কত আলগা বায়ুটানে শিমুলের থেকে চলে যায় মোহতুলা।

নিজেরই ভূগোল চিরে ছেড়ে দেয় বৃক্ষ তার তুলোট বিশ্বাস,

বাতাসে ভাসন্ত কিংবা তিতিল বসন ওই রেশমপুঞ্জের নাম নাই।

 

নদীর নামেও আর হবে না কোনো দেশের ভেজা নাম

চুরি করে মনোনদী, চলে গেল যে পাতালবাসনার পাপ

তাকে নাম দিয়ে বলো, নদীভাঙা মানুষের কিবা লাভ?

মোহজ্বরে নাম ঝরে গেছে যার করে না তো কেউ তাহার তালাশ—

শুধু মনে পড়ে মুখ, হুতাশি আগুনজ্বলা শাড়ি আর সিঁদুরবিলাস।

 

কী হারাল তাহা বলিনি বিধায় কোনো খোঁজা নাই,

পাগল মস্তান লোক বলিতে কি পারে তার কিসের অসুখ?

আমি জানি ক্ষয়রোগ—মানুষ এখন আর চায় না মানুষ;

কেবল বাসনা চায় বাসনা করে যাক বাসনাকে চিরভোগ।

 

নিজ থেকে শ্রীকে ভুলে তাই নিজশ্রী সাজায় নাগর মানুষ;

এ ওর প্রাণের মধ্যে ডুব দিয়ে খোঁজে না গো তমোহা পাথর।

গল্প থেকে সব নাম মুছে দিতে হয় যাকে, তার কথাগুলো—

ছাড়াছাড়া ছবিগুলো চৌচির জমির মতো ছত্রখান হয়ে পড়ে—

মাঝরাতে খিল-ধরা অনামা ভয়ের নাম তাই বোবাধরা নয়।

যে ক্ষতি বেনামা, সেই বিস্বাদ-শোকের নাম রিরহিতা নয়

যার কোনো নাম নাই তা-ই দুরারোগ্য ভয়।

 

আর মাটি মিশে যায় মাটির নেহায়,

লোহার নেহাইয়ে মাথা খোঁড়ে লোহা,

বায়ুর মিহি আঙুল করে দোঁহে মিহি ইলিবিলি;

যাকে রাখা আর গেল না কোথাও সে তো আমি নয়।

তাতে ঝাঁপ দিক যে পারে নেভানো জোনাকি,

সে হয় ঈশ্বর নয়তো নিরাক-পড়া নয়ানজুলি।

 

মতিহার হারিয়েছে যে রূপদানি,

রূপমতী নয় তার নাকের নীহার;

তার নয় বাউল বিহার, সিঁথির কুমকুম,

তার নয় মায়াদ্বীপে সাঁতারের ঘুম।

 

রোদের চন্দন মুছে চলে যাওয়া পাখিটার তাই কোনো নাম নাই,

জলের অশ্রুতে পাপ মুছে নেয়া ছায়াটার কোনো নাম নাই,

পরিযায়ী পাখিদের কোনো গান নাই, শুধু ডানার ঝাপট—

বেহুলা ভাসানে নাই লখিন্দর, পদচিহ্ন জমে নেই ভোরে,

আয়ুচোয়া জলে রচিত এই গ্রন্থের প্রথম পাতাটা তাই থেকে যাবে ফাঁকা;

যেই ঘাটে ভেসে আসে কলার মান্দাস, সেই ঘাটে আমিও ঘুমাব একা।