বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৪ থেকে সাড়ে ১৪ কোটি বছর আগে, ক্রেটাসিয়াস পিরিয়ডে বঙ্গীয় বদ্বীপ গঠনের প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। সে প্রক্রিয়া এখনো চলমান। এ দীর্ঘ সময় ধরে পললায়ন ও তা বঙ্গোপসাগরের উত্তর প্রান্তে জমা হয়ে বঙ্গীয় বদ্বীপ গড়ে উঠেছে। এখানকার যে বিস্তীর্ণ সমভূমি, তার উপরিভাগের গঠন শুরু হয়েছে ১০ হাজার বছর আগে। খুব ধীরে ক্রমে এ প্রক্রিয়া তখন থেকে সক্রিয় রয়েছে। ফলে বর্তমান বাংলাদেশ কোনো স্থির ও এককালীন তৈরি ভূখণ্ড নয়; বরং এখনো চলমান ‘ক্ষয়-পরিবহন-জমা’ প্রক্রিয়ার অংশ।
পূর্ব বাংলা বা আজকে বাংলাদেশ বঙ্গীয় বদ্বীপেরই পূর্বাংশ। ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বে এ ভূখণ্ডের ভূরাজনৈতিক নাম-পরিচয় ও সীমানা পরিবর্তন হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় এ মাটিতে আধুনিক সময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জনমিতির বিজ্ঞান জানাচ্ছে, এ ভূখণ্ড বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এত কম জায়গায় এত অধিক জনসংখ্যা বিশ্বে বিরল।
ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যে বলা যায়, এ ভূখণ্ডে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল পুরনো পাথর যুগে। লালমাই-ময়নামতির পাহাড়ে পাওয়া হাতিয়ার দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমনটি ধারণা করেন। এ অঞ্চলে কৃষিকাজের সূচনা ঠিক কখন হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করে বলার মতো নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
সুইজারল্যান্ডের বার্নস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহাসিক ভাষাতত্ত্বের গবেষক জর্জ ভ্যানড্রিম মনে করেন, বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর নবীন পলিমাটি হাজার হাজার বছর ধরে সঞ্চিত ও ক্ষয় হচ্ছে। এ এলাকার প্রাচীন মানুষের প্রথম কৃষিকাজের নিদর্শনগুলো হয়তো নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে কোনো এক সময়ে সাগরের গভীর তলদেশে জমা হয়েছে।
জর্জের ধারণাটি হয়তো অনুমানের ভিত্তিতে বলেছেন। তবে এ বঙ্গীয় পলিমাটির সন্তান হিসেবে আমরা সরেজমিন পরীক্ষা করে দেখতে পারি, সত্যিই কি তেমনটা ঘটেছিল? যেমন একসময় বলা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে প্রাচীন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণিজ অবশেষ টিকে থাকতে পারে না। কয়েক বছরের সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেল, এখানে উদ্ভিদ অবশেষ খুব ভালোভাবে টিকে থাকে, এমনকি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে সে নমুনা বেশি ভালো অবস্থায় আছে।
প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার বেলউডের ‘কৃষি-ভাষা বিস্তার অনুকল্প’ তত্ত্বে বলা হয়েছে, প্রাচীনকালে নতুন অঞ্চলে কৃষিপদ্ধতির প্রসারের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল খোদ কৃষক জনগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অভিবাসন বা স্থানান্তরের। খাদ্য উৎপাদনকারী বা কৃষক দলগুলো একেকটি নির্দিষ্ট ভাষাভাষী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা দল বেঁধে নতুন ও দূরের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। কৃষকদের এ অভিবাসনের মাধ্যমেই বিশ্বের বহু বড় বড় ভাষা পরিবার (যেমন ইন্দো-ইউরোপীয়/সিনো টিবেতান বা অস্ট্রোএশিয়াটিক) এবং সংস্কৃতি এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। খুব সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের প্রাথমিক পর্বে অথবা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষের দিকে বঙ্গীয় বদ্বীপের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আলাদা আলাদা মানব ভাষাগোষ্ঠী বসতি স্থাপন করেছিল। এরা ছিল ধানচাষী, বঙ্গীয় বদ্বীপে আসার আগেই তারা ধান আবাদের সঙ্গে পরিচিত ছিল। সম্ভবত এ কারণেই ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আর্কিওবোটানির অধ্যাপক ডোরিয়ান ফুলার মনে করেন, বাংলাদেশ অঞ্চলের আদি মানব ইতিহাসের মূল সূত্র/পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে এ এলাকার ধানের ইতিহাসের মাঝে। ফলত বঙ্গীয় বদ্বীপে ধান কেবল জীবনধারণের উপকরণ বা খাদ্যশস্য নয়, আদি ইতিহাসের, সভ্যতা নির্মাণের অতি নির্ভরযোগ্য সূত্রও বটে।
ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকুলার বায়োলজির অধ্যাপক পিটার ছিভানের নেতৃত্বে একদল জিন বিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে জানা যায়, বঙ্গীয় বদ্বীপ ও এর নিকটবর্তী ভারতীয় অঞ্চলগুলোয় এমন একটি ধানের জাত (আউশ) বুনো দশা থেকে ডোমেস্টিকেটেড হয়েছিল, যা চৈনিক (জাপোনিকা) ও ভারতীয় (ইন্ডিকা) মৌলিক ধানের জাত থেকে আলাদা। এমনিতে বাংলাদেশে অতি প্রাচীনকাল থেকেই বুনো ধান জন্মে। প্রায় ২৩ উপপ্রজাতির বুনো ধান বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পতিত জমি, জলাভূমির ধার, নিচু এলাকা ও নব উত্থিত পলল সমভূমিতে দেখা যায়। ইদানীং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির বিস্তার ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের ফলে বুনো ধানের দেখা পাওয়া যায় না।
এটা মনে করার সংগত কারণ রয়েছে যে নবপোলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ও অভ্যস্ত (অন্তত মসৃণ পাথরের হাতিয়ার ব্যবহারকারী হিসেবে হলেও) সমসাময়িক একাধিক মানব দল বঙ্গীয় বদ্বীপের পূর্বপাড় নিম্ন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা এবং পশ্চিমে নিম্ন গঙ্গা অববাহিকায় নিকটবর্তী সময়ে বসতি গড়ে তুলেছিল। আমার বিবেচনায় এরাই মূলত বঙ্গে প্রথম স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তুলেছিল এবং বর্তমান অধিবাসীদের আদি পূর্বপুরুষ। বঙ্গীয় বদ্বীপের আদিম এ অধিবাসীরা ছিলেন কৃষক এবং প্রধানত ধানচাষী। অভিবাসনের সময়ে এ ধানচাষী কৃষকেরা নিজেদের চাষাবাদকৃত ধানের বীজ সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। কৃষকদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা ধান ছিল ডোমেস্টিকেটেড। সম্ভবত তারা এ ভূখণ্ডে অভিবাসনের আগে থেকেই ধান চাষাবাদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। অভিবাসী কৃষকরা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বুনো ধান সংগ্রহ করতেন, পাশাপাশি তাদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা ডোমেস্টিকেটেড ধানও কিছুটা চাষাবাদ করতেন। নিকটবর্তী পরিবেশে (একই হ্যাবিটেট) ডোমেস্টিকেটেড ধান চাষ ও বুনো ধান সংগ্রহের ফলে স্থানীয় বুনো ধানের জেনেটিক গঠনের পরিবর্তন সাধিত হয়ে একটি নতুন ডোমেস্টিকেটেড জাতের ধানের উদ্ভব ঘটেছিল। এ নতুন ডোমেস্টিকেটেড জাতের ধানটি ছিল আউশ (Oryza sativa aus) উপপ্রজাতি।

আর্কিওবোটানিক্যাল ডোমেস্টিকেটেড ধান (মাইক্রোস্কোপে তোলা ছবি), নিম্ন ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, ২৭০০-২৫০০ বি পি (৭০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছবির স্বত্ত্ব: ড. মিজানুর রহমান
একটা সময়ে মনে করা হতো, বুনো পর্যায় থেকে ফসল ডোমেস্টিকেটেড হতে ২০-২৫ বছর সময় লাগে। পরবর্তীকালে প্রত্ন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা প্রত্নতাত্ত্বিক আলামত আবিষ্কার করেন যে দজলা-ফোরাত উপত্যকায় বুনো দশা থেকে প্রথম ফসল (গম ও বার্লি) ডোমেস্টিকেটেড হতে তিন-চার হাজার বছর সময় লেগেছিল। প্রায় একই রকম সময় লেগেছিল চৈনিক ধান জাপোনিকা ডোমেস্টিকেটেড হতে। সময়ের হিসাবটা কখনো কখনো বেশ হেরফের হতে পারে। বিশেষত যদি একই হ্যাবিটেটে পাশাপাশি একই প্রজাতির (ভিন্ন ভিন্ন উপপ্রজাতি) ডোমেস্টিকেটেড ও বুনো জাতের ফসল চাষাবাদ হতে থাকে, সেক্ষেত্রে সময় কমও লাগতে পারে। খুব সম্ভবত মধ্য গাঙ্গেয় উপত্যকায় ভারতীয় ইন্ডিকা উপপ্রজাতির ধান যখন ডোমেস্টিকেটেড হয়েছিল, তখন একই হ্যাবিটেটে ডোমেস্টিকেটেড চৈনিক জাপোনিকা উপপ্রজাতি চাষাবাদ হতো। এ রকম পরিস্থিতিতে ডোমেস্টিকেশন জিনগুলো সহজে স্থানান্তর হয়ে যেতে পারে এবং কম সময়ে বুনো দশা থেকে পরিবর্তন সংগঠিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খুব সম্ভবত আউশ ধানের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল। কেননা যে সময়ে আউশ ধান ডোমেস্টিকেটেড হয়েছিল বলে ধারণা করা হয় সেই সময়ে বঙ্গীয় বদ্বীপে জাপোনিকা ও ইন্ডিকা উপপ্রজাতির ধান চাষ চালু ছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে। আবার আউশ ধানের যে জেনেটিক প্রমাণ জিন বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরি থেকে পেয়েছেন তা উপরোক্ত অনুমানকে সত্যতা প্রদান করে। এসব বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে আসতে প্রত্ন উদ্ভিজ উপাদানের গবেষণানির্ভর তথ্য প্রয়োজন।
প্রাপ্ত প্রত্ন উদ্ভিদ সাক্ষ্যে দেখা যায়, পূর্ববঙ্গীয় অঞ্চলের মাঝে নিম্ন ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায়—উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে—প্রথম কৃষিকাজের সূচনা হয়েছিল। সেই চাষাবাদ অবশ্যই ছিল ধানকেন্দ্রিক। প্রত্নতাত্ত্বিক এ উপাত্ত আমাদের এটাও নিশ্চিত করে, পূর্ববঙ্গীয় সমাজের উৎপত্তি ঘটেছিল আদিম ধানচাষী কৃষকদের হাত ধরে। তবে নিম্ন গাঙ্গেয় উপত্যকায় এ ধানচাষী কৃষকদের আগমন কখন ঘটেছিল সে সম্পর্কে এখনো কোনো গবেষণা হয়নি। পূর্ব নিম্ন গাঙ্গেয় (পূর্বে বৃহত্তর ফরিদপুর থেকে পশ্চিমে বৃহত্তর যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, দক্ষিণে বরিশাল ও পটুয়াখালী অবধি) উপত্যকায় এখনো এমন কোনো প্রত্নস্থানের সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা নিম্ন ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় প্রাপ্ত প্রত্নস্থান উয়ারী-বটেশ্বর কিংবা মহাস্থানগড়ের সমসাময়িক। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গে আদি ঐতিহাসিক সময়ে প্রত্নস্থান খুঁজে পাওয়া এবং সেখানকার প্রত্ন উদ্ভিদ উপাত্ত বিশ্লেষণ নিম্ন বঙ্গীয় বদ্বীপে আদি মানবের বসতির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ধারাক্রম বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্ববঙ্গে ধান চাষ জনপ্রিয় হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল এখানকার আবহাওয়া ও জলবায়ু। ধান আবাদের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়, যা এখানে সহজলভ্য। উপরন্তু পলল সমভূমি ধানের ফলন বাড়াতে দারুণ কার্যকর। বন্যা, বর্ষা ও অসংখ্য নদ-নদীর বিপুল প্রবাহ পুরো বদ্বীপকে জলময় আবহ দিয়েছে। ধান চাষের মাধ্যমে জমি ও জলাভূমির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। খুব সম্ভবত প্রথম দিকের ধানখেত ছিল ছোট ও অগভীর। পরবর্তীকালে তা বড় আয়তনের খেত, সেচ, নিষ্কাশন এবং আইল গড়ে উঠেছিল। ফলে কৃষিকাজ শুধু বীজ বোনা আর ফসল কাটার ব্যাপার থাকেনি, এটি হয়ে উঠেছিল একটি পরিকল্পিত জমি ব্যবস্থাপনার অংশ। এ ধরনের পরিস্থিতি স্থায়ী সমাজের ভিত্তি শক্তিশালী করেছে।
ধান চাষের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছিল। বিশেষত, পায়ে চালিত লাঙল, ধান কাটার চাকু বা কাস্তে এবং জমি প্রস্তুতের জন্য মই ব্যবহার হয়েছিল, যা বাড়তি খাদ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করেছে। শুষ্ক ধান চাষ থেকে জলজ ধান চাষে অভ্যস্ত হওয়াটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বাঁক। আদি বাংলায় এ পরিবর্তন কখন সংঘটিত হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত জানা না গেলেও মধ্যযুগের প্রত্নস্থান নীলফামারী জেলার সতিশের ডাঙ্গা থেকে ১২০০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জলজ ধান চাষের প্রমাণ পাওয়া যায়।
জলজ ধান চাষ মানুষের জীবনকে বাংলার উর্বর ভূমির সঙ্গে স্থায়ীভাবে বেঁধে দিয়েছিল। মূলত জলজ ধানের উৎপাদন শুষ্ক ধানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এ ধান চাষ করতে বিপুল শ্রম বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। জমি প্রস্তুত, পানি নিয়ন্ত্রণ, সেচ-নিষ্কাশন, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং ফসল সংগ্রহের জন্য ধারাবাহিক শ্রম দিতে হয়। এত শ্রম ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের ফলে মানুষ সহজে খেত ছেড়ে অন্যত্র চলে যেত না; বরং উচ্চ উৎপাদনশীল ধানের জমির সঙ্গে তাদের নাড়ির সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, বসতিগুলো আরো দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়েছিল। সম্ভবত জলজ ধান চাষে বিপুল শ্রমশক্তির চাহিদার জন্য আদি বাংলায় মানুষ অধিক সন্তান গ্রহণে আগ্রহী ছিল, যা এ অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল।
ধান চাষ বিশেষত জলজ ধানের চাষ বাংলায় এমন একটি সামাজিক ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছিল, যা মানুষকে জমি ও পানির সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করেছিল। জনসংখ্যাকে কোনো স্থানে ঘনীভূত ও বৃদ্ধি করতে, শ্রম ও প্রযুক্তিকে সংগঠিত করতে কার্যকর নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।
ড. মিজানুর রহমান: অধ্যাপক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; গবেষণা সহযোগী, স্কুল অব আর্কিওলজি, ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড








