তাকিলা, কেনে যে ডাকিলা
ঘোর ফ্রিদামুখর স্বৈরবেলায়!
নেবে কী নেবে না—অস্মিতা,
আনত হূদে বিবাহ ঢল
চুপচাপ বন্যা রাখিয়া ধায়—
যেন বাজিছে এক আন্ধাধুন,
উদয়াস্ত ঢেউ স্তন্যপাড়ায়।
তুরঙ্গপিঠে এলায়িত
রাজা এক, ধনু যার শূরাকুঞ্জ,
ফিরিছে পাণি চেয়ে—অস্মিতা,
কোনো পৃথিবীই দেখে পায় না
তারে জলেশ্বর—পৃথিবীর ভাই!
গানের ওপারে আছে আরো
গান, সুইসাইডাল সুর—ওগো ত্রস্ত
লাউডুগি, তুমিও কেন শুয়ে
তাড়াচ্ছ বিহান, বাঁশের মাচা
থেকে পালিয়ে যাচ্ছে ছায়া;
তার নিকট খুলে বলো, তোমার
সমূহ ভান ও তামাশার গল্পে
লাল ঝুঁটির মোরগ মরে যাচ্ছে—
চিকেন সিনড্রোমে তাহার পেশির
দিকে চেয়ে আছে মা ও শেয়াল।
শেড দেখে আলোর সম্ভাবনা
ও আত্মহত্যা মেপে ফেলা
থলের বেড়ালের কণ্ঠে শিউলি
ঝরার বেদনা লেপ্টে আছে।
আপনা খেয়ালে ঘুরে গেছে
যে ঘ্রাণ হাওয়াকে থাপ্পর মেরে,
বাড়ির খেয়াল তার ইউটোপিয়া—
জোত্স্না আঁকার পর একেশ্বরের
মতো সত্য এক শীতের মাফলার
গোছায় তার ছেলে হবার ঋতু...
চোখের সোজা চোখ তাকাচ্ছে না।
চুতিয়াপনা থেকে দূরে
শিলাবৃষ্টির সুর কুড়িয়ে লাশ
আজি মরিতে বাসে ভালো।
মেঘের মানা না শুনে ঝরে
যাচ্ছে পাখিদের সান্ধ্যযাপন,
ক্রমশ নাছোড় রোদের পালক
এসে হলুদাভ করে গেছে
দাতইপাতার ঘর, পিঁপড়াসংসার—
প্রতিটি গাছের নিচেই ছায়া
পরে জিরিয়ে নিচ্ছে আলো,
দিনমান মৃৎ ও আঁশটে গন্ধে
শুকিয়ে গেছে অন্ধ কোরক।
অপ্টিক নার্ভের কশ থেকে যে
লাগিয়েছে ফুল ফ্যাসিঠাপে—
তার মুখে অনন্ত মদিরার হাঁক!
পুঁটির হূিপণ্ডে বকগুলি খুব
ওত পেতে আছে, কার্তিক এলে
বিলে শুকাবে অনাহারকাল।
নিমগ্ন এই ধ্যান আধাভাঙা
ঘুমের ভিতরে তেড়ে আসা
এক অতিকায় ষাঁড়, মুগ্ধ ঘাস সে
পুঁতে দিয়েছে গুঁতার স্বপ্নে—
অথচ অন্ধ বাউলের কণ্ঠে
তিরতির কাঁপছে গ্রাম, পিঠার মৌসুম।
কারো একার স্বর ধোঁয়া ঠেলে
প্রতিবেশীর কান অব্দি তুলছে
সান্ধ্যতরঙ্গ; ব্রেইনে ঝিঁঝিঁ
চলছে ডেকে ওই চূর্ণপ্রেমে—
হায়! তখনো মূক শিকারি এক
দক্ষিণাদেবীকে দিচ্ছে মরণ!
জলেশ্বর মহান, মুন্সীগঞ্জে
যাননি, দেখেননি সিরাজদিখান।
পুকুরঘাটে গাছ, নৌকাবাঁধা—
ছায়ায় বসিয়া তকবির শা’র
শালীদ্বয় তেলে ভেজাচ্ছে কেশ।
অনতিদূরে বউয়ের তেজে
সোয়ামির গতর শোষে বালকি;
রাত্তিরে সকল সূর্যকণা
কৃষকে ঢালে কিষাণিতে—
মাছেরা ঘাটে আসে ভোরে
গোপন গোসলে বধূ ফেলে
যায় যামিনীসুখ ও বীর্যাহার।
মাছেদের ক্ষমা হতে সূর্য
পালিয়ে ক্ষেতে ক্ষেতে দীর্ঘ
খেলে পলান্তিক, রোদছায়াদৌড়।
মধুপূর্ণিমা রাত বাউল চাঁদ
নহীর শা’রূপে বটতলে
গায়, গান শুনিয়া ডাকুসাধু
বেবাক মূর্ছা যায়, মূর্ছা যায়!
ওই গান শুনিতে পৃথিবীর ভাই,
আপনি কখনো সিরাজদিখান
গিয়া নৌকাতে, ইছামতী
পাড়ে টেকেরহাট নামেন নাই।
কসমিক প্লান্টে স্বাতীশ্বেরীর
রুহ্ ইছামতী, পদ্মহেম ধাম।
ব্লাউজঝরা এক পাতার নিকটে
দূর কার্নিশের ডাক মিলিয়ে প্রায়
খোলা পিঠ নারী, হলুদ বনে
শুকাতে দেয়া আত্মার ছবি
গিয়াছে দেখা আঁচল তলে—
সাইকিডেলিক ফ্রেম ধরিতে
চেয়েছে কোমর, বাক্যে ধরে।
ঐশ্বরিক পেরেক গাঁথছে সুতার—
নক্ষত্রসম আলোর উৎস
এক ফোঁটা জলের গর্ভে ঢুকে
তাকিয়ে আছে চিতার চোখে,
নটিক্যাল মাপে স্বাতীচিত্রে
ঝরা ব্লাউজে বাউল হারাচ্ছে
ইউলুক পিঠের সুবর্ণ দিন।
‘হরিণাবৈরী আপনা মাংসে’
মরিল কবি ওই মাংসলোভে—
আহা বেদের মে’, বীণ বাজিলে
নিশিথে না গো যাইও আড়া,
না শুনিও শিস মতলব ডাক—
ফকিরা বাজার গিয়া ভোরে
নিয়ো শুনে কার নাম উড়িছে
হাওয়ায়, লিকারে দুধ মিশিছে
কার নামে রাতভর—তারও পরে
ওগো হরিণা, তুমি জোত্স্নার
সাথে পারবা না কুমুদকুঞ্জে...
শীতকালে লোকজন সমুদ্রে যায়
বানায়ে বালির ঘর মিছা দাম্পত্য
হোটেলে ফিরা হাছা হাছা লাগায়।
পান করে সন্তু, দারুতৃষ্ণা
ফ্রাই ফিশের লগে কাঁকড়া চিবায়।
বিরল মহিলা, ঝিঁঝিঁ বাজার
দেখিছে বাজায়ে জাগতিক লাল—
তাকিলাসেবন গেলে জমে
সান হোসে গোল্ডের প্রান্তিক ফোক
দেখা যায় আরবের লালশিরাজে—
মৃত্যুরেখায় হেঁটে সিনেমার গীত
শোনে জলেশ্বর, পৃথিবীর ভাই।






