প্রেমের টানে নিজ দেশের নাগরিকত্ব বিসর্জন দিয়ে মনে-প্রাণে সিকিমেরই একজন হতে চেয়েছিলেন তিনি। রূপকথার মতো রাজপুত্রের দেখা পেয়ে তার গলায় ভালোবাসার মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন।

শৈশবেই মা-বাবা থেকে বিচ্যুত হোপ কুক সিকিমে রূপকথার জীবন বেছে নিলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে রাজপ্রাসাদ অবরোধ ও দখল করে সিকিম নামের পুরো দেশটিকেই ভারত নিজের করে নেয়। সিকিমের স্বাধীন অস্তিত্ব লোপ পেয়ে তা পরিণত হয় ভারতের ২২তম প্রদেশে।

এর আগে ভারত সিকিম অধিকার করে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলে হোপ কুককেই আক্রমণের মূল লক্ষ্য করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রচারণায় বলা হয়, তিনি সিআইএর এজেন্ট, তিনি রাজাকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি মার্কিন স্বার্থে কাজ করেন...।

রাজ্যহারা ও গৃহহারা হয়ে নিজের দুই সন্তান ও রাজার প্রথম স্ত্রীর গর্ভের এক সন্তান নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দেন হোপ কুক এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় প্রায় অজ্ঞাত অবস্থায় নিজ জন্মস্থানেই অবৈধভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।

তার মতো আরেক মার্কিন কন্যা গ্রেস কেলিও রানী হয়েছিলেন— মোনাকোর রানী। কিন্তু তাকে সিকিমের রানী হোপের মতো দেশ ছাড়তে হয়নি। তার পরও হোপকে বলা হয় ‘দ্য হিমালয়ান গ্রেস কেলি’।