য তার ছিল না। মিস ওয়াটসনের মতে, চৌধুরী রহমত আলীর আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। কিন্তু তিনি কৃপণ ছিলেন না। এ কথা স্বীকার করেছেন মিস ওয়াটসন। আইন পরীক্ষায় পাস করার পর চৌধুরী রহমত আলী তাকে ১ পাউন্ড উপহার দিয়েছিলেন। একবার তিনি তার ল্যান্ডলেডিকে একটি কোট কিনে দিয়েছিলেন। 

সাক্ষাৎকারে মিস ওয়াটসন জানান, চৌধুরী রহমত আলী একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলেন। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। হামিদ নামে একজন প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। তখন তারা একত্রে নামাজ আদায় করতেন। তবে এ কথাও মিস ওয়াটসন জানিয়েছেন যে চৌধুরী রহমত আলী মোটেও সময়নিষ্ঠ ছিলেন না। তিনি প্রায়ই ডিনার পার্টির আয়োজন করতেন। তখন মিস ওয়াটসনকে রান্না করতে হতো। চৌধুরী রহমত আলী রান্না করা বিভিন্ন তরকারির সঙ্গে সবসময় বাটার টোস্ট খেতেন। মিস ওয়াটসন জানান, রহমত আলী রাতে একেবারেই ঘুমাতেন না। সকালে ঘুমাতেন। জাগতেন একেবারে সন্ধ্যায়। 

১৯৩৬ সালে মিস ওয়াটসনের ১৬ নম্বর মন্টেগু রোডের বাড়ি ছাড়েন চৌধুরী রহমত আলী। কিন্তু তার মেইলিং অ্যাড্রেস হিসেবে তিনি মিস ওয়াটসনের বাড়ির ঠিকানাই ব্যবহার করতেন। ১৯৪২ সালে তিনি ১৬ নম্বর মন্টেগু রোডের বাড়িতে আসেন। সেখানে তিনি কিছু পার্সেল রাখার অনুমতি নেন। অনুমতি দিয়ে মিস ওয়াটসন বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, নথিপত্র ও প্যাম্ফলেটের স্তূপ ঘরের ছাদ ছুঁয়েছে! 

চৌধুরী রহমত আলী প্রতি বছর মিস ওয়াটসনকে ক্রিসমাস বক্স পাঠাতেন। এমনকি মারা যাওয়ার আগের রাতেও তিনি অসুস্থ শরীরে তুষারপাত ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে মিস ওয়াটসনের পাওনা ১০ শিলিং পরিশোধ করতে গিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন চৌধুরী রহমত আলী। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন হওয়ার পর তিনি কোনো মর্যাদা পাননি। এ কারণে তিনি নিদারুণ মানসিক পীড়নে ছিলেন বলে জানান মিস ওয়াটসন। 

চৌধুরী রহমত আলীর মৃত্যুর পর ড. ফসিয়াহ নামে একজন তার সম্পর্কে জানতে মন্টেগু রোডের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি চৌধুরী রহমত আলীর ঘরে তিন সপ্তাহ থাকতে চেয়েছিলেন। মিস ফ্রস্টের সঙ্গেও জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে চেয়েছিলেন ড. ফসিয়াহ। মিস ফ্রস্ট তখন ইমানুয়েল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ এডওয়ার্ড ওয়েলবর্নের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি তাকে ড. ফসিয়াহর সঙ্গে দেখা করতে বারণ করেন এবং এ নির্দেশ মিস ওয়াটসনকেও জানিয়ে দিতে বলেন। মিস ওয়াটসনও তার সঙ্গে চৌধুরী রহমত আলী প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সামনে রেখে ইংল্যান্ডে চৌধুরী রহমত আলীর কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যায় খাজা সালাহউদ্দিনের স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখায়। ১৯৬৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ‘দ্য লাইট অ্যান্ড ইসলামিক রিভিউ’ জার্নালে এটি প্রকাশ হয়েছিল। খাজা সালাহউদ্দিন ছিলেন ইংল্যান্ডে ‘ওকিং মুসলিম মিশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা খাজা কামালউদ্দিনের পুত্র। তার মতে, ‘ওকিং মুসলিম মিশন’-এর সাপ্তাহিক বৈঠক থেকেই চৌধুরী রহমত আলী উদ্দীপনা পেয়েছিলেন। 

‘ওকিং মুসলিম মিশন’-এর সাপ্তাহিক বৈঠক হতো রোববার। খাজা সালাহউদ্দিন জানান, ১৯৩২ সালের জুন বা জুলাইয়ের এক রোববার চৌধুরী রহমত আলী প্রথম ‘ওকিং মুসলিম মিশন’-এ যান। মাওলানা আবদুল মজিদের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। মিশন কর্তৃক পরিচালিত মসজিদের ইমাম ছিলেন মাওলানা আবদুল মজিদ।

মধ্যাহ্নভোজের আগ পর্যন্ত আলোচনার একমাত্র বিষয় ছিল আল্লামা ইকবাল। চৌধুরী রহমত আলীর সঙ্গে আল্লামা ইকবালের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। একজন প্রকৃত শিষ্য হিসেবে এ মহান চিন্তকের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল। উপমহাদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা আল্লামা ইকবাল ব্যক্ত করেছিলেন, চৌধুরী রহমত আলী বারবার সেটির ওপরই বেশ জোর দিচ্ছিলেন। তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘ভারতীয় মুসলমানদের ভবিষ্যৎ কেবল আল্লামা ইকবালের এ ইচ্ছা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুন্দর হতে পারে।’

আল্লামা ইকবালের এ স্বপ্ন তখনো ভারতবর্ষের মুসলিম রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারেনি। এটি তখনো ঘরোয়া আলোচনার একটি বিষয় হয়েই ছিল। আল্লামা ইকবালের স্বপ্ন পূরণে সর্বপ্রথম কার্যকরভাবে এগিয়ে এসেছিলেন চৌধুরী রহমত আলী। সাংগঠনিক তৎপরতার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এর রূপরেখা তৈরি হয়েছিল ‘ওকিং মুসলিম মিশন’-এর সাপ্তাহিক বৈঠকে। খাজা সালাহউদ্দিনের ভাষ্য অনুসারে, আলোচনার এক পর্যায়ে চৌধুরী রহমত আলী বলেন, ‘কিছু একটা করতেই হবে।’ তিনি আরো জানিয়েছিলেন যে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে মিশনের কর্মীদের সহায়তা প্রয়োজন। খাজা সালাহউদ্দিন তখন তাকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরের রোববার আরেকটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আল্লামা ইকবালের স্বপ্ন পূরণে একজন প্রত্যয়ী ও নিবেদিত মানুষ হিসেবে চৌধুরী রহমত আলী তার বাসভবনে ফিরে যান। 

পরের রোববার ‘ওকিং মুসলিম মিশন’ পরিচালিত মসজিদে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চৌধুরী রহমত আলী, খাজা সালাহউদ্দিন, মাওলানা আবদুল মজিদ, শায়খ মোহাম্মদ জামিল, খান মোহাম্মদ আসলাম খটক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়—

১. চৌধুরী রহমত আলী কেমব্রিজ থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন শুরু করবেন।

২. এ আন্দোলনের প্রচারণার জন্য প্রতি মাসে তাকে একটি প্যাম্ফলেট রচনা করতে হবে।

৩. খাজা সালাহউদ্দিন চৌধুরী রহমত আলীকে ইসলামিক রিভিউর (‘ওকিং মুসলিম মিশন’ কর্তৃক প্রকাশিত জার্নাল) গ্রাহকদের ঠিকানা দেবেন। এসব গ্রাহকের অধিকাংশ ছিলেন ভারতীয় মুসলিম বুদ্ধিজীবী। চৌধুরী রহমত আলী ডাকযোগে তাদের কাছে এসব প্যাম্ফলেট পাঠাবেন। এর বাইরেও তিনি যাদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন, তাদের কাছেও প্যাম্ফলেট পাঠাবেন। 

৪. ‘ওকিং মুসলিম ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক আয়োজিত দুই ঈদের উৎসব এবং ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র অনুষ্ঠানে অতিথিদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রচুর পরিমাণ প্যাম্ফলেট প্রস্তুত রাখতে হবে।

৫. ‘ওকিং মুসলিম ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ইংল্যান্ডে বসবাসরত মুসলিমদের ঠিকানা খাজা সালাহউদ্দিন চৌধুরী রহমত আলীকে দেবেন। 

দ্বিতীয় বৈঠকেও আলোচনা সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। পরের রোববার লন্ডনের শহরতলি সারবিটনের ৪ নম্বর হুক রোডে এ-বিষয়ক তৃতীয় ও সর্বশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় আন্দোলনের পরিপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চৌধুরী রহমত আলীকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ভার দেয়া হয়। ‘পাকিস্তান’ নামটিও এ বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়। 

অর্পিত দায়িত্ব চৌধুরী রহমত আলী নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনের কার্যক্রম সর্বপ্রথম তার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর সেখানে ঠাঁই হয়নি তার। ইতিহাস এমনই ট্র্যাজিক!

নিজাম আশ শামস: লেখক ও অনুবাদক