এ-জাতীয় অনেক প্রশ্নের উত্তরের জন্য ইতিহাসবিদ কিংবা সমাজবিজ্ঞানীদের সহায় হয়েছে খনার বচন কিংবা কৃষিপরাশরের শ্লোক, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন ও প্রত্ন নিদর্শনাদি। খনার বচন কিংবা কৃষিপরাশর বাংলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ধান চাষ ও কৃষিবিষয়ক নানা তথ্য গবেষক মহলে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু আকরসূত্রদ্বয়ের কালপর্ব সাধারণ অব্দের প্রথম-দ্বিতীয় সহস্রাব্দ; যেখানে প্রাকলিখন পর্ব তথা প্রাক-সাধারণ অব্দের খবর নেই। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজ হয়তো একই রকম ছিল। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় বাংলায় কৃষিভিত্তিক সভ্যতা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর খবর পাওয়া যায় প্রাক-সাধারণ অব্দ দ্বিতীয় সহস্রাব্দ থেকে সাধারণ অব্দ প্রথম সহস্রাব্দ পর্যন্ত। বর্তমান লেখনীতে গত ছয় দশক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পরিচালিত উৎখনন প্রতিবেদনের আলোকে বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের সূচনাপর্বের, বিশেষত ধান চাষের ইতিহাস খোঁজার চেষ্টা করা হবে। সময় ও পরিসর বিবেচনায় বিষয়ের সামগ্রিক আলোচনা উপস্থাপনে বর্তমান প্রবন্ধকার অপারগতার দায়ভার এড়াতে পারেননি। গুণী পাঠক সেটিকে মার্জনা করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।
বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলার অজয় নদীতীরবর্তী পাণ্ডুরাজার ঢিবি প্রত্নস্থলে পরিচালিত উৎখননে লোহার কাস্তে, নানা রকম মৃৎপাত্র, নলখাগড়ায় মাটির আস্তর দেয়া দেয়াল, বিভিন্ন ধরনের টেরাকোটা পুতুল (লম্বা নাসিকা, বড় চোখ, শক্ত চিবুক ও পাগড়ি পরা), মাটির পাত্রে রাখা অস্থি, মাটির চুলা ইত্যাদি নিদর্শন পাওয়া যায়। উপরিউক্ত প্রত্ন নিদর্শনাদি প্রমাণ করে এ এলাকায় বসতি স্থাপনকারী মানুষ যাযাবর জীবন থেকে কৃষিভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিল এবং তারা কৃষিকাজকে পশুপালনের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিল। এ উৎখননের সূত্র ধরে বক্রেশ্বর উপত্যকা থেকে রূপ নারায়ণ উপত্যকা পর্যন্ত রাঢ় অঞ্চলে বিস্তৃত কৃষিনির্ভর বসতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১৯৬৩-৬৪ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কোপাই নদীতীরবর্তী মহিষদল গ্রামের একটি ঢিবিতে উৎখনন করে। বিষ্ণুপ্রিয়া বসাক পশ্চিমবঙ্গের প্রাক-লিখন পর্বের পরিচয় দিতে গিয়ে এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। এটি মহিষদলে প্রাপ্ত বাংলার প্রথম ধানভাণ্ডারের অস্তিত্ববিষয়ক। বিষ্ণুপ্রিয়া বসাকের ভাষ্যমতে:
এই উৎখননে [মহিষদলে] দুটি স্তরে পাওয়া যায় কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্র ১ম স্তরে এবং লোহার হাতিয়ার ২য় স্তরে। ১ম স্তরে সাংস্কৃতিক নমুনা হিসেবে কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্র (সাদামাটা ও রঙ করা উভয়ই), লাল রঙ করা একটি পাত্র, ক্ষুদ্রাকৃতির পাথরের হাতিয়ার, সীমিত পরিমাণে তামা, স্টিটাইট ও স্বল্প মূল্যবান পাথরের পুথির দানা, হাড়নির্মিত হাতিয়ার ও চুড়ি, পোড়ামাটির খেলার সরঞ্জাম এবং অলংকৃত চিরুনির সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে নিদর্শন পাওয়া গেছে তা হলো কুয়োসদৃশ শস্যাগার, যা অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এর ভেতর থেকে পোড়া ধান পাওয়া গেছে; যার সময়কাল আনু. ১৬১৯-১৪১৫ প্রাক সা. অব্দ। খুব সম্ভবত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে এই সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। এই প্রত্নক্ষেত্রে জনবসতি ২য় যুগেও পাওয়া যায়। লৌহজাত সরঞ্জাম, কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্র ও ধূসর মৃৎপাত্র এ যুগের প্রধান প্রত্নবস্তু। কাদামাটির প্রলেপ এখানে ক্রমাগত বসতবাড়ি নির্মাণের প্রমাণ বহন করে। এ যুগের সমাপ্তি ঘটেছিল অগ্নিকাণ্ডের কারণে। (‘প্রাক্-লিখন পর্ব: পশ্চিমবঙ্গ’, ২০১৯, পৃষ্ঠা ৬৫)।
বাংলার প্রাক-লিখন পর্বের প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক বাংলার প্রাক-লিখন পর্বের ‘মানববসতি বিন্যাসের ধারা’ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে তাম্রপ্রস্তর যুগেই বাংলার দক্ষিণ-পশ্চিমে কৃষিভিত্তিক সমাজের বিস্তার ঘটে। তিনি প্রস্তাব করেন, ৭২টি প্রত্নস্থলে তাম্রপ্রস্তর সংস্কৃতির নিদর্শনাদি পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৩৩টি বীরভূম, ২৩টি বর্ধমান, আটটি বাঁকুড়া, সাতটি মেদিনীপুর এবং একটি মুর্শিদাবাদ জেলায়। ভূমিবিন্যাসের মানদণ্ডে ৪৭টির অবস্থান রাঢ় ভূমি ও ২৫টি বদ্বীপ অঞ্চলে। উল্লেখ্য, এর মধ্যে বীরভূম-আসানসোল রাঢ়ে প্রত্নস্থলের ঘনত্ব ও সংখ্যা বেশি (৩৭টি)। মো. মোজাম্মেল হকের প্রস্তাবে মহিষদল, পাণ্ডুরাজার ঢিবি ও মঙ্গলকোট থেকে উদ্ভিদাবশেষের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শেষ দুটি জায়গায় মাটির পাত্রের গায়ে পুড়ে যাওয়া ধানের তুষের নিদর্শন পাওয়া গেছে। (‘মানববসতি বিন্যাসের ধারা: প্রাগৈতিহাসিক ও প্রায়-ঐতিহাসিক যুগ’, ২০১৯, পৃষ্ঠা ১০৫-১১৩)।

পাণ্ডুরাজার ঢিবিতে মৃৎপাত্র
উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের প্রথম প্রশ্নটির উত্তর কিছুটা পাওয়া গেল যে বাংলায় প্রাক-সাধারণ অব্দ দ্বিতীয় সহস্রাব্দে প্রথম ধান চাষের সূচনা হয়। এ সময়েই বাংলার আদি মানবগোষ্ঠী যাযাবর তথা শিকার অহরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। বাঙালির ফুড কালেক্টর থেকে ফুড প্রডিউসার হওয়ার প্রমাণ আগে ছিল অনুমানভিত্তিক; কিন্তু পাণ্ডুরাজার ঢিবি, মহিষদল, মঙ্গলকোটের উৎখনন এটিকে করে তোলে বস্তুগত প্রমাণভিত্তিক।
প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকরসূত্র হলো লেখমালা, যার মধ্যে রয়েছে তাম্রশাসন, মূর্তিলেখ, শিলালেখ ইত্যাদি। এটিও এক ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম ধানের উল্লেখ পাওয়া যায় মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে। বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে পাওয়া লিপিটি ভারতের কলকাতার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। প্রাক-সাধারণ অব্দ তৃতীয় শতাব্দীর এ লিপিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষত প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের প্রশাসনিক প্রধানকে দেয়া আদেশে বলা হয়েছিল। সাত লাইনের লেখটির প্রথম অংশ ভাঙা এবং শেষ লাইনটি অস্পষ্ট হওয়ার কারণে পাঠযোগ্য নয়। আবদুল মমিন চৌধুরী প্রস্তুতকৃত লিপিটির মূল বক্তব্যের সারাংশ নিম্নরূপ:
এ লিপিতে একজন শাসক (নাম উল্লেখ নেই ) দ্বারা পুদ্নগল (লাইন ২, > পুণ্ড্রনগর)-এ অবস্থানরত মহামাত্রকে জারিকৃত একটি আদেশ নথিভুক্ত করা হয়েছে। উক্ত আদেশে সমবঙ্গীয়ানাম (লাইন ১ ও ৩) সম্ভবত সমবঙ্গীয়ম (?) (শহরের মধ্যে ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত) দের (অতিয়্যকে, কারণ অনুল্লিখিত) [শস্যভাণ্ডার থেকে] ধান্য (ধান্যম্- লাইন -৪) এবং [রাজ কোষাগার থেকে] মুদ্রা (গণ্ডক) দেওয়ার মাধ্যমে দুর্দশা মোচন করার জন্য বলা হচ্ছে। (‘বাংলার আদি পর্ব (আনু. সাধারণ অব্দের তৃতীয় শতক পর্যন্ত’, ২০১৯, পৃষ্ঠা ৪৮৩)
বাংলার ইতিহাসের আদি পর্ব রচনায় লেখটির উল্লেখ নানা প্রসঙ্গে হয়েছে। লেখটির একাধিক পাঠ ও বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ হয়েছে। হালফিলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুস্মিতা বসু মজুমদার লিপিটির পুনঃপাঠপূর্বক ইতিহাসের নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। আমার লেখার শিরোনামের প্রতি দৃষ্টি রেখে মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপির ইতিহাস ব্যাখ্যায় প্রবাদপ্রতীম ইতিহাসবিদ নীহাররঞ্জনের বক্তব্য উপস্থাপন করছি:

মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপি, বর্তমানে ভারতের কলকাতার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।
ছবি: বাংলাদেশের ইতিহাস আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতে আদি বাংলা (আনু. ১২০০ সা. অব্দ পর্যন্ত), ২০১৯, পৃ. ৪৮৩।
এই শিলাখণ্ড হইতে স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে যে, জনসাধারণের প্রধান উপজীব্যই ছিল ধান্য; দুর্গতি-দুর্ভিক্ষের সময়ও এই ধান্য-ঋণ গ্রহণই ছিল জীবনধারণের উপায়। রাজাও সেই উপায়ই অবলম্বন করিয়াছিলেন; এবং রাজ-কোঠাগারে দৈবদুর্বিপাক কাটাইবার জন্য ধান্য সংগ্রহ করিয়া রাখা হইত। এই বিপদে রাজা ধান বিনামূল্যে বিতরণ করেন নাই, ঋণ-স্বরূপ দিয়াছিলেন; অর্থও ঋণ-স্বরূপই দিয়াছিলেন, ইহা লক্ষণীয়। (বাঙ্গালীর ইতিহাস: আদি পর্ব, পৃষ্ঠা ১৬৫)
বিগত দুই দশকে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধীনে যশোর-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা জেলার বেশকিছু প্রত্নস্থলে উৎখনন পরিচালনা করা হয়। উৎখনন দলে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বরিশাল-খুলনা বিভাগের সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা, একেএম সাইফুর রহমান এবং উর্মিলা হাসনাত। খুলনা অফিসের তত্ত্বাবধানে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের ঢালিঝাড়া ঢিবিতে খনন করা হয়। প্রত্নস্থলটি সাধারণ অব্দ নবম-দশম শতাব্দীর একটি বিহার কমপ্লেক্স। খননে ইটনির্মিত বিহার স্থাপনা, নানা রকম মৃৎপাত্র, টেরাকোটা ইত্যাদির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে একাধিক লেভেলে কার্বনাইজড রাইস (সম্ভবত পোড়া, আধপোড়া ও সেদ্ধ চাল?) পাওয়া গেছে।
একই অফিসের অধীনে ২০২২ সালে উৎখনন শুরু হয় খুলনা জেলার পাইকগাছার রেজাকপুর গ্রামের কপিলমুনি ঢিবিতে। এখানে প্রাপ্ত ইটের দেয়াল ও প্রদক্ষিণপথ সংবলিত বর্গাকৃতির স্থাপনাটি সম্ভবত সাধারণ অব্দ নবম-দ্বাদশ শতাব্দীর একটি উপাসনালয়। স্থাপনাটির উত্তর-পশ্চিম দিকের প্রদক্ষিণপথে চাল ও কড়ি পাওয়া গেছে। এ দুটি প্রত্নস্থলই বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূলীয় জল-জমিনের অংশ। প্রত্নস্থল দুটিতে নিদর্শনাদির পাশাপাশি ধান প্রাপ্তি সুন্দরবন-সংলগ্ন খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা জেলায় মানববসতি গড়ে ওঠা ও কৃষির সম্প্রসারণের ইতিহাসকে নতুনভাবে উপস্থাপনা করে। এ এলাকায় কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কালক্রমকে সাধারণ অব্দের অষ্টম-ত্রয়োদশ শতাব্দী কালপর্বে নিয়ে যায়। এর আগের প্রস্তাব ছিল এ এলাকায় সুফি-সাধক খানজাহান আলী ও তার সহযোগীরা কৃষিকাজ বা আবাদ ভূমি প্রস্তুত করেন। এছাড়া রিচার্ড ম্যাক্সওয়েল ইটনের গঙ্গা নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং মোগল আমলে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপকভাবে কৃষিকাজের সম্প্রসারণের প্রস্তাব সবার সুবিদিত। আফরোজা খান মিতার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এটি স্পষ্ট যে সাধারণ অব্দের অষ্টম-নবম শতাব্দীতে বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূলীয় এলাকায় ধান চাষের প্রসার ঘটেছিল। সম্ভবত তা হয়েছিল আরেকটু আগেই। কেননা অষ্টম শতাব্দীর ইটনির্মিত স্থাপনাটি এ এলাকায় নগর-সভ্যতার ইঙ্গিত করছে। কৃষির উদ্বৃত্ত উৎপাদন না হলে যা সচরাচর হয় না।
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার রামপাল ইউনিয়ন অন্তর্গত সতীশের ডাঙ্গা প্রত্নস্থলে ২০১৪ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননে মধ্যযুগীয় (আনু. ১২০০-১৮০০ সা. অব্দ) একটি স্থাপনা ও বসতি উন্মোচন হয়। এ প্রত্নস্থলে ইটনির্মিত স্থাপনা, টেরাকোটা, মৃৎপাত্র ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১১ হাজার অঙ্গারিত উদ্ভিদ বীজ আবিষ্কৃত হয়েছে। যার মধ্যে ৮৭টি প্রজাতির ৯ হাজার ৮৬৯টি নমুনার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত শস্যদানার মধ্যে ১৬৯টি ধানের পূর্ণ দানা পাওয়া যায়; যার মধ্যে ৮৪টি ইন্ডিকা, ৩৯টি জাপোনিকা, ৪৪টি ইন্ডিকা-জাপোনিকা এবং দুটি আউশ উপপ্রজাতির দানা। এ প্রত্নস্থল নিয়ে গবেষণারত প্রত্ন-উদ্ভিদবিশারদ মিজানুর রহমানের উপসংহার হলো:
মধ্যযুগের বাংলায় তিন ধরনের এশিয়ান ধানের আবাদ হতো এবং সতীশের ডাঙ্গা হতে সর্বপ্রথম আউশ ধানের প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা আবিষ্কৃত হয়। এছাড়া চীনা উৎসজাত জাপোনিকা এবং দক্ষিণ এশিয়া উদ্ভূত ইন্ডিকা ধানও এখানকার কৃষকেরা চাষাবাদ করত। (‘মধ্যযুগীয় কৃষি: প্রত্ন-উদ্ভিদ সমীক্ষা’, ২০১৯, পৃষ্ঠা ৯০)
বাংলার কৃষি ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অজানা। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্ন-উদ্ভিদ গবেষণার মাধ্যমে বাংলার ধান চাষের ইতিহাস রচনায় বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা পদ্ধতির দুয়ার উন্মোচন করেছেন প্রত্ন-উদ্ভিদবিশারদ মিজানুর রহমান। আশা করা যায় তার দেখানো পথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেকেই এ বিষয়ে নতুন তথ্য পাঠকের দরবারে উপস্থাপন করবেন।
সহায়ক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ তালিকা
নীহাররঞ্জন রায়, বাঙ্গালীর ইতিহাস: আদি পর্ব, কলিকাতা: বুক এমপোরিয়াম।
আবদুল মমিন চৌধুরী, বাংলার আদি পর্ব (আনু. সাধারণ অব্দের তৃতীয় শতক পর্যন্ত), আবদুল মমিন চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলাদেশের ইতিহাস আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতে আদি বাংলা (আনু. ১২০০ সা. অব্দ পর্যন্ত) প্রথম খণ্ড প্রত্নতত্ত্ব রাজনৈতিক ইতিহাস রাষ্ট্রগঠন, ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০১৯: ৪৭৯-৪৮৮।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যয়, পাণ্ডুরাজার ঢিবি, আবদুল মমিন চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলাদেশের ইতিহাস আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতে আদি বাংলা (আনু. ১২০০ সা. অব্দ পর্যন্ত) প্রথম খণ্ড, ২০১৯: ৩০৫-৩১২।
‘ঢালিঝাড়া’, বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা এবং বরিশার বিভাগ থেকে প্রকাশিত লিফলেট।
মো. মোজাম্মেল হক, ‘মানববসতি বিন্যাসের ধারা: প্রাগৈতিহাসিক ও প্রায়-ঐতিহাসিক যুগ’, আবদুল মমিন চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলাদেশের ইতিহাস আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতে আদি বাংলা (আনু. ১২০০ সা. অব্দ পর্যন্ত) প্রথম খণ্ড, ২০১৯: ৮৫-১১৬।
বিষ্ণুপ্রিয়া বসাক, ‘প্রাক-লিখন পর্ব: পশ্চিমবঙ্গ’, আবদুল মমিন চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলাদেশের ইতিহাস আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতে আদি বাংলা (আনু. ১২০০ সা. অব্দ পর্যন্ত) প্রথম খণ্ড, ২০১৯: ৫৩-৭০।
মিজানুর রহমান, ‘মধ্যযুগীয় কৃষি: প্রত্ন-উদ্ভিদ সমীক্ষা’, আবদুল মমিন চৌধুরী সম্পাদিত বাংলাদেশের ইতিহাস, সুলতানি ও মোগল যুগ (আনুমানিক ১২০০-১৮০০ সা. অব্দ, খণ্ড ২, সমাজ অর্থনীতি সংস্কৃতি, ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০১৯: ৭৫-৯৪।
ড. শহিদুল হাসান: সহযোগী অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়








