মুখবন্ধ
যখন
পঞ্চম শ্রেণীতে
পড়ি, ১৯৬৭
সালে আমার
পাঠ্য বাংলা
বইয়ের একটি
নিবন্ধের নাম
ছিল মোস্তফা
কামাল পাশা।
দুটি প্রশ্নের
উত্তর পরীক্ষার
জন্য মনোযোগ
দিয়ে পড়তে
হতো। তুরস্ককে
ইউরোপের রুগ্ণ
মানুষ কেন
বলা হতো?
মোস্তফা কামাল
পাশা কী
নামে পরিচিত
ছিলেন? ১৯৭০-এ
ক্লাস এইটে
উঠে পাই
কাজী নজরুল
ইসলামের কবিতা
‘কামাল পাশা’—কামাল
তুলে কামাল
কিয়া ভাই।
দুটির পঙিক্ত
মনে করিয়ে
দিই:
ঐ ক্ষেপেছে
পাগলি মায়ের
দামাল ছেলে
কামাল ভাই
অসুর-পুরে
শোর উঠেছে,
জোরসে সামাল,
সামাল তাই!
ক্রিমিয়ান যুদ্ধের
সময় ১৮৫৬
সালে জন
রাসেল রুশ
জার প্রথম
নিকোলাসকে উদ্ধৃত
করে বলেন,
তিনি ওসমানিয়া
সাম্রাজ্যকে সিক
ম্যান এ
ভেরি সিক
ম্যান বলেছেন,
তুরস্কই যে
রুগ্ণ মানব,
এটা অনেক
পুরনো ব্যাপার।
কিন্তু প্রথম
মহাযুদ্ধের সময়
ওসমানিয়া শাসকদের
আত্মসমর্পণের পর
তুরস্ক ছিন্নভিন্ন
হয়ে গেল,
সাম্রাজ্যের এজিয়ান
সাগর অঞ্চল
চলে গেল
গ্রিসের কাছে।
সে সময়
সাম্রাজ্য চলে
গেল ব্রিটিশ,
ফরাসি, গ্রিক
ও ইতালীয়দের
দখলে; আরব
ও উপসাগরীয়
অংশ ব্রিটেন
ও ফ্রান্স
দখল করে
নিয়ে নিল।
যদি তুরস্কের
একাংশ কনস্ট্যানটিনোপল
(আজকের ইস্তাম্বুল)
ইউরোপের অংশ,
প্রথম মহাযুদ্ধের
পর ছিন্নভিন্ন
উসমানিয়া সাম্রাজ্যের
একালের তুরস্ক
অংশটুকুও ভীষণ
দুর্দশগ্রস্ত ছিল,
রাষ্ট্র হিসেবে
আগেই টিকে
থাকবে কিনা
এ নিয়ে
সন্দিহান ছিলেন
অনেকেই। দৃঢ়তার
সাথে লড়াই
করে সেনা
কর্মকর্তা মোস্তফা
কামাল ২৪
জুলাই ১৯২৩
তুরস্ক স্বাধীন
করলেন এবং
রুগ্ণতা কাটিয়ে
উঠে আধুনিক
রাষ্ট্র হিসেবে
প্রতিষ্ঠা করলেন।
এজন্যই তিনি
আতাতুর্ক বা
তুর্কিদের পিতা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘কেমালিজম’
বা ‘আতাতুর্কিজম’
ঠাঁই পেয়েছে।
তিনি যা
করেছেন তা
করতে চেয়েছেন
এবং যা
বিশ্বাস করতেন
এটা তারই
সারাৎসার। ছয়টি
খুঁটির ওপর
তিনি তুরস্কের
রাজনৈতিক ও
দার্শনিক ভিত্তি
নির্মাণ করতে
চেয়েছিলেন। ভিত্তিগুলো
হচ্ছে রিপাবলিকানিজম
(প্রজাতন্ত্রবাদ), ন্যাশনালিজম
(জাতীয়তাবাদ), পপুলিজম
(লোকরঞ্জনবাদ—এক্ষেত্রে
শ্রেণীহীন সমাজ
ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
করার প্রতিশ্রুতি),
সেকুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ)
এবং স্টেটিজম
(রাষ্ট্রবাদ-কমিউনিজম
ও ফ্যাসিজমের
আদলে সব
ধরনের কর্মকাণ্ডের
নেতৃত্ব দেবে
রাষ্ট্র)।
কিন্তু শুরু
থেকেই তার
সেকুলারিজম চ্যালেঞ্জের
মুখে পড়ে।
সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠার
একটি উল্লেখযোগ্য
পদক্ষেপ ছিল
তত্কালের হায়া
সোফিয়া মসজিদকে
জাদুঘরে রুপান্তর
করা। তোপকাপি
প্রাসাদের পর
আন্তর্জাতিক পর্যটকদের
দ্বিতীয় প্রধান
আকর্ষণ। ক্যাথলিক
খ্রিস্টানদের ৯২১
বছরের গির্জা,
উসমানিয়া শাসকদের
৪৮২ বছরের
মসজিদ ও
মোস্তফা কামালের
সেকুলার তুরস্কে
এবং সেকুলারিজম
থেকে সরে
আসা তুরস্কে
৮৬ বছর
জাদুঘর হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত থাকার
পর ঐতিহাসিক
বাইজেন্টাইন স্থাপত্য
নির্মিত হায়া
সোফিয়ায় আবার
শোনা যাবে
পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজের আহ্বান।
২৪ জুলাই
২০২০ জুমার
নামাজের মধ্য
দিয়ে শুরু
হতে যাচ্ছে
বহুল তর্কিত
মসজিদের দ্বিতীয়
যাত্রা। সেদিন
মুসল্লি হিসেবে
শামিল হচ্ছেন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট
রিসেপ তাইয়েপ
এরদোগান। ২০০৭
সালে রাষ্ট্রীয়
দায়িত্ব পালনের
সময় প্রেসিডেন্ট
এরদোগানের সঙ্গে
হায়া সোফিয়া
থেকে ৪৫০
কিলোমিটার দূরে
রাজধানী আঙ্কারায়
আমার করমর্দনের
সুযোগ হয়েছে।
হায়া সোফিয়া
পরিদর্শনের সুযোগ
হয়েছে আমারও।
সেদিন সবচেয়ে
বেশিসংখ্যক দর্শকের
ভিড় দেখেছি
‘উইপিং কলাম’-এর
চারপাশে। কী
হতে পারে
এর বাংলা
নাম—‘ক্রন্দসী
খাম্বা!’
কনস্ট্যান্টিনোপল বা
ইন্তাম্বুল তখন
রোমান সাম্রাজ্যের
অংশ। সম্রাট
প্রথম জাস্টিনিয়ানের
নির্দেশে গণিতজ্ঞ
ও স্থপতি
ইসিডোর অব
মিলেটাস (জন্ম
৪৪২-মৃত্যু
৫৩৭) ও
অ্যানথেমিয়াস অব
ট্র্যালেসের (জন্ম
৮৭৪-মৃত্যু
৫৩৪) হাতে
গড়ে ওঠে
হায়া সোফিয়া—হলি
উইজডম বা
পবিত্র জ্ঞান
যার অন্তর্নিহিত
অর্থ। ইতিহাস
ও দুর্যোগ
এ সৌধকে
বিভিন্নভাবে পৃথিবীর
কাছে উপস্থাপন
করছে। এ
সৌধ দেড়
হাজারেরও বেশি
বছরের ইতিহাসের
সাক্ষ্য এবং
একই সঙ্গে
রাজনৈতিক ও
ধর্মীয় শাসকদের
হাতে কীভাবে
ব্যবহূত ও
অপব্যবহূত হতে
পারে, তারও
সাক্ষ্য এ
বাইজেন্টাইন স্থাপত্য।
শুরুতে এটা
ছিল দ্বিতীয়
কনস্ট্যানটিনাসের চার্চ।
স্বত্ব ও
পরিচালনা পদ্ধতি
নিয়ে বিরোধ
ছিল। কনস্ট্যান্টিনোপলের
ধর্মাধিকারের জন্য
ক্রিসোস্টোম সম্রাট
আর্কেডিয়াসের স্ত্রী
সম্রাজ্ঞী ইউডোক্সিয়ার
সঙ্গে বিরোধে
জড়িয়ে পড়লে
৪০৪ সালে
তাকে নির্বাসনে
পাঠানো হয়।
পরবর্তী এক
দাঙ্গায় চার্চে
আগুন দেয়া
হলে প্রায়
পুরোটাই ভস্মীভূত
হয়ে যায়।
সেই চার্চের
কোনো চিহ্ন
আর নেই।
দ্বিতীয় থিওডোসিয়াসের
হুকুমে শুরুতে
কাঠের ছাদ
দেয়া দ্বিতীয়
হায়া সোফিয়া
নির্মিত হয়
এবং ৪১৫
সালে এর
উদ্বোধন হয়।
এটিও অগ্নিদগ্ধ
ভস্মীভূত হয়।
তার পরই
প্রথম জাস্টিনিয়ানের
নির্দেশে তখনকার
বৃহত্তম ক্যাথিড্রাল
নির্মাণ শুরু
হয়। দুর্ভাগ্যবশত
এটি নির্মিত
হয় ভূমিকম্পপ্রবণ
একটি ফল্ট
লাইনের ওপর।
এর খেসারত
এই সৌধকে
বারবার দিতে
হয়েছে। মনে
করা হয়
থাকে, ছোট-বড়
মিলিয়ে ২০০
ভূমিকম্প মোকাবেলা
করতে হয়েছে
হায়া সোফিয়াকে।
হায়া সোফিয়া: টাইমলাইন
৩৬০ খ্রিস্টাব্দ:
দ্বিতীয় কনস্ট্যানটিয়াসের
রাজত্বকালে হায়া
সোফিয়ার নির্মাণ
কাজের সূচনা।
৪০৪: অগ্নিকাণ্ডে
মূল ছাদ
ধ্বংসপ্রাপ্ত।
৪১৫: পুনর্নির্মিত
হয় এবং
দ্বিতীয় থিওডোসিয়াসকে
উৎসর্গ করা
হয়। (দ্বিতীয়
থিওডোসিয়াস দুই
বছরের শিশু
হিসেবে পূর্ব
রোমান সাম্রাজ্যের
সম্রাট হিসেবে
সিংহাসনে আরোহণ
করেন। তিনি
খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার
ছিলেন।)
৫৩১: নিকা
দাঙ্গার সময়
আগুন লাগিয়ে
দেয়া হয়।
চার্চ সম্পূর্ণ
ভস্মীভূত হয়ে
যায়। আশপাশের
ভবনগুলোও ধ্বংস
হয়। তিন
মাস পর
আবার মেরামত
ও পুনর্নির্মাণের
কাজ শুরু।
৫৩৭: বাইজেন্টাইন
সম্রাট জাস্টিনিয়ান
বসফরাসের গোল্ডেন
হর্নের দিকে
সামনের অংশ
রেখে এখানে
বিশাল ও
আড়ম্বরপূর্ণ চার্চ
প্রতিষ্ঠা করলেন।
বিশাল গম্বুজের
এ চার্চটিই
হয়ে উঠল
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ
চার্চ ইমারত।
৫৫৩: ভূমিকম্পে
গির্জার পূর্ব
দিকের খিলান
দুর্বল হয়ে
পড়ে।
৫৫৮: আরো
একটি ভূমিকম্প
ইমারতের মাঝামাঝি
ফাটল ধরিয়ে
কার্যত দ্বিখণ্ডিত
করে ফেলল।
কয়েক মাসের
মধ্যে প্রধান
গম্বুজটি ধসে
পড়ল। এতে
হায়া সোফিয়ার
ভেতরে অনেক
ক্ষয়ক্ষতি হয়।
৫৬২: পুনর্নির্মাণ
সম্পন্ন।
৭২৫: গোঁড়া
খ্রিস্টানদের বিকাশে
আইকনোক্লাজম (মূর্তি
ও দেয়ালচিত্র
বিনষ্টকরণ) শুরু
হলে হায়া
সোফিয়ার দেয়ালের
সব ধর্মীয়
অলংকরণ ও
ভাস্কর্য ধ্বংস
করে ফেলা
হয়।
৮৪২: ইস্টার্ন
অর্থোডক্স চার্চ
ও ক্যাথলিক
চার্চের দ্বিতীয়
সমন্বয় বৈঠকের
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
পুনরায় ধর্মীয়
অলংকরণ ও
ভাস্কর্য স্থাপন
শুরু হয়।
পুনারায় অলংকরণের
সৌন্দর্য ফিরে
আসে।
৮৫৯: ভয়াল
আগুনে হায়া
সোফিয়া মারাত্মক
ক্ষতিগ্রস্ত।
৮৬৯: ভূমিকম্পে
একটি অর্ধগম্বুজের
পতন।
৯৮৯: ভূমিকম্পে
পশ্চিম গম্বুজের
পতন।
৯৯৪: দীর্ঘদিন
বন্ধ থাকার
পর পুনর্নির্মাণ
সম্পন্ন করে
চার্চের জন্য
খুলে দেয়া
হয়।
১২০৪:
১২০২-১২০৪
পর্যন্ত খ্রিস্টীয়
চতুর্থ ক্রুসেড
বা ধর্মযুদ্ধের
নেতৃত্ব দেন
পোপ তৃতীয়
ইনোসেন্ট। মুসলমানদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ
হলেও ক্রুসেডাররা
গ্রিক-খ্রিস্টান
শাসনাধীন কনস্ট্যান্টিনোপল
দখল করে
নেয় এবং
হায়া সোফিয়া
লুটতরাজ করে
শূন্য করে
দেয়। অতঃপর
১২০৪ সালে
এখানে ক্যাথলিক
গির্জা প্রতিষ্ঠা
হয়।
১২৬১:
ক্যাথলিক বিতাড়ন,
পুনরায় এটি
ইস্টার্ন অর্থোডক্স
চার্চে রূপান্তরিত।
১৩৪৪:
ভূমিকম্পে পুরো
ইমারত ক্ষতিগ্রস্ত।
১৩৪৬:
বিভিন্ন অংশ
ভেঙে পড়তে
থাকায় জীবনের
জন্য ঝুঁকিবহুল
বিবেচনা চার্চ
সার্ভিস ও
ভবন বন্ধ
করে দেয়া
হয়।
১৩৫৪:
মেরামত ও
পুনর্নির্মাণের পর
আবার খুলে
দেয়া হয়।
১৪৫৩:
ওসমানীয় শাসক
দ্বিতীয় সুলতান
মাহমুদের বাহিনী
১৪৫৩ সালে
কনস্ট্যান্টিনোপল (বর্তমান
ইস্তাম্বুল) জয়
করে শহরে
ব্যাপক লুটতরাজ
চালায়। হায়া
সোফিয়া গির্জায়
আশ্রিতদের অনেককেই
ক্রীতদাস হিসেবে
বিক্রি করে
দেয়া হয়।
হায়া সোফিয়াকে
মসজিদ হিসেবে
ঘোষণা হয়।
জুমার নামাজের
মধ্য দিয়ে
মসজিদের কার্যক্রম
শুরু হয়।
যেসব অলংকরণ
ও স্থাপত্যকর্ম
ইসলাম ধর্মের
সাথে সাংঘর্ষিক
মনে করা
হয়, তা
ঢেকে ফেলা
হয়, বিনষ্ট
করা হয়।
চারটি মিনারের
পরিকল্পনা করা
হয়।
১৫৭৩:
হায়া সোফিয়ার
বহিরাবরণে অনেক
পরিবর্তন ঘটে।
কোরআনের বাণী
ক্যালিগ্রাফিতে চিত্রিত
হয়।
১৭১৭:
বিপুল অর্থ
ব্যয়ে অভ্যন্তর
সজ্জা সম্পন্ন।
১৭৩৪:
মূল ইমরাতের
সাথে পাঠাগার
ও মাদ্রাসা
সংযোজিত হয়।
১৮৪৭: পুরো
কাঠামো পর্যালোচনা
করে পুনর্গঠন
করার কাজ
শুরু হলে
মসজিদ সাময়িকভাবে
বন্ধ করে
দেয়া হয়।
১৮৪৯:
মসজিদ প্রার্থনার
জন্য খুলে
দেয়া হয়।
১৯১৯:
মহাযুদ্ধকালে একজন
গ্রিক সামরিক
ধর্মযাজক হায়া
সোফিয়ায় স্বল্পকাল
চার্চের কার্যক্রম
চালান।
১৯৩৫:
প্রথম প্রেসিডেন্ট
কামাল আতাতুর্ক
তার রাষ্ট্রীয়
মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার
সাথে সংগতি
রেখে ডিক্রি
জারি করে
হায়া সোফিয়াকে
জাদুঘর হিসেবে
ঘোষণা করেন।
ফলে তা
খ্রিস্টীয় ও
মুসলিম ঐতিহ্যের
একটি মিলনক্ষেত্র
হিসেবে বহুল
প্রশংসিত হয়।
হালে প্রতি
বছর প্রায়
৩৫ লাখ
দর্শক এ
জাদুঘর দেখতে
আসত।
২০২০:
তুর্কি কাউন্সিল
অব দ্য
স্টেট মসজিদকে
জাদুঘর ঘোষণার
ডিক্রি বাতিল
করে দেয়।
আদালতের চূড়ান্ত
রায় এবং
ক্ষমতাসীন দলের
ইচ্ছা অনুযায়ী
প্রেসিডেন্ট এরদোগান
ডিক্রি জারি
করে একে
মসজিদ ঘোষণা
করেন। ২৪
জুলাই জুমার
নামাজের মাধ্যমে
হায়া সোফিয়া
মসজিদের নবযাত্রা।
তুরস্কের
গোড়া মুসলমানরা
কখনই কামাল
আতাতুর্ককে মেনে
নেননি। তখন
থেকেই তুরস্কে
লিবারেল মুসলমান
ও অর্থোডক্স
মুসলমানদের মধ্যে
বিরোধ লেগেই
ছিল। হায়া
সোফিয়াকে মসজিদে
রূপান্তর করার
দাবি সাত
দশকের বেশি
সময় ধরে
রাজনীতির একটি
ধারার সৃস্টি
করেছে। নির্বাচন
সামনে রেখে
প্রেসিডেন্ট রিসেপ
তাইয়েপ এরদোগানের
এ ঘোষণা
তার জন্য
‘পলিটিক্যাল ডিভিডেন্ড’—একটি
রাজনৈতিক লভ্যাংশ
বয়ে আনবে
বলে পর্যবেক্ষকরা
মনে করেন।
কনস্ট্যান্টিনোপল: শেষ মহা অবরোধ ১৪৫৩
রজার
ক্রাউলি অব
বই কনস্ট্যান্টিনোপল: দ্য
লাস্ট গ্রেট
সিজ ১৪৫৩-তে
উল্লেখ করছেন:
‘তিনি
ভূমিতে মাথা
আনত করলেন,
আল্লাহর প্রতি
বশবর্তিতা প্রদর্শন
করে তার
পাগড়ির ওপর
খানিকটা ধুলি
ছড়িয়ে দিলেন,
তারপর (তার
সৈন্যদের দ্বারা)
বিদ্ধস্ত চার্চের
ভেতর ঢুকলেন।
তিনি দেখলেন
ভেতরে বিশাল
পরিসর আর
মাথার ওপর
বিশাল সুউচ্চ
গম্বুজের দিকে
তাকালেন। তারপর
তার চোখে
পড়ল একজন
সৈনিক মার্বেল
পাথরে তৈরি
মেঝে ভাংচুর
করছে।
কেন সে
ভাংচুর করছে,
তিনি কারণ
জিজ্ঞস করলেন।
মুসলমান সৈনিক
জবাব দিল
তার ধর্মীয়
বিশ্বাসের জন্য।
তিনি সব
ভবন সুরক্ষিত
রাখার নির্দেশ
দিয়েছিলেন। কিন্তু
তার আদেশ
লঙ্ঘিত হচ্ছে
দেখে তিনি
ক্ষিপ্ত হলেন।
সুলতান মোহাম্মদ
তার তরবারি
দিয়ে সেই
সৈনিককে আঘাত
করলেন। মোহাম্মদের
পরিচারকরা সৈনিকটিকে
অর্ধমৃত অবস্থায়
ছেচড়াতে ছেচড়াতে
বের করে
নিয়ে যায়।
হায়া সোফিয়ায়
প্রথমবার প্রবেশের
পর এই
ছিল উসমানীয়
শাসক সুলতান
দ্বিতীয় মোহাম্মদের
অভিব্যক্তি।’
বিশ্বাস। ধর্মীয়
বিশ্বাস। অর্থোডক্স,
ক্যাথলিক, অর্থোডক্স,
ইসলাম, সেকুলারিজম
পুনরায় ইসলাম।
মনে করা
হচ্ছে মানুষের
বিশ্বাসের ক্রীড়নক
হচ্ছে এই
প্রসিদ্ধ ইমারত,
বাইজেন্টাইন স্থাপত্যে
যার সূচনা,
সেই হায়া
সোফিয়া।
জাদুঘর থেকে
মসজিদ
যখন
তুর্কি স্বাধীনতার
যুদ্ধ চলতে
থাকে, তখন
মুস্তাফা কামালকে
ইসলামপন্থীদের বেশ
কয়েকটি বিদ্রোহ
সামাল দিতে
হয়। এর
মধ্যে কয়েকটির
নেপথ্যে ও
প্রকাশ্যে ছিল
উসমানিয়া রাজবংশের
প্রতিনিধিরা, অন্যগুলোতে
সামন্ত ও
ধর্মীয় নেতারা।
১৯২৪ সালের
মধ্যে খিলাফতপন্থীদের
বিলুপ্তি ঘটে।
সব শরিয়াহ
আদালত নিষিদ্ধ
হয়। ১৯২৫
সালে সুফিবাদীদের
রাজনৈতিক কার্যক্রম
বন্ধ করে
দেয়া হয়।
কামাল মনে
করলেন, হায়া
সোফিয়াকে মসজিদ
হিসেবে রাখা
হলে এটি
হয়ে উঠবে
খেলাফতপন্থী ও
ইসলামভিত্তিক রাজনীতি
চর্চাকারীদের একটি
মিলনক্ষেত্র। তিনি
১৯৩৪ সালে
রাষ্ট্রীয় ডিক্রি
জারি করে
এটিকে জাদুঘর
ঘোষণা করলেন।
সম্প্রতি হায়া
সোফিয়াকে মসজিদ
ঘোষণার পর
পোপ ফ্রান্সিস,
ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের
ধর্মগুরু বলেছেন,
আমি সান্তা
সোফিয়ার কথা
ভাবি এবং
কষ্ট পাই।
অর্থোডক্স খ্রিস্টীয়
সম্প্রদায়ের বৃহত্তর
কেন্দ্র চার্চ
অব রাশা
একই রূপান্তর
ঠেকাতে অনেক
আকুতিমিনতি জানিয়েছে।
নোবেল পুরস্কার
বিজয়ী তুর্কি
ঔপন্যাসিক ওরহান
পামুক বলেছেন,
জাদুঘরকে মসজিদে
রূপান্তরের সিদ্ধান্ত
ধর্মনিরপেক্ষ মুসলমান
হিসেবে তুর্কিদের
যে অহংকার
তা হরণ
করে নেবে।
তিনি বলেন,
‘আমার মতো
লাখ লাখ
তুর্কি রয়েছেন,
যারা এ
রূপান্তরের বিরুদ্ধে,
তারা কাঁদছেন,
কিন্তু তাদের
কণ্ঠস্বর শোনা
যাচ্ছে না।’
অবশ্য তুর্কি
সরকারের ভাষ্য
ভিন্ন। হায়া
সোফিয়া মুসল্লিদের
জন্য যেমন,
পর্যটকদের জন্যও
তেমনি খোলা
থাকবে। বিদেশী
এক পর্যটক
অবশ্য বলছেন,
মসজিদ না
গির্জা না
জাদুঘর তাতে
আমার কিছু
এসে যায়
না—আমি
সবকিছু দেখতে
পেলেই সন্তুষ্ট।
২০০৭ সালে
গ্রিক আমেরিকান
রাজনীতিবিদ ক্রিস
স্পিরো হায়া
সোফিয়াকে জাদুঘর
থেকে মুক্ত
করে একে
পুনরায় খ্রিস্টীয়
চার্চ বানানোর
জন্য আন্তর্জাতিক
আন্দোলন গড়ে
তোলেন। তার
আন্দোলনের নাম
‘ফ্রি হায়া
সোফিয়া কাউন্সিল’।
অন্যদিকে প্রায়
৭০ বছর
ধরে মুসলমানদের
একটি অংশ
তো একে
মসজিদে রূপান্তর
করার দাবি
জানিয়ে আসছিল।
চার্চ বানানোর
আবেদন তাদের
এতটাই সংগঠিত
করে যে
২০১৩ সালের
নভেম্বরে তুর্কি
সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী
বুলেন্ত আরিঙ্ক
আনুষ্ঠানিকভাবে একে
মসজিদে হস্তান্তরের
দাবি জানান।
পোপ ফ্রান্সিস
আর্মেনিয়ান গণহত্যা
নিয়ে কথা
বলতে শুরু
করলে আঙ্কারার
মুফতি বলেন,
পোপের কারণে
এই জাদুঘরের
মসজিদে রূপান্তর
আলো ত্বরান্বিত
হবে।
১০ জুলাই
২০২০ তুর্কি
কাউন্সিল অব
স্টেট চূড়ান্ত
রায়ে উল্লেখ
করে, হায়া
সোফিয়ার মালিকানা
দালিলিকভাবে সুলতান
মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের।
ওয়াকফকৃত এ
সম্পত্তির দলিলে
যা মসজিদ
হিসেবে উল্লেখ
করা হয়েছে,
তার প্রকৃতি
বদলানোর অধিকার
কারো নেই।
স্টেট কাউন্সিল
উল্লেখ করে,
সুলতান এ
সম্পত্তি ও
মসজিদ জনগণের
ব্যবহারের জন্য
দিয়ে যান।
আইনজীবীরা ব্যাখ্যা
দেন যে
এ সম্পত্তি
রাষ্ট্রের মালিকানাধীন
ছিল না।
এটা ছিল
সুলতানের ব্যক্তিগত
সম্পত্তি। কাজেই
১৯৩৪ সালে
আতাতুর্কের কাউন্সিল
অব মিনিস্টার্স
একে জাদুঘরে
রূপান্তরের যে
সিদ্ধান্ত নিয়েছিল,
তার আইনি
বৈধতা নেই।
এম এ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা





