হাজার বছর ধরে নারীরা সমাজে নিজেদের ছাপ রেখে গেছেন এবং ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছেন, এমনকি অন্যদের জীবনের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছেন। মুসলিম সভ্যতার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাজহাব ও গোষ্ঠীর অসাধারণ রমণীরা এবং তাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট ছাড়াও নিজেদের সম্প্রদায়কে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরুষের পাশাপাশি কাজ করেছেন। তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প-কাহিনী, দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, অনন্য ব্যক্তিত্ব ও তত্কালীন পরিবেশের উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য তাদের আলোকবর্তিকায় পরিণত করেছে, যা আজও তরুণ নারী ও পুরুষদের পথ দেখাতে সক্ষম।

মধ্যযুগে নারীরা জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে অনেক নারী ছিলেন যারা শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টাকে শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যেমন ফাতিমা আল-ফিহরি (জন্ম তিউনিশিয়া, ৮০০ খ্রিস্টাব্দ, মৃত্যু মরোক্কো, ৮৮০ খ্রিস্টাব্দ), যিনি ৮৫৯ সালে মরোক্কোর ফেজ শহরে বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে অন্য নারীরা গণিত, চিকিত্সাক্ষেত্র, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, দর্শন এবং কলা বিভাগে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া অন্যরা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন এবং মুসলিম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল শাসন করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দশম শতাব্দীর কর্ডোবার লাবানা (স্পেন), দ্বাদশ শতাব্দীর মেলিকা মামা হাতুন (তুরস্ক) ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর রাজিয়া সুলতানা (ভারত) প্রমুখ। বলা বাহুল্য, মধ্যযুগীয় ইসলামে, বাইজেন্টাইন শাসন আমলের বিপরীতে, নারীদের সার্বভৌম হিসেবে কাজ করার অধিকার ছিল না। তবে তার অর্থ এই নয় যে নারীরা মহান রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করেননি, বরং বলা যায় সেটা সবসময় পর্দার আড়ালে ছিল। কিন্তু সেই নিয়মেরও ব্যতিক্রম আছে। উদাহরণস্বরূপ, ইতিহাসে সুপরিচিত একাদশ শতাব্দীর মিসরের ফাতিমিদ বংশের রাজকুমারী সিত্ আল-মুলক, যিনি নারী শাসক হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।

এ নিবন্ধের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলা ভাষাভাষী উত্সুক পাঠক-পাঠিকাদের কাছে মিসরের নারী শাসক, যিনি ‘লেডি অব কায়রো’ হিসেবে সুপরিচিত, সেই সিত্ আল-মুলেকর জীবন ও কর্ম সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরা।

কে ছিলেন সেই সিত্ আল-মুলক?

সিত্ আল-মুলেকর অর্থ হচ্ছে লেডি অব পাওয়ার বা ক্ষমতাধর নারী। তার পুরো নাম সাইয়্যিদাত আল-মুলক বা লেডি অব দি এম্পায়্যার, অর্থাত্ সাম্রাজ্যের নারী। এছাড়া ইতিহাসবিদরা তাকে ‘সিত্ আল-নসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার জন্ম ফাতিমিদ বংশে, ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে। তিনি ছিলেন অনিন্দ্যসুন্দরী এবং দারুণ বুদ্ধিমতী। তাকে রাজবংশের সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন, দামি রাজকীয় পোশাক ও দুর্লভ সুগন্ধি দিয়ে সাজানো হতো এবং তার সেই সাজসজ্জার জন্য অগণিত রমণী নিয়োজিত ছিল।

সিত্ আল-মুলেকর বাবা ছিলেন ফাতিমিদ বংশের পঞ্চম খলিফা আল-আজিজ (শাসনামল, ৯৭৫-৯৯৬)। ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতিমিদ বংশ মিসর জয়লাভ করে এবং তখনই খলিফা আল-আজিজ কায়রোতে নতুন রাজধানী গড়ে তোলেন। অন্যদিকে সিত্ আল-মুলেকর মা ছিলেন বাইজেন্টাইন খ্রিস্টান, যিনি তার জন্ম ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত ছিলেন এবং সবসময় তার দ্বৈত পরিচয় রক্ষা করতেন। খ্রিস্টান ও ইহুদিদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল এমন একটি পর্যায়ের, যা তার জীবনকে প্রায় বিপন্ন করে দিয়েছিল। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে খলিফা হিসেবে ইমাম আল-আজিজের সুনাম ছিল। তার রাজত্ব প্রতিটি দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল ব্যতিক্রমী। তাকে ‘উদার, সাহসী, ক্ষমাশীল (কথিত আছে, তিনি অবাধে ক্ষমা করতেন) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার শাসনামলে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের এমন কিছু সুবিধা ছিল যা আগে কখনো ছিল না। তারা সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ কার্যালয়ে অধীষ্ঠ হতে পেরেছিল। তারা সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিল, যা প্রায়ই মওলানা আল-আজিজকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। কিন্তু সেই চাপের মধ্যে তিনি নিজেকে ধৈর্যশীল হিসেবে প্রমাণ করেন। তার সেসব গুণাবলি, বিশেষ করে তার উদারতা ও সহনশীলতা উত্তরাধিকার সূত্রে সিত্ আল-মুলক পেয়েছিলেন।

সিত্ আল-মুলেকর জন্মের এক বছর আগে ফাতিমিদ সৈন্যরা মিসর জয় করে এবং কায়রোতে নতুন রাজধানী নির্মাণ করে। পরে ৯৭৩ সালে ফাতিফিত আদালত ইপ্রিগিয়া (বর্তমানে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চল, তিউনিশিয়া ও আলজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকা) থেকে মিসরে চলে আসে। সিত্ আল-মুলক শৈশবের দিনগুলো কাটিয়েছেন নীল নদের তীরে অবস্থিত মার্জিত ও সুন্দর কাসর আল-বাহর (প্যালেস অব দ্য সি) রাজকীয় প্রাসাদে, যা জ্যোতিষীরা আকাশের নক্ষত্ররাজির সঙ্গে একত্রে থাকার জন্য নকশা করেছিলেন। পরে তিনি পিতার কাছ থেকে কায়রোর পশ্চিমে অবস্থিত সুবর্ণ প্রাসাদ (কাসর আদ-দাহাব) উপহার পেয়েছিলেন।

রাজনীতির মঞ্চে আবির্ভাব ও দক্ষ শাসনকর্ত্রীর ভূমিকা


রাজনীতির মঞ্চে সিত্ আল-মুলেকর আবির্ভাব কোনো দৈব ঘটনা ছিল না। কেননা রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয় অল্প বয়স থেকেই, তার পিতার হাত ধরে। সিত্ আল-মুলেকর বুদ্ধিমত্তার গভীরতা দেখে তার পিতা নিজের ক্ষমতার সঙ্গে মেয়েকে যুক্ত রেখেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় জটিল কোনো সমস্যা হলে তিনি মেয়ের সঙ্গে আলোচনা করতেন। সিত্ আল-মুলক ছোট ভাই আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহর [ফাতিমিদ বংশের ষষ্ঠ খলিফা এবং ১৬তম ইসমাইলি ইমাম (শাসনামল, ৯৯৬-১০২১)] ঈর্ষার শিকার হন।

উল্লেখ্য, আল-হাকিম ৯৯৬ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় পিতার মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে খলিফা হন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর এবং সিত্ আল-মুলেকর বয়স ছিল ২৫ বছর। খলিফা বোনকে ঈর্ষা করতেন এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। সমসাময়িক গুজব থেকে জানা যায় যে পিতার মৃত্যুর পর সিত্ আল-মুলক একটি অভ্যুত্থান মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করেন এবং এক কাজিনের সাহায্য নিয়ে সিংহাসন দখল করার চেষ্টা করেন। সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় এবং বারজওয়ান তাকে গ্রেফতার করেন। বারজওয়ান ছিলেন আল-হাকিমের শিক্ষক এবং তিনি পরবর্তী সময়ে খলিফার শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী হন। ইতিহাস থেকে আরো জানা যায় যে সিত্ আল-মুলেকর সঙ্গে আল-হাকিমের কোনো বনিবনা ছিল না। যা হোক, ১০০০ সালে বারজওয়ান নিহত হওয়ার পর সিত্ আল-মুলক তরুণ খলিফার ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।

আল-হাকিম ছিলেন রীতিমতো অত্যাচারী খলিফা। মসনদে আরোহণ করে তরুণ আল-হাকিম আদেশ জারি করেছিলেন যে যারা তার কাছে আসবে, তাদের অবশ্যই তার সম্মুখে মাথা নত করতে হবে এবং মাটিতে চুমু খেয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। দিনে দিনে খলিফা অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং অগ্রহণযোগ্য নির্দেশ দিয়ে কায়রোবাসীকে আতঙ্কিত করে রেখেছিলেন। কথিত আছে, একদিন তিনি এক কসাইখানার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি দোকান থেকে মাংস কাটার ছুরি কেড়ে নেন এবং কোনো ভ্রূক্ষেপ না করে তার একজন পরিচারককে ছুরির আঘাতে হত্যা করেন। উপস্থিত আতঙ্কিত জনগণ কিছু করার সাহস পায়নি। যতক্ষণ না পর্যন্ত আল-হাকিম লোকটিকে কবর দেয়ার জন্য আবরণ না পাঠিয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত মরদেহ সেখানে পড়ে ছিল।

আল-হাকিমের উদ্ভট ব্যবহারের অনেক নজির আছে। যেমন তিনি কারিগর ও ব্যবসায়ীদের রাতে কাজ করতে এবং দিনের বেলায় ঘুমানোর আদেশ দিয়েছিলেন, যেন তিনি রাতের বেলা কর্মচঞ্চল লোকজনের মাঝে চলাচল করতে পারেন। তিনি কুকুরের চিত্কার-চেঁচামেচির জন্য রাতে ঘুমাতে পারতেন না। তাই কায়রোর সব কুকুরকে তিনি হত্যা করেছেন। তিনি নারীদের হাসতে, কাঁদতে এবং সর্বোপরি রাস্তায় বের হতে নিষেধ করেন। একসময় তিনি অপমানিত ও নির্যাতিত ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আক্রমণ করেন। এছাড়া তিনি আল-ফুস্তাতকে (পুরনো কায়রো) এতটাই ঘৃণা করতেন যে ১০২০ সালে লুটপাট এবং পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দেন। মার্কিন কবি এরিক অর্মসবি (জন্ম ১৯৪১) ‘দ্য ক্যালিফ’ (খলিফা) কবিতায় আল-হাকিমের প্রভাবশালী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা ‘দ্য নিউইয়র্কার’-এ ১৯৯৬ সালের ১০ জুন প্রকাশিত হয়েছে। এখানে কয়েক ছত্রের বাংলা তরজমা তুলে দেয়া হলো:

‘জ্ঞানী ও উজ্জ্বল বর্ণশোভিত ফাতিমিদ,

ঈশ্বরের জটিল ক্যালিগুলা।’

আল-হাকিম ১০২১ সালের ৩ ফ্রেব্রুয়ারি রাত্রি ভ্রমণকালে মুকাত্তাম পাহাড়ে নিখোঁজ হন। অনেক ইতিহাসবিদের মতে সিত আল-মুলক মিত্রদের সঙ্গে আঁতাত করে ভাইকে হত্যা করেন এবং জনগণের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে দেন যে আল-হাকিম নিখোঁজ হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টান ঐতিহাসিকরা একটি বিদ্বেষপূর্ণ কাহিনী ছড়িয়ে দেন, যা অনেক মুসলিম লেখক পুনঃপ্রকাশ করে যে খলিফার বোন সিত্ আল-মুলক ইউসুফ বিন দাওয়াসের প্রেমে পড়েছিলেন। বিষয়টি খলিফার জানা ছিল, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগেই তার বোন ইউসুফের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আল-হাকিমকে হত্যা করেন।

আল-হাকিম নিখোঁজ হওয়ার পর খেলাফত তার পুত্র আজ-জাহির লি আ’জাজ লি দীন-ইল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে। তখন আজ-জাহিরের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। তার অল্প বয়সের কারণে সিত্ আল-মুলক ভাতিজার পক্ষে খিলাফত শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তবে তিনি মন্ত্রী বারজওয়ানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেন। কেননা সে সময় বারজওয়ান খিলাফতের ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসক ছিলেন।

ক্ষমতা লাভের পরে সিত্ আল-মুলক আল-হাকিমের উত্তরাধিকার বাতিল করার জন্য কাজ করেছেন। এসবের মধ্যে ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার একটি গির্জা পুনর্নির্মাণ করা, যা আল-হাকিম ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছিলেন এবং মায়ের দিকের আত্মীয়স্বজনদের পুনর্বহাল করা। তিনি বাণিজ্যিক কর ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন, যা আল-হাকিম বিলুপ্ত করে, নারীদের গৃহবন্দি থেকে মুক্তি দেন, তাদের গয়না পরার অনুমতি দেন এবং সংগীতচর্চা এবং খ্রিস্টান ও ইহুদিদের ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল আলেপ্পোর বিতর্কিত অঞ্চলের জন্য একটি সমাধান খোঁজার মাধ্যমে ফাতিমি ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা কমানো। তার শাসনামলে খ্রিস্টানদের প্রতি আরো ন্যায্য আচরণ এবং তার ব্যক্তিগত সংযোগ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়। মাত্র দুই বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধীষ্ঠ তিনি ইসলামী আইন মেনে দেশকে শান্ত করেন এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা স্থাপন করেন। তত্কালীন সময়ে তিনি মূলত তার ন্যায়বিচারের কারণে মিসরীয়দের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিলেন।

যদিও সিত্ আল-মুলক ছিলেন পুরুষদের জগতে একজন বিশ্বাসযোগ্য নারী নেতা এবং নিজেকে তিনি ‘পুরুষদের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, কিন্তু ঘোষণা করার পরও নারী শাসক হওয়ার জন্য তার নামে কখনই খুতবা প্রচার করা হয়নি। বরং শিশু ইমামের নামে বিশ্বাসীরা শুক্রবার জুমা নামাজের খুতবা দিতেন।

সিত্ আল-মুলক ১০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আমাশয়ে মারা যান।

শেষকথা

ইতিহাস স্বীকার করে যে সিত্ আল-মুলক ছিলেন ফাতিমি বংশের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী ও বিশিষ্ট নারী শাসক। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খলিফা হিসেবে কখনই ঘোষণা করা হয়নি। কেননা তিনি ছিলেন নারী এবং খলিফা একটি সম্পূর্ণ পুরুষ উপাধি। তবে এ কথা সত্য যে সিত আল-মুলক কার্যকরভাবে মধ্যযুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্য শাসন করেছেন। তিনি দক্ষতার সঙ্গে ভাইয়ের সৃষ্ট ক্ষতি মেরামত করেছেন এবং বৈচিত্র্য ও শান্তি প্রচারের জন্য কাজ করেছেন। তিনি এমন একটি লেগ্যাসি রেখে গেছেন যে পরবর্তী সময়ে কবি আব্দ আল রহমান আল-মুতাব্বিব তার জন্য একটি শোকসংগীত রচনা করেন, যা বাংলায় তরজমা করলে এ রকম দাঁড়ায়:

‘সিত্ আল-মুলেকর ছায়ায় আমাদের বসবাস,

আমরা সেই ছায়ার সান্ত্বনা ভাগ করে নিয়েছি

...আজকের রাতের মতো বিষণ্নতা দেখে অবাক হবেন না,

তার কাছ থেকে গতকালের উপহারগুলো কী ছিল।’

 

[কৃতজ্ঞতা স্বীকার: এ নিবন্ধে ব্যবহূত বিভিন্ন তথ্য অসংখ্য সূত্র থেকে নেয়া হয়েছে।]

 

ফজল হাসান: লেখক ও অনুবাদক