বাঙালি জাদুকরদের মধ্যে দুনিয়া কাঁপিয়েছেন পিসি সরকার। তার নাম কমবেশি সবারই জানা। তিনি নিজেকে ‘দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জাদুকর’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এ পিসি সরকার বা প্রতুল চন্দ্র সরকারের জন্ম ১৯১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার আশেকপুর গ্রামে।
পিসি সরকারের বাড়ির কাছেই জন্মেছিলেন বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়; তিনি ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্ম নেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগ পর্যন্ত তিনি তত্কালীন পূর্ববঙ্গ বা এখনকার বাংলাদেশেই ছিলেন। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে ভারতে চলে যান। শীর্ষেন্দুর এক বছর আগে জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের আরেক খ্যাতিমান পুরুষ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। শীর্ষেন্দুর মতো সুনীলও জন্মেছিলেন এ বাংলাতেই। বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার মাইজপাড়া গ্রামে ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সুনীলের জন্ম। শৈশবেই সুনীল এ বাংলা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান।
বাঙালি পরিচালকদের মধ্যে দুই দিকপাল ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেনের জন্ম বাংলাদেশে। মৃণাল সেন ১৯২৩ সালের ১৪ মে তত্কালীন ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
ঋত্বিক ঘটক বা ঋত্বিক কুমার ঘটকের জন্ম ৪ নভেম্বর, ১৯২৫। তার জন্ম তত্কালীন পূর্ববঙ্গ, বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা শহরের ঋষিকেশ দাস লেনে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরে তার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। অভিনেতা, পরিচালক, লেখক, নাট্যকার উত্পল দত্তের জন্ম বরিশালে।
বাংলা ও হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্ম বরিশালে। মিঠুনের জন্ম দেশভাগের পরে, ১৯৫০ সালে। পড়াশোনা করেছিলেন বরিশাল জিলা স্কুলেই। এরপর চলে যান কলকাতায়, সেখানে স্কটিশ চার্চে ভর্তি হন।
রমা সেন বা কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের জন্মও এই বাংলায়, বাংলাদেশের পাবনায়।
কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মেছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে ১৯২০ সালের ২৬ আগস্ট। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল ও জগন্নাথ কলেজে শিক্ষা শেষ করে কলকাতায় যান ১৯৪১ সালে।
গায়ক কিশোর কুমারের জন্মও এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কিংবদন্তি শচীন দেব বর্মণের জন্ম কুমিল্লায়। সাগর সেনের জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে।
...আরো অনেক বিখ্যাত নাম পাওয়া যাবে, যাদের আদি ভিটা ছিল বর্তমান বাংলাদেশ কিংবা এককালের পূর্ববঙ্গ। দেশভাগের আগে ও পরে তারা দেশান্তরী হয়েছেন...
বিশেষ আয়োজন






