জার শাসন
অবসান ও
রোমানভ রাজপরিবারের
চরম পরিণতির
অনেক কারণের
একটি হয়ে
বিরাজ করছে
রাসপুটিনের উত্থান।
১৯১৬ সালের
ডিসেম্বরে গ্রেগরি
রাসপুটিন জার
দ্বিতীয় নিকোলাসকে
নিজের মৃত্যু
নিয়ে একটি
চিঠি লেখেন:
আমি অনুভব
করছি পহেলা
জানুয়ারির (১৯১৭)
আগেই আমাকে
পৃথিবী ত্যাগ
করে যেতে
হবে। আমি
রুশ জনগণ,
পাপা (জার),
রুশ মাতা
(জারিনা) এবং
সন্তানদের জানাতে
চাই যদি
আমি সাধারণ
ঘাতক—বিশেষ
করে আমার
ভাই রুশ
কৃষকদের হাতে
নিহত হই,
তাহলে জারের
আশঙ্কার কোনো
কারণ নেই,
তার পরিবার
শত শত
বর্ষ রাজত্ব
করবে। কিন্তু
আমি যদি
অভিজাতদের হাতে
খুন হই,
আমার যদি
রক্ত ঝরে,
২৫ বছর
তাদের হাত
রক্তে রঞ্জিত
থাকবে, যদি
আপনার আত্মীয়দের
কেউ আমার
মৃত্যু ঘটায়,
তাহলে দেখে
নেবেন দুই
বছরের মধ্যে
আপনার সন্তানদেরও
পৃথিবী থেকে
বিদায় নিতে
হবে। রাসপুটিনের
এ ভবিষ্যৎ
দর্শন মিথ্যে
হয়নি।
রা রা
রাসপুটিন/লাভার
অব দ্য
রাশান কুইন রাসপুটিনকে
নিয়ে বনি
এমের এই
ডিস্কো গান
যখন সত্তরের
দশকের শেষ
দিকে তরুণ
প্রজন্মের কানে
বাজল, শুরু
হয়ে গেল
নতুন ক্রেজ।
এক সময়
গণধিক্কৃত খলনায়ক
নতুন যুুগের
মানুষের কাছে
হয়ে উঠলেন
পূজনীয় নায়ক।
তখন সবার
মুখে মুখে
রা রা
রাসপুটিন/লাভার
অব দ্য
রাশান কুইন।
গানের বাণী
ও সুরে
রাসপুটিনকে বনি
এম নতুন
করে অভিষিক্ত
করে—যে
রাসপুটিনের চোখে
জ্বলজ্বলে আভা,
যার ভেতরে
লুকানো জাদু,
যে রাশিয়ার
শ্রেষ্ঠ প্রণয়যন্ত্র
এবং রুশ
রাজরানীর প্রেমিক
পুরুষ।
RA RA RASPUTIN
Lover of the Russian queen
There was a cat that really was gone
RA RA RASPUTIN
Russia’s greatest love machine
It was a shame how he carried on
গ্রেগরি ইয়েফিমোভিচ
রাসপুটিন: হিমশীতল
সাইবেরিয়ার তুরা
নদীর তীরের
একটি গ্রামে
দীনহীন কৃষক
পরিবারে রাসপুটিনের
জন্ম ১০
জানুয়ারি ১৮৬৯
এবং গুলিবিদ্ধ
হয়ে তার
মৃত্যু ১৭
ডিসেম্বর ১৯১৬,
রাসপুটিন তখন
রাশিয়ার অন্যতম
প্রধান ক্ষমতাবান
ব্যক্তি। তার
একমাত্র বোন
মারিয়া পানিতে
ডুবে মারা
যায়। তার
ভাই দিমিত্রি
একবার পানিতে
তলিয়ে যাচ্ছিল,
রাসপুটিন ঝাঁপিয়ে
পড়ে যখন
তাকে উদ্ধারের
চেষ্টা করে,
তখন দুজনেরই
তলিয়ে যাওয়ার
অবস্থা। এক
পথিক দুই
ভাইকে উদ্ধার
করে। দিমিত্রি
কয়েক দিনের
মধ্যে নিউমোনিয়ায়
মারা যায়,
রাসপুটিন দুটি
নিকট মৃত্যুর
স্মৃতি নিয়ে
বেড়ে ওঠে।
ছেলেবেলার কর্মকাণ্ডে
তার এক
ধরনের অতিপ্রাকৃতিক
ক্ষমতার পরিচয়
পাওয়া যায়।
রাসপুটিন ১৮
বছর বয়সে
একটি নিষিদ্ধ
খ্রিস্টান গোত্রের
সঙ্গে কিছু
সময়ের জন্য
সম্পৃক্ত হন।
এখানে ধর্মীয়
উপাসনার সঙ্গে
অতিমাত্রায় যৌনানন্দের
একটি মিশেলকে
ধর্মীয় রীতিনীতিতে
অঙ্গীভূত করা
হয়েছে।
উপাসনালয়ের চত্বর
ছেড়ে রাসপুটিন
মার্কারি নামক
একজন জ্ঞানীর
শিষ্যত্ব গ্রহণ
করেন। রাসপুটিন
১৮৮৬ সালে
প্রাস্কোভিয়া দুভ্রোভিনাকে
বিয়ে করেন।
তাদের সাত
সন্তানের মধ্যে
তিনটি সন্তান
দিমিত্রি, ভারভারা
এবং মারিয়া।
তার বিয়েবহির্ভূত
আরো একটি
সন্তান ছিল।
১৯০১ সালে
তীর্থযাত্রী হিসেবে
বাড়ি ছেড়ে
গ্রিস ও
ইসরায়েলে দুই
বছর পরিভ্রমণের
পর ১৯০৩
সালে সেন্ট
পিটার্সবার্গে একজন
‘হলিম্যান’
হিসেবে নিজেকে
প্রতিষ্ঠিত করেন
এবং রোগ
নিরাময় ও
ভবিষ্যৎ কথনের
খ্যাতি অর্জন
করেন।
রুশ সম্রাট
ও সম্রাজ্ঞী
জার নিকোলাস
টু এবং
জারিনা আলেকজান্দ্রা
সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার
জন্ম দিতে
না পারায়
(যদিও তারা
চারটি কন্যা
সন্তানের জনক-জননী)
হতাশাগ্রস্ত ছিলেন
এবং পুত্র
লাভের জন্য
মরিয়া হয়ে
উঠেছিলেন। অতীন্দ্রিয়
শক্তিধর হলিম্যানদের
কেউ কেউ
তাদের পাশে
দাঁড়িয়েছে। ১৯০৪
সালে আলেকজান্দ্রা
পুত্রসন্তান প্রসব
করলেন বটে;
কিন্তু শিশুটি
রাজরোগ হেমোফিলিয়ায়
আক্রান্ত। ডাক্তাররা
শাস্ত্রমতে তার
বেঁচে থাকার
আশা ছেড়ে
দিয়েছেন যখন,
তখন শিশুর
ভেতরে ও
বাইরে রক্তক্ষরণ
চলছে। প্রার্থনার
মাধ্যমে রোগ
নিরাময়কারী রাসপুটিনের
সঙ্গে যোগাযোগ
করে সম্রাজ্ঞীর
বান্ধবী ও
প্রিন্সেস আনা
ভাইরুবোভা। ১
নভেম্বর ১৯০৫
পিটারহফ প্রাসাদে
জার নিকোলাসের
সঙ্গে তার
প্রথম দেখা।
জার সেদিন
তার ডায়েরিতে
লিখলেন, তবলস্ক
প্রদেশের একজন
ঈশ্বর প্রেরিত
ব্যক্তির সঙ্গে
পরিচিত হয়েছি,
তার নাম
গ্রেগরি।
ঐতিহাসিক অরলান্ডো
ফিজেস মনে
করেন সেদিন
জারিনা আলেকজান্দ্রও
জারের সঙ্গে
ছিলেন। গ্রেগরি
রাসপুটিন জারকে
টেলিগ্রাম করে
তার পুত্রকে
হাজির করতে
বললেন। ১৮
জুলাই ১৯০৬
তার সঙ্গে
প্রথম জারেভিচ
(জারের পুত্র)
আলেক্সিস ও
জারের কন্যা
সন্তানদের প্রথম
সাক্ষাৎ হয়।
সাইবেরিয়ার চাষী
পরিবারের রাসপুটিন
রাজপ্রাসাদে এসে
রাজপুত্র আলেক্সির
যন্ত্রণা কমিয়ে
তাক লাগিয়ে
দিলেন। তিনি
টেলিগ্রামে নির্দেশ
পাঠালেন, ডাক্তাররা
তাকে নিয়ে
টানাহেঁচড়া যেন
না করে,
তাকে বিশ্রাম
করতে দাও—তার
নির্দেশনা সুফল
বয়ে আনে।
এতে শিশুর
প্রাকৃতিক নিরাময়
ক্ষমতা বিকাশের
সুযোগ পায়।
সন্দেহবাদীদের কেউ
কেউ মনে
করত রাসপুটিন
হিপনোসিসের মাধ্যমে
রাজপুত্রের যন্ত্রণা
হ্রাস করেছেন।
কারো ধারণা
জোঁক দিয়ে
তার দেহ
থেকে রক্ত
শুষিয়ে নিয়ে
তার অবস্থার
কিছুটা উন্নতি
করতে সক্ষম
হয়েছেন রাসপুটিন।
জার তাকে
মনে করেন
ঐশ্বরিক মানুষ
ও ধর্মগুরু।
আর জারিনা
আলেকজান্দ্রা বিশ্বাস
করেন, রাসপুটিনের
মাধ্যমে ঈশ্বর
তার সঙ্গে
কথা বলে
থাকেন।
সম্রাজ্ঞীর এ
বিশ্বাসের ভিত্তি
রাশিয়ার গোঁড়া
ধর্মাবলম্বী চার্চ
ও রাষ্ট্রীয়
নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের
অটুট সম্পর্ক।
জার্মান বংশোদ্ভূত
এ নারীর
প্রটেস্ট্যান্ট ধর্মমত
থেকে গোঁড়া
ধর্মমতের অনুসারী
হওয়ায় প্রার্থনার
মাধ্যমে আরোগ্য
লাভের বিশ্বাসকে
আরো দৃঢ়
করে তোলে।
অন্যদিকে রাসপুটিনের
দুর্নিবার সম্মোহনী
শক্তি এবং
তার ওপর
আলেকজান্দ্রার ক্রমনির্ভরশীলতা
তাকে রাজপরিবারের
জন্য অপরিহার্য
করে তোলে।
রাসপুটিন আসলেই
‘লাভার
অব দ্য
রাশান কুইন’
ছিল কিনা
এ নিয়ে
বির্তক শেষ
হয়নি। কিন্তু
যে বিষয়টি
নিয়ে বিতর্ক
নেই, তা
হচ্ছে জার
ও জারিনার
ওপর তার
অস্বাভাবিক প্রভাব।
রাসপুটিন কি
ডেভিল?
তিনি
আদৌ ধর্মযাজকই
ছিলেন না।
রাসপুটিন মানুষের
মুক্তির জন্য
চার্চ ও
ধর্মযাজকদের ওপর
নির্ভরশীলতা কমিয়ে
সরাসরি নিজের
ভেতরের ঐশ্বরিক
আত্মার অনুসন্ধানের
কথা বলেন,
ফলে চার্চনির্ভর
সবাই তার
ওপর ক্ষিপ্ত
থাকে। রাজপ্রসাদের
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব
হয়ে ওঠায়
এবং সম্রাট
ও সম্রাজ্ঞীর
মাধ্যমে ক্ষমতা
প্রয়োগের সুযোগ
পাওয়ায় খুব
দ্রুত বিতর্কিত
হয়ে ওঠেন।
রাসপুটিন জড়িয়ে
যান রাজতন্ত্র
সংরক্ষণবাদী ও
রাজতন্ত্র বিলোপবাদীদের
বিতর্কে, বিপ্লবীরাও
তাকে দেখতে
থাকে সন্দেহের
চোখে। তার
বিরুদ্ধে অভিজাত
শ্রেণীর বিশিষ্টজনদের
অভিযোগ জমা
হতে থাকে—এর
মধ্যে তার
অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচার
থেকে শুরু
করে রাজপরিবারের
ওপর রাজনৈতিক
প্রভাব বিস্তারের
অভিযোগ রয়েছে।
অভিজাতদের একটি
অন্যতম ভাষ্য
হচ্ছে একজন
চাষী কোনোভাবেই
রাজপরিবারের সান্নিধ্যে
আসার যোগ্যতা
রাখে না।
জারিনার প্রশ্রয়ই
রাজতন্ত্রের জন্য
এবং রাশিয়ার
জন্য দুর্যোগ
ডেকে আনছেন।
চার্চ তার
বিরুদ্ধে একজন
নানকে ধর্ষণের
অভিযোগ আনে,
অনৈতিক ধর্মচর্চার
কথা বলে।
আদালতকে প্রভাবান্বিত
করে রায়
আদায়ের জন্য
ঘুষ গ্রহণের
অভিযোগ ওঠে।
জারিনা আলেকজান্দ্রার
সঙ্গে তার
অবৈধ সম্পর্কও
আলোচনার বিষয়বস্তু
হয়ে ওঠে।
এদিকে প্রথম
মহাযুদ্ধ সম্রাজ্ঞীকেও
বিতর্কিত করে
তোলে। সম্রাজ্ঞী
মূলত জার্মান
হওয়ায় খুব
সহজেই তাকে
জার্মানির গুপ্তচর
হিসেবে অভিযুক্ত
করা যায়।
রাসপুটিন ইচ্ছে
ব্যক্ত করেন
মহাযুদ্ধের ময়দানে
গিয়ে রুশ
সৈনিকদের আশীর্বাদ
করে আসবেন।
এর প্রতিক্রিয়া
জানাতে গিয়ে
রুশ কমান্ডার
ইন চিফ
গ্র্যান্ড ডিউক
নিকোলাস বলেন,
রাসপুটিন রণক্ষেত্রে
এলে সেখানে
তাকে ফাঁসিতে
ঝুলিয়ে হত্যা
করা হবে।
অতঃপর রাসপুটিন
ঈশ্বর প্রদত্ত
বার্তা শোনালেন,
যুদ্ধে জিততে
হলে জারকে
ব্যক্তিগতভাবে সেনাবাহিনীর
কমান্ড গ্রহণ
করে রণক্ষেত্রে
পরিচালকের দায়িত্ব
পালন করতে
হবে। অপ্রস্তুত
জার নিকোলাস
রণাঙ্গনে চলে
গেলে সম্রাজ্ঞী
আলেকজান্দ্রা সম্পূর্ণ
তার কব্জায়
চলে আসে।
সম্রাজ্ঞীর আস্থাভাজন
উপদেষ্টা হিসেবে
সমাজের উপরিস্তরের
মহিলাদের রাজনৈতিক
সুবিধাদানের বিনিময়ে
তাদের সঙ্গসুখ
তার কাছে
উপভোগ্য হয়ে
ওঠে। মহাযুদ্ধ
রুশ অর্থনীতিকে
পঙ্গু করে
দেয়। রাজতন্ত্রের
বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
শুরু হয়।
রাসপুটিনের ভূমিকা
যত গৌণই
হোক না
কেন, জনগণকে
এ ধারণা
দেয়া সম্ভব
হয় যে
সব অপকর্মের
হোতা রাসপুটিন।
একজন চাষী
কেমন করে
সম্রাজ্ঞীর উপদেষ্টা
হয়? কেমন
করে সম্রাজ্ঞী
একজন চাষীর
ভোগের সামগ্রী
হন? রাসপুটিন
রুশ আভিজাত্যবাদের
ভিত নাড়িয়ে
দেয়। রুশ
পার্লামেন্ট ‘ডুমা’তেও
রাসপুটিন হটাও
প্রস্তাব আনা
হয়।
মুক্তির পথ—রাসপুটিনকে
হত্যা করা।
সম্রাজ্ঞীর পাশে
চাষাভুষার উপস্থিতি
অভিজাতদের জন্য
অসহ্য। জননী
রাশিয়াকে রাসপুটিনের
কালো থাবা
থেকে মুক্ত
করতে, রাজতন্ত্রকে
অক্ষত রাখতে
রাজপরিবারের সদস্যদের
কয়েকজনসহ অভিজাতদের
একদল এই
‘হলিম্যান’কে
হত্যার পরিকল্পনা
করে।
পরিকল্পনাকারীরা রাসপুটিনের
নারীবিষয়ক দুর্বলতাকেই
মূলধন করে
এগোয়, প্রিন্স
ফেলিক্স ইউসুপভ
তার সুন্দরী
স্ত্রী আইরিনাকে
টোপ হিসেবে
ব্যবহার করে।
আইরিনা জার
নিকোলাসের ভ্রাতুষ্পুত্রী।
রাসপুটিন চিকিৎসার
নামে তার
সঙ্গ লাভের
প্রস্তাবটি সানন্দে
লুফে নেয়।
কিন্তু আইরিনা
টোপ হতে
সম্মত হয়নি।
বিষয়টি গোপন
রেখেই রাসপুটিনকে
প্রিন্স তার
‘মইকা
প্রাসাদে’ নিয়ে
আসেন, সহযোগীদের
মাধ্যমে তাকে
সেলারে ডাইনিং
রুমে নিয়ে
যান, সায়ানাইড
বিষ মেশানো
রেড ওয়াইন
ও কেক
খাওয়ান। যে
পরিমাণ বিষ
তাকে সেবন
করানো হয়েছিল
তাতে পাঁচজনের
মৃত্যু নিশ্চিত,
কিন্তু বলা
হয়ে থাকে
এমনকি সায়ানাইড
বিষের প্রতিরোধক
তার দেহে
থাকায় বিষ
তাকে স্পর্শ
করেনি। এতে
রাসপুটিনের মৃত্যু
না হওয়ায়
তাকে চারবার
গুলি করা
হয়, মুগুর
দিয়ে আঘাত
করা হয়,
শিশ্ন কেটে
ফেলা হয়।
তাকে কার্পেটে
পেঁচিয়ে বরফ
জমা নদীতে
বরফের নিচে
ঠেলে দেয়া
হয়। তিনদিন
পর যখন
তার মরদেহ
উদ্ধার করা
হয়, তখন
সে কার্পেটের
বাঁধনমুক্ত। অনড়
হাতের অবস্থান
থেকে অনুমান
করা হয়
জীবিত অবস্থাতেই
তাকে নদীতে
বরফচাপা দেয়া
হয়েছিল, সে
অবস্থায় বরফ
ভেঙে সে
উপরে ওঠার
চেষ্টা করেছে।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে
উল্লেখ করা
হয়, পানিতে
শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায়
তার মৃত্যু
হয়েছে। পানিতে
ডোবার পরও
যে তার
ফুসফুস সক্রিয়
ছিল এর
সাক্ষ্য রিপোর্টে
রয়েছে।
ব্যথিত, শোকাহত
জারিনা আলেকজান্দ্রা
রাসপুটিনকে সসম্মানে
সমাহিত করেন।
তিনি চেয়েছিলেন
ফেলিক্স ইউসুপভকে
ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
মৃত্যুদণ্ড দেয়া
হোক, কিন্তু
শেষ পর্যন্ত
তা হয়নি।
ফেলিক্স ও
তার স্ত্রী
দেশান্তরী হয়ে
যান। কিন্তু
বিপ্লবের পরপরই
সেন্ট পিটার্সবার্গের
একদল বিপ্লবী
শ্রমিক তাকে
সমাধিস্থল থেকে
উঠিয়ে নিকটবর্তী
জঙ্গলে এনে
আগুন ধরিয়ে
দেয়। দেহ
যখন দাউ
দাউ আগুনে
পুড়েছিল, নিহত
রাসপুটিন একবার
স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে
বসে (পায়ের
টেন্ডন না
কাটার কারণে
এ চাঞ্চল্যকর
ঘটনাটি ঘটেছে
বলে বিশেষজ্ঞরা
মনে করেন)।
রাজতন্ত্র টেকেনি।
বলশেভিক বিদ্রোহীরা
ক্ষমতা দখল
করে। অবিসংবাদিত
নেতা হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করেন
ভ্লাদিমির ইলিচ
লেনিন। বলা
হয়ে থাকে—রাসপুটিন
ছাড়া লেনিনের
অভ্যুদয় সম্ভব
ছিল না।
উইদাউট রাসপুটিন
দেয়ার ওড
হ্যাভ বিন
নো লেনিন।
রাসপুটিনের পুনরুত্থান
সিনেমা নাটক
গানে। রাসপুটিনকে
নিয়ে প্রথম
নির্মিত ছায়াছবি
‘রাসপুটিন:
দ্য ব্ল্যাক
মঙ্ক’।
১৯১৭ সালের
অক্টোবরে প্রদর্শিত
হয়। ছবিটির
কোনো কপি
এখন আর
সংরক্ষিত নেই।
এমজিএম স্টুডিওতে
নির্মিত ১৯৩১
সালের ছবি
‘রাসপুটিন
অ্যান্ড দ্য
এমপ্রেস’-এ
নাম ভূমিকায়
অভিনয় করেন
লায়নেল বেরিমুর
ও আলেকজান্দ্রার
ভূমিকায় ইথেল
বেরিমুর। আলফ্রেড
নিউম্যানের উপন্যাসের
ওপর ভিত্তি
করে নির্মিত
ফরাসি ছায়াছবি
‘রাসপুটিন’
মুক্তি পায়
১৯৩৮ সালে।
১৯৮০ সালে
মুক্তিপ্রাপ্ত: ‘হার্লেকুইন’;
রবার্ট পাওয়েল
গ্রেগরি ওল্ফ
নামক চরিত্রটিতে
অভিনয় করেন,
গ্রেগরিই একালের
রাসপুটিন। এর
পরও বহুবার
রাসপুটিনকে নিয়ে
ছবি বানানো
হয়েছে। শেষ
ছবিটি হয়
২০০৪ সালে
‘হেলবয়’
নামে।
বিখ্যাত ব্যান্ড
দলগুলো তাকে
নিয়ে গান
বেঁধেছে। শিশু
কিশোরদের ভিডিও
গেম শোতেও
রাসপুটিনের উপস্থিতি।
রুশ বিপ্লবের
পর রাসপুটিনের
কন্যা মারিয়া
রাসপুটিন (১৮৯৮-১৯৭৭)
ফ্রান্সে পালিয়ে
যান, সেখান
থেকে যুক্তরাষ্ট্রে
গিয়ে স্থায়ী
বসতি স্থাপন
করেন। তিনি
নৃত্যশিল্পী এবং
সার্কাসে সিংহবশীকরণ
নারী (লায়ন
টেইমার) হিসেবে
জীবনধারণ করেন।
এবার রাসপুটিনের
চোখ। এলেনা
জানুমোভা তার
ডায়েরিতে লিখেছিল
‘কী
সেই চোখ’।
তার দৃষ্টি
বেশিক্ষণ সহ্য
করা যায়
না। একটা
জটিল কিছু
তার মধ্যে
রয়েছে, এমনকি
তার চোখে
যখন করুণার
আভা, তখনো
মনে হবে
আপনার শরীরের
ওপর চাপ
পড়ছে, কিন্তু
কতটা নির্মম
সে হতে
পারে, ক্রোধে
কত ভয়ংকর
হতে পারে।
রাসপুটিনের ভবিষ্যৎ
বাণীর দুই
বছর পূর্তির
আগেই জার
নিকোলাস, জারিনা
আলেকজান্দ্রা ও
তাদের সন্তানসন্তুতি
বিদ্রোহীদের হাতে
নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ
করেন। আর
রাসপুটিন নিহত
হয় পহেলা
জানুয়ারির আগেই,
১৭ ডিসেম্বর।
১৭ জুলাই
১৯১৮ মধ্যরাতে
একটি বেজমেন্টে
ঢুকিয়ে অত্যন্ত
নির্মমভাবে জার
নিকোলাসের পরিবারের
সবাইকে নির্মমভাবে
হত্যা করা
হয়। তখনো
তাদের চার
কন্যা ওলগা,
তাতিয়ানা, মারিয়া,
আনাস্তাসিয়ার গলায়
ছিল রাসপুটিনের
ছবিসংবলিত মাদুলি।
আন্দালিব রাশদী: কথাসাহিত্যিক





