১৮৮১ ইরাকি প্রত্নতাত্ত্বিক হরমুজদ রাসাম এ বিস্ময়কর আবিষ্কার করে বসেন। আড়াই হাজার বছর পুরনো এক কাদামাটির ফলকের ছোট একটা অংশ তিনি খুঁজে পান প্রাচীন ব্যাবিলনীয় শহর সিপ্পারে। সেই প্রাচীন শহরের বর্তমান নাম তেল আবু হাব্বাহ। শহরটির অবস্থান আধুনিক বাগদাদ শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকণ্ঠে। ফলকটি ছিল ১৮ মাসের খননে রাসামের উদ্ধার করা ৭০ হাজার ফলকের একটি। এগুলো সবই জাহাজে করে সাগর পাড়ি দিয়ে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ঠাঁই নিচ্ছিল।
রাসামের এ খননের প্রেরণা ছিল একদল ব্রিটিশ অ্যাসিরিওলজিস্ট, যারা কিউনিফর্ম লিপির মর্মোদ্ধার করতে হতোদ্যম হচ্ছিলেন। এই অ্যাসিরিওলজিস্টরা এমন একটি ফলক খুঁজছিলেন, যেটিতে তারা বাইবেলে বর্ণিত মহাপ্লাবনের ঐতিহাসিক বিবরণ খুঁজে পাবেন। শুরুতে খণ্ডাংশ বলে ফলকের অংশটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আর রাসামও কিউনিফর্ম পড়তে পারতেন না। এরপর রাসামের উদ্ধার করা ফলক সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে উনিশ শতকের শেষ ভাগে। কারণ তখন গবেষকরা সফলভাবে কিউনিফর্মের পাঠোদ্ধার শিখে গেছেন। বর্তমান সেই ফলকখণ্ডটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে এবং এর নাম ‘দ্য ব্যাবিলনিয়ান ম্যাপ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। এটিই এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ব মানচিত্র।
‘দ্য ব্যাবিলনিয়ান ম্যাপ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এখনো মানুষের জানা সবচেয়ে প্রাচীন কোনো উপায়, বস্তু, যার মধ্যে পাখির চোখে পুরো দুনিয়াকে দেখা হয়েছে। মূলত এ মানচিত্রে ফুটে উঠেছিল তত্কালীন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য ও তাদের কসমোলজি। ব্যাবিলনীয় সীমান্তের বাইরে অজানা দুনিয়াকে চিত্রিত করা হয়েছিল জাদুময়, অজানা অঞ্চল হিসেবে। সেই প্রাচীন আমলে স্বল্প দূরত্বে ভ্রমণও কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই ১২ – ৮ সেন্টিমিটার মাপের একটি কাদার ফলকে দুনিয়ার চেহারা ফুটিয়ে তোলাটা অবাক করার মতো ঘটনা, জাদুময় বললেও কম হয় না! ফলকটিতে বলা হয়েছিল, এটাই দুনিয়া এবং সেই দুনিয়াটি হলো ব্যাবিলন।
এটা সত্য যে ব্যাবিলনের সেই মানচিত্রে পুরো দুনিয়াকে উপস্থাপন করার চেষ্টা ছিল, কিন্তু এটাই মানচিত্র তৈরি করার প্রথম মানবপ্রচেষ্টা নয়। প্রাগৈতিহাসিক অনেক চিত্রে দেখা গেছে, পরিকল্পিত কোনো ল্যান্ডস্কেপ খোদিত হয়ে আছে পাথর কিংবা কাদায় এবং সেগুলো ব্যাবিলনের সেই মানচিত্রটির অনেক আগেই খোদিত। এসব খোদাইয়ের বয়স ২৫ হাজার বছরের বেশি। মানচিত্রের প্রথমিক এসব নিদর্শন আঁকা হয়েছিল প্যালিওলিথিক যুগে, সময়টা ৩০ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ।
মানচিত্র তৈরি করাটা মানুষের মৌলিক চাহিদা, প্রবৃত্তি। একবার যদি এভাবে চিন্তা করা যায় যে মানচিত্র না থাকলে আমাদের কী হতো? এক বাক্যে বলা যায়, আমরা হারিয়ে যেতাম। তবে মানচিত্র শুধু আমাদের হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকেই বাঁচায় না, বরং আরো অনেক কিছু সরবরাহ করে। শিশু বয়স থেকেই মানচিত্রের মাধ্যমে আমরা স্থানিক তথ্যগুলোকে আত্মস্থ করে চারপাশের ভৌত দুনিয়া সম্পর্কে নিজেদের ধারণা গড়ে তুলি। মনস্তত্ত্ববিদরা একে বলেন ‘কগনিটিভ ম্যাপিং’, এটা একটা মানসিক ডিভাইস, যার মাধ্যমে মানুষ এই বিশাল, বিস্তৃত দুনিয়ায় নিজের অবস্থান খুঁজে নেয়। তাই খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই মানুষ মানচিত্রের অভাব অনুভব করে এবং মানচিত্র তৈরিতে প্রবৃত্ত হয়। এ কেবল মানুষের বৈশিষ্ট্যই নয়, প্রাণীরাও মানচিত্র তৈরি করে। যেমন কুকুর বা নেকড়ে গন্ধ দিয়ে এলাকা নির্দিষ্ট করে। মৌমাছি মধুর উৎস নির্ধারণ করে বিশেষ ধরনের নাচ দিয়ে। তবে প্রাণীদের এ কাজগুলোকে বলা যায় ম্যাপিং বা মানচিত্র করা, কিন্তু মানুষ মানচিত্র করে না, বরং মানচিত্র তৈরি করে। অন্তত ৪০ হাজার বছর আগে মানুষ আঁকার মাধ্যমে যোগাযোগ পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেছিল। তখন মানুষ তার স্থানিক অবস্থানের তথ্যকে স্থায়ী ও অনুলিপিযোগ্য রূপে সংরক্ষণ করতে পারল।
মানচিত্র আসলে কী? ইংরেজি ম্যাপ শব্দটি অনেকগুলো আধুনিক ইউরোপীয় ভাষা যেমন—স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, পোলিশ ভাষায় ব্যবহূত হয়। ম্যাপ শব্দটি এসেছে লাতিন টার্ম ম্যাপ্পা থেকে, যার অর্থ টেবিলক্লথ অথবা ন্যাপকিন। ম্যাপের ফরাসি শব্দ carte উদ্ভব হয়েছে একটি ভিন্ন লাতিন শব্দ থেকে—carta। ম্যাপের জন্য ইতালীয় ও রুশ শব্দ যথাক্রমে carta and kartaও এসেছে এই একই লাতিন শব্দ থেকে।
ম্যাপ শব্দটি ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করে ষোড়শ শতাব্দীতে। সে সময় থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত শব্দটির সংজ্ঞা হিসেবে অন্তত ৩০০ ধারণাকে প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানকালে একটি সংজ্ঞাকে পণ্ডিতরা সাধারণভাবে গ্রহণ করেছেন, যা প্রকাশিত হয়েছিল কয়েক খণ্ডের হিস্ট্রি অব কার্টোগ্রাফি’তে, ১৯৮৭ সালে। গ্রন্থটির সম্পাদক ছিলেন জেবি হার্লে ও ডেভিড উডওয়ার্ড। সম্পাদকদ্বয় মানচিত্রের যে সংজ্ঞা তুলে ধরেন তা এ রকম—
Maps are graphic representations that facilitate a spatial understanding of things, concepts, conditions, processes, or events in the human world.
লুইস ক্যারলের সিলভি অ্যান্ড ব্রুনো কনক্লুডেড (১৮৯৩)-এর একটি চরিত্র মে হার ঘোষণা করেন, ‘আমরা দেশের একটা মানচিত্র তৈরি করেছি, যা মাইল টু মাইল স্কেলে তৈরি!’ মানচিত্রটি ব্যবহার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মে হার বলেন, ‘মানচিত্রটা কখনো খুলে দেখা হয়নি।’ এবং ‘কৃষকরা মানচিত্রটি খুলতে বাধা দিয়েছিল। তারা বলেছে, এটা খুললে পুরো দেশ ঢেকে যাবে এবং সূর্যের আলো আর পৌঁছবে না! তাই এখন আমরা পুরো দেশকেই এর মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করি। এবং আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি যে পদ্ধতিটা মানচিত্রের মতোই কাজে দিচ্ছে।’ বোর্হেস যেন এ গল্পকে আরো এগিয়ে নিয়েছিলেন। অন রিগোর ইন সায়েন্স (১৯৪৬) গল্পে বোর্হেস এক পৌরাণিক সাম্রাজ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে মানচিত্র তৈরির দক্ষতা এমন এক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে কলেজ অব কার্টোগ্রাফার সাম্রাজ্যের সমান আয়তনের এক মানচিত্র তৈরি করে। সবকিছু বিন্দু বিন্দু ধরে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তী প্রজন্ম আর মানচিত্র নিয়ে এত আগ্রহী ছিল না। তারা বুঝল, এই সুবিশাল মানচিত্র কোনো কাজের নয়। অনাদরে তারা মানচিত্রটি পরিত্যাগ করল। সূর্যের তাপ আর শীতের বিষণ্নতা সঙ্গী হলো সেই মানচিত্রের। পশ্চিম দিকের মরুভূমিতে মানচিত্রের কিছু টুকরো অবশিষ্ট ছিল, সেগুলোয় বাসা বেঁধেছিল পশু-পাখি আর ভিখারিরা। এর বাইরে পুরো দেশে ভূগোলবিদ্যার আর কোনো চিহ্ন রইল না।
মানচিত্র আঁকিয়েদের নিরন্তর সংকট ও সম্ভাব্য গর্ব দুটোই বোর্হেস ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। বিশ্বের একটা সংক্ষিপ্ত মানচিত্র তৈরি করতে অবশ্যই বিভিন্ন কর্তন ও বাছাই করতে হয়। তাহলে ১: ১ অনুপাতে যদি মানচিত্র আঁকার স্বপ্ন অসম্ভব হয়, তাহলে উপরের পরিণতি ভোগ না করতে চাইলে মানচিত্রের অনুপাত কেমন হওয়া উচিত? অনেক বিখ্যাত বিশ্ব মানচিত্র বিভিন্ন উত্তর নিয়ে হাজির হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মানচিত্র আঁকার কোনো আদর্শ অনুপাত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞান: টলেমির জিওগ্রাফি, ১৫০
আলেকজান্ডার ৩৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্দ্রিয়া শহর প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর পর এ শহর টলেমাইক বংশীয় শাসনের রাজধানী হয়ে ওঠে। এই শাসন চলেছিল ৩০০ বছরের বেশি সময়। এর মাধ্যমে গ্রিক চিন্তা, জ্ঞান-বিজ্ঞান মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। টলেমিরা ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে। পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের পাশাপাশি নানা প্রান্তের জ্ঞানীরা এখানে জ্ঞানচর্চায় রত হয়েছিলেন। এটা ছিল গণিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং এখানেই আধুনিক মানচিত্রাঙ্কনের সূচনা হয়েছিল। ১৫০ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লডিয়াস টলেমিয়াস ‘গাইড টু জিওগ্রাফি’ নামে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন।
আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগারের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে টলেমি এ রচনা তৈরি করেন। দাবি করা হয়, জানা দুনিয়াকে তিনি তার এ বইয়ে তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তী দুই হাজার বছর টলেমির এ রচনাই দুনিয়ায় মানচিত্রাঙ্কনকে সংজ্ঞায়িত করেছে। প্যাপিরাসের পাতায় লেখা আটটি বিভাগ বা বইটির নাম জিওগ্রাফি। এ বইয়ে লেখক পৃথিবীর আকার, আকৃতি ও প্রশস্ততা নিয়ে গ্রিকদের এক হাজার বছরের চিন্তাকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
ভূগোলবিদ হিসেবে টলেমি তার কাজের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন এভাবে—জানা দুনিয়াকে একক ও ধারাবাহিক অস্তিত্ব হিসেবে দেখানো, এর প্রকৃতি কেমন, এটি কীভাবে অবস্থিত।...এসবের মধ্যে আছে উপসাগর, বড় শহর, বিখ্যাত মানুষ, নদী ও উল্লেখযোগ্য সবকিছু। মানচিত্র কীভাবে আঁকতে হবে, তার পদ্ধতি নিয়েও টলেমির কথা আছে—প্রথম কাজ হলো পৃথিবীর আকার, আকৃতি ও আশপাশের প্রেক্ষিতে এর অবস্থান অনুসন্ধান করা। ফলে এর জানা অংশটিকে আলোচনা করা সহজ হবে।
জিওগ্রাফি গ্রন্থে টলেমি ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার আট হাজারের বেশি স্থানের অবস্থানের বিবরণ, ভূগোলে জ্যোতির্বিদ্যার প্রভাব, পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির বিশদ গাণিতিক নির্দেশনাসহ আরো অনেক সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ আছে। টলেমির আগে আর কোনো গ্রন্থে পৃথিবী ও তাকে বর্ণনা করার এত বিশদ বিবরণী পাওয়া যায় না।
টলেমির জিওগ্রাফি অনেক বিবেচনায় একটা প্যারাডক্স। মানচিত্রাঙ্কনের ইতিহাসে কিংবা কাজে এটিই সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্রন্থ, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বইটিতে কোনো আঁকা মানচিত্র আদৌ ছিল কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিনিময়: আল-ইদ্রিসির মানচিত্র, ১১৫৪
আল-ইদ্রিসি (১১০০-১১৬৫) ছিলেন একজন আরব মুসলিম ভূগোলবিদ, মানচিত্রাঙ্কনবিদ ও মিসর বিশেষজ্ঞ, যিনি সিসিলির পালের্মোতে বসবাস করতেন রাজা দ্বিতীয় রজারের শাসনামলে। সিসিলির রাজা দ্বিতীয় রজার মৃত্যুবরণ করেন ১১৫৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি। রজারের মৃত্যুর সপ্তাহখানেক আগে আল-ইদ্রিসি ভূগোলবিষয়ক একটি বিস্তৃত কাজ সম্পন্ন করেন। এজন্য তিনি দীর্ঘ এক দশক কাজ করেছিলেন। ১১৪০-এর দশকে রাজা রজার তাকে এ কাজে নিযুক্ত করেন। এ বইতে আল-ইদ্রিসি পরিচিত দুনিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করেছিলেন, সঙ্গে ছিল পৃথিবীর বেশকিছু অঞ্চলের মানচিত্র এবং একটি ছোট আকারের, কিন্তু খুব সুন্দরভাবে অলংকরণ করা বিশ্ব মানচিত্র।
বইটি রচিত হয়েছিল আরবি ভাষায়। মানচিত্র তৈরি ও তার নির্মাতাকে নিয়ে রজারের মতো আগ্রহ খুব কম রাজাই দেখিয়েছেন। মানচিত্রটি ছিল রজারের সাংস্কৃতিক ও রাজকীয় উচ্চাভিলাষের একটি স্মারক। আল-ইদ্রিসির বইটি রজারের কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে যায়। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকের মৃত্যুতে বইয়ের স্রষ্টা এবং খোদ বইটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে। টলেমির জিওগ্রাফির পর মানচিত্র, ভূগোল বিষয়ে এটিই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। আল-ইদ্রিসির বই ও মানচিত্রে গ্রিক, খ্রিস্টান ও মুসলিম ঐতিহ্যের বিজ্ঞান, ভূগোল ও পর্যটনের সংমিশ্রণ ঘটেছিল এবং লক্ষ্য ছিল পৃথিবী সম্পর্কে বহুত্ববাদী ধারণা তৈরি করা, যার প্রেক্ষিত ছিল সাংস্কৃতিক ধারণা ও বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসের বিনিময়। আল-ইদ্রিসির এ মানচিত্রকে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যকার সম্পর্কের অধ্যয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অনুসরণ করা যায়। উভয়ই তখন আন্তরিক মন নিয়ে একে অন্যের সঙ্গে শিক্ষা ও ধারণার আদান-প্রদান করতেন। তবে দ্বাদশ শতকে নরম্যান সিসিলিতে দ্বিতীয় রজারের এমন উদ্যোগের পেছনে কৌশলগত কারণও ছিল।
টলেমির মতো আল-ইদ্রিসিও তার বিশ্ব মানচিত্রটি তৈরি করেছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ হিসেবে। রজারের মতো উচ্চাভিলাষী রাজার সমর্থনও ছিল তার কাজে। আল-ইদ্রিসির মূল আগ্রহ ছিল আঞ্চলিক মানচিত্র তৈরিতে, তিনি তার তৈরি করা ৭০টি স্থানীয় মানচিত্রকে যুক্ত করে একটি বিশ্ব মানচিত্র তৈরিতে আগ্রহী ছিলেন না। কারণ সে রকম কোনো মানচিত্র তৈরি হওয়া মাত্র বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাস থেকে এর সৃষ্টি নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হবে। দুনিয়ার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যের ধারণাও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অনেক খ্রিস্টান ও মুসলিম দরবারে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ত্রয়োদশ শতকের মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় পক্ষই আল-ইদ্রিসির মানচিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল, কারণ এবার তারা উভয়ই নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে বিশ্ব মানচিত্র তৈরিতে মনোনিবেশ করেছিল। আল-ইদ্রিসির ভৌগোলিক জ্ঞানের মাহাত্ম্য তার উত্তরসূরিরা আমলে নেননি। তার মানচিত্রে গুরুত্বের চেয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
বিশ্বাস : হেয়ারফোর্ড ম্যাপ্পামুন্ডি , ১৩০০
ম্যাপ্পামুন্ডি টার্মটি এসেছে লাতিন ম্যাপ্পা—টেবিলক্লথ বা ন্যাপকিন এবং মুন্ডাস—পৃথিবী থেকে। এ টার্মটির উদ্ভব অষ্টম শতকের শেষভাগে লাতিনভাষী পশ্চিমে। এর মাধ্যমে সবসময় কেবল বিশ্বমানচিত্রকে বোঝানো হতো না, বরং যেকোনো ভৌগোলিক বিবরণীকেই ম্যাপ্পামুন্ডি বলা হতো। সে আমলের প্রায় ১ হাজার ১০০ ম্যাপ্পামুন্ডি এখনো টিকে আছে, এদের মধ্যে হেয়ারফোর্ড ম্যাপ্পামুন্ডি কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য। মানচিত্রবিদ্যার ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বমানচিত্র। তৈরির আটশ বছর পরও এটি অক্ষতভাবে টিকে আছে। ত্রয়োদশ শতকের একজন খ্রিস্টানের চোখে দুনিয়াটা কেমন দেখাত, তা এই ম্যাপ্পামুন্ডি থেকে জানা যায়। পুরো মানচিত্রে ফুটে আছে মধ্যযুগের খ্রিস্টান দুনিয়ার ধর্মতত্ত্ব, কসমোলজি, দর্শন, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, এথনোগ্রাফিক বিশ্বাস। এটা মধ্যযুগের টিকে থাকা মানচিত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ, কিন্তু তার পরও মানচিত্রটি কুহেলিকায় ঘেরা। কারণ আমরা আজও জানি না মানচিত্রটি ঠিক কবে তৈরি হয়েছিল, কে-ইবা তৈরি করেছিলেন।
মানচিত্রটি পশুর চামড়ায় তৈরি; শুরুতে এর দিকে তাকালে মানচিত্রের মতো মনে হবে না। দেখে মনে হবে যেন অদ্ভুতদর্শন কোনো জন্তুর অবয়ব। মানচিত্রটির দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৪ ফুট ৪ ইঞ্চি। এ বিশ্ব মানচিত্রের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে জেরুজালেমকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ মানচিত্র তৈরি হয়েছিল আলেকজান্দ্রিয়ায়। আল-ইদ্রিসি পালেরমোতে তার বিশ্ব মানচিত্র তৈরির ১০০ বছর পর এ ম্যাপ্পামুন্ডির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। টলেমি ও ম্যাপ্পামুন্ডির মধ্যকার সময়ে খ্রিস্ট ধর্ম বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়। ফলে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দুনিয়া সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হয়। আর সেই ধারণার, বিশ্বাসের একটি উজ্জ্বলতম নিদর্শন হলো হেয়ারফোর্ড ম্যাপ্পামুন্ডি।
সাম্রাজ্য: কাঙ্গনিডো বিশ্ব মানচিত্র, ১৪০২
কাঙ্গনিডো নামে পরিচিত মানচিত্রটি তৈরি হয়েছিল কোরিয়ায়, আর ১৪০২ খ্রিস্টাব্দে কাজটি করেছিলেন ই হো এবং কোন কান। এটি পূর্ব এশিয়ায় তৈরি হওয়া বিশ্ব মানচিত্রগুলোর মধ্যে যেগুলো টিকে আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। চীন কিংবা জাপানের তৈরি করা যেকোনো বিশ্বমানচিত্রের চেয়ে এটি পুরনো। এটিই এশিয়ায় তৈরি প্রথম মানচিত্র, যা ইউরোপকে চিহ্নিত করেছিল।
কাঙ্গনিডো মানচিত্র সিল্কের ওপর কালি দিয়ে আঁকা। এতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার দেখা যায়। সাগর বোঝাতে জলপাই সবুজ, নদীর জন্য নীল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। পর্বতশ্রেণী আঁকা হয়েছে কালো রেখায়, দ্বীপ দেখা যায় গোলাকার বৃত্তে।
এর আগে দেখা গেছে খ্রিস্টানদের আঁকা মানচিত্রে উপরে থাকত পূর্ব দিক, মুসলিমদের মানচিত্রে দক্ষিণ, কিন্তু এই কোরীয় মানচিত্রে উপরে আছে উত্তর দিক। পশ্চিমাদের কাছে কাঙ্গনিডো মানচিত্র ছিল এক ধাঁধা। মানচিত্র হিসেবে এটি ম্যাপ্পামুন্ডির সঙ্গে তুলনীয়, কিন্তু এখানে পশ্চিমারা দেখল স্থানিক ধারণা নিয়ে ভিন্ন ধরনের এক মানচিত্র, যা তাদের ধারণা থেকে অনেকটাই ভিন্ন। কাঙ্গনিডো মানচিত্র ছিল চীনা সাম্রাজ্যের প্রতি একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক জবাব। এর মূল প্রেরণা ছিল নিজের ভূগোল ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোরীয়দের নিজস্ব ধারণা। কাঙ্গনিডো মানচিত্র দেখাচ্ছিল একটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের পাশে ছোট একটি রাজত্ব নিজেকে অস্তিত্ববান করে তোলে।
আবিষ্কার: মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার বিশ্ব মানচিত্র, ১৫০৭
ফিলিপ ডি. বার্ডেন যুক্তরাজ্যের অন্যতম মানচিত্র বিশেষজ্ঞ ও ডিলার। তিনি দ্য ম্যাপিং অব নর্থ আমেরিকা গ্রন্থেরও রচয়িতা। ১৯৯৮ সালে বার্ডেনের কাছে আসেন লন্ডনের এক বুক ডিলার। উদ্দেশ্য ছিল সেই বুক ডিলারের এক গ্রাহকের কাছে থাকা একটি পুরনো মানচিত্রের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে বার্ডেনের সহায়তা চাওয়া। এ রকম প্রস্তাব বার্ডেন আগেও অনেক পেয়েছেন। কিন্তু এবার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন ছিল। মানচিত্রের মালিক বার্ডেনের সঙ্গে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। লন্ডনে সেই মানচিত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন, এটাই জার্মান মানচিত্র বিশারদ মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার Universalis cosmographia secundum Ptholomaei traditionem et Americi Vespucii aliorumque lustrationes (টলেমির জ্ঞান ও আমেরিগো ভেসপুচি ও অন্যদের অভিযান অনুসারে তৈরি করা মানচিত্র) মানচিত্রের টিকে থাকা একমাত্র কপি। ধারণা করা হয়, মানচিত্রটি ১৫০৭ সালে তৈরি হয়েছিল। এটিই প্রথম বিশ্ব মানচিত্র, যেখানে ‘আমেরিকা’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং একে একটি মহাদেশীয় ভূখণ্ড বলে দেখানো হয়, যা এশিয়ার ভূভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন।
বিশ্বায়ন: দিয়োগো রিবেইরোর মানচিত্র, ১৫২৯
পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে এসে দূর সমুদ্রযাত্রার জন্য পর্তুগিজ নাবিকরা নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করেন। দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের প্রবেশ ঘটে গেছে। এক কথায় বিশ্বায়নের সূচনা হয়েছে। ভৌগোলিক জ্ঞান তখন অমূল্য সম্পদ। এ রকম এক যুগেই বাস করতেন দিয়োগো রিবেইরো। তিনি ছিলেন পর্তুগিজ মানচিত্রবিদ ও অভিযাত্রী। জীবন কাটিয়েছেন স্পেনে। রিবোইরো মানচিত্র তৈরিতে এতদিনের প্রচলিত গ্রিক নীতি থেকে সরে যান। তিনি শুধু মানুষে পূর্ণ দুনিয়াকে আঁকলেন না, তিনি পুরো বিশ্বকে ৩৬০ ডিগ্রির পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করলেন।
সহিষ্ণুতা: জেরার্ড মার্কেটর, ১৫৬৯
জেরার্ড মার্কেটর ছিলেন ষোড়শ শতকের একজন ডাচ্ ভৌগোলিক ও মানচিত্রবিদ। তিনি ১৫৬৯ সালে তার তৈরি করা বিশ্বমানচিত্রে নৌপথের যে সরলরৈখিক উপস্থাপনা দেখিয়েছিলেন, তা এখনো নটিক্যাল চার্টে ব্যবহার হয়। বলা হয়, তার মানচিত্রের অভিক্ষেপ দুনিয়ার নাবিকদের নৌপথে চলাচলে নতুন পদ্ধতি উপহার দিয়েছিল। কিন্তু তখনকার দিন চলমান ধর্মীয় সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে তার এই আদর্শিক ইচ্ছাকে শাস্তি ও অসহিষ্ণুতা থেকে বেঁচে থাকার উপায় হিসেবে দেখা হয়েছিল।
টাকা: জোন ব্লায়ুইর অ্যাটলাস মায়োর, ১৬৬২
অ্যাটলাস মায়োর মূলত একটি বই, যেখানে ৫৯৪টি মানচিত্র ও তিন হাজার পাতার আলোচনা স্থান পেয়েছে। এটি ছিল সপ্তদশ শতকের সবচেয়ে বৃহৎ এবং দামি বই। অ্যাটলাস মায়োর সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। বইটি অনেকেই ঘর সাজানোর জন্য কিনেছিলেন। বিপুল পরিমাণে প্রকাশনার চমকও জোন ব্লায়ুইর নতুন জ্ঞান সৃষ্টির ব্যর্থতাকে ঢাকতে পারেনি। টলেমি থেকে এ-যাবৎ মানচিত্র বিশারদরা নতুন নতুন জ্ঞান উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু জোয়ানের বিশ্ব মানচিত্রে সে রকম কিছু পাওয়া যায়নি।
আগের মানচিত্র বিশারদরা বিশ্ব সম্পর্কে একটি একক বৈজ্ঞানিক ধারণা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জোয়ান তার মানচিত্রে দেখালেন প্রচুর বৈচিত্র্য, বাজারের বৈচিত্র্য। জ্ঞানের চেয়ে টাকা এবং বাজারের দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল তার মানচিত্রের পেছনের নির্মাণ শক্তি।
জাতি: ক্যাসিনির ফ্রান্সের মানচিত্র, ১৭৯৩
ন্যাশনাল কনভেনশন অব রিপাবলিকান ফ্রান্স ১৭৯৩ সালের ৫ অক্টোবর ‘ফরাসি যুগ’-এর ডিক্রি জারি করে। আগের বছর ২২ সেপ্টেম্বর ফরাসি রিপাবলিকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে কেন্দ্র ধরে নতুন বর্ষপঞ্জি চালু হয়।
ক্যাসিনির তৈরি করা ফ্রান্সের মানচিত্র ছিল ১৮২ পাতার। সেটা ছিল এমন এক সময়, যখন রেললাইন, সংবাদপত্র সাহিত্য সমাজে জায়গা করে নিচ্ছে। ক্যাসিনির মানচিত্র ধারণ করেছিল সে সময়ের ঘনায়মান আদর্শকে—এক মানচিত্র, এক ভাষা, এক জাতের মানুষ; যারা একই রকম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অধিকারী।
ভূরাজনীতি: হ্যালফোর্ড ম্যাকিনডারের ‘দ্য জিওগ্রাফিকাল পিভট অব হিস্টরি’, ১৯০৪
হ্যালফোর্ড জন ম্যাকিনডার ১৯০৪ সালে রয়াল জিওগ্রাফিকাল সোসাইটিতে ‘দ্য জিওগ্রাফিকাল পিভট অব হিস্টরি’ শিরোনামের প্রবন্ধ জমা দিয়েছিলেন। এ প্রবন্ধে তিনি হার্টল্যান্ড তত্ত্ব বিকশিত করেন। এ প্রবন্ধে তিনি পুরো বিশ্বে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা বিবৃত করেন।
সমতা: পিটারের অভিক্ষেপ, ১৯৭৩
জার্মান ইতিহাসবিদ এরনো পিটার গল-পিটারস প্রজেকশনের ভিত্তিতে পিটারস ওয়ার্ল্ড ম্যাপ তৈরি করেন। পিটারের যুক্তি ছিল, এতদিনের সব মানচিত্রেই সংশ্লিষ্ট সময় ও সংস্কৃতির চাপ পড়েছে, তিনি নিজে এ সমীবদ্ধতা কাটিয়ে তার বিশ্ব মানচিত্র তৈরির প্রয়াস নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং এ থেকে অনেকেই সিদ্ধান্ত টানেন বিশ্বের যেকোনো মানচিত্রই কিছুটা হলেও রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিপ্রেক্ষিত থেকে সিলেকটিভ, নিরপেক্ষ থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তথ্য: গুগল আর্থ, ২০১২
গুগল আর্থ যারা ব্যবহার করেছেন, তারা এর সুবিধা বিষয়ে নিশ্চিতভাবেই অবগত। গুগল আর্থ ব্যবহারকারীকে যে সুবিধা নিশ্চিত করে, তা কাগজে ছাপা মানচিত্রে অসম্ভব। গুগল আর্থের ডিসপ্লেতে গেলে পুরো দুনিয়াকে দেখা যাবে, আলোচনা করা যায় এবং সেটাকে ঘোরানোও যাবে। বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান ও বস্তুর ওপর ক্লিক করলে সেগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট স্থানের রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমানা সব তথ্যই আছে। ব্যবহারকারী চাইলে বিভিন্ন স্তরে ক্লিক করে নানা ধরনের তথ্য পেয়ে যান। কয়েক সেকেন্ডে পৃথিবী থেকে হাজার কিলোমিটার ওপর থেকে ঘুরে আসা যায়, চাইলে যাওয়া যায় পানির তলাও। সবখানেই আছে বাস্তব ছবি, বসতির ত্রিমাত্রিক ছবি, যাতে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর সবই বোঝা যায়।
গুগল তাদের এ মানচিত্রের সব তথ্য বিনা মূল্যে সবাইকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। এ মানচিত্র থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবিষয়ক ক্যাম্পেইন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা গৃহযুদ্ধের সময় উদ্ধার অভিযানে কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়।
গুগল আর্থে যে তথ্যভাণ্ডার রয়েছে তা অভূতপূর্ব, কাগজে আঁকা বা ছাপা মানচিত্রের সঙ্গে তুলনা করলে তো ভিরমি খেতে হবে। গুগলের মানচিত্রের পৃষ্ঠতলে ভিউয়ার পাবেন ১০ পেটাবাইট ভৌগোলিক তথ্য। এ তথ্যের পরিমাণটা এমনই, যা রূপকথার মতোই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। পরিস্থিতি এখন এমন যে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা চাইলেই দেখা যাবে। কোনো ভূগোলবিদের পক্ষপাত একজন গুগল আর্থ ব্যবহারকারীকে গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো তথ্যের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
জেরি ব্রোটোনের আ হিস্টরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন টুয়েলভ ম্যাপস অবলম্বনে রচিত






