জিব্রাল্টার ও ফ্ল্যান্ডার্স (বেলজিয়ামের উত্তরাংশ) সেনা ইউনিটে চাকুরে এবং কুলোডেন (স্কটিশ হাইল্যান্ড) যুদ্ধের বিজয়ী সৈনিক মেজর স্ট্রিঙ্গার লরেন্স ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সৃষ্টির ১৪৮তম বছরে ১৭৪৮-এ ফরাসিদের বিরুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া ট্রুপস কমান্ড করার জন্য ভারতে এলেন। ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মলিয়ে ফ্রাঁসোয়া ডুপ্লে দক্ষিণ ভারত তার বাণিজ্যের আওতায় নিয়ে আসতে চান। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফরাসিদের অগ্রযাত্রায় আশঙ্কিত হলো, কোম্পানির ওয়াচম্যান হিসেবে যারা যোগ দিয়েছিল, তারা ততদিনে প্রশিক্ষিত সৈনিক হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ রিয়ার অ্যাডমিরাল বোসকাওয়েল ইন্ডিয়া কমান্ড করছেন। পন্ডিচেরি অবরোধে তাকে সহায়তা করবেন তরুণ মেজর স্ট্রিঙ্গার লরেন্স এবং আরো কমবয়সী ক্যাপ্টেন রবার্ট ক্লইভ। শেষ পর্যন্ত ফরাসিদের পরাজয় মেনে ভারত ছাড়তে হলেও আগামী দিনের সেনাপ্রধান স্ট্রিঙ্গার লরেন্স পন্ডিচেরিতে ফরাসিদের হাতে বন্দি হলেন। ‘ট্রিটি অব আচেন’ স্বাক্ষরিত হলে তিনি মুক্তি পান, পদোন্নতি
পেয়ে পেয়ে মেজর জেনারেল হন এবং কোম্পানি বাহাদুরের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর নামেমাত্র কমান্ডার হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জন অ্যাডলারকন, তার পরপরই দায়িত্ব পেলেন রবার্ট ক্লাইভ। তার হাতেই স্বাধীন বাংলা তথা স্বাধীন ভারতের চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং ভারতে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সেনাবাহিনী বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন সরকার হয়ে গেল, কোম্পানিই হলো সরকার বাহাদুর।
পলাশী
থেকে শুরু করে শতবর্ষ পরে সিপাহি বিদ্রোহ সবই সামাল দিয়েছিল কোম্পানির এ সেনাবাহিনী। কোম্পানির সৈন্যরা যে লড়াই করেছিল এ অধিকার তাদের ছিল কি? বলা যায় ছিল। ১৬০০ সালে কোম্পানি যে চার্টার পায়, তাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বাধা দূর করতে প্রয়োজনে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কোম্পানিকে দেয়া হয়েছিল। সনদ দিয়েছিলেন রানী প্রথম এলিজাবেথ। কোম্পনির ক্ষমতা যত সংহত হয়, সেনাবাহিনীও তত প্রশিক্ষিত ও গঠনতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। কোম্পানি সেনাবাহিনীর নাম হয় প্রেসিডেন্সি আর্মি। ১৭৭৪ থেকে ১৮৯৫ পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি আর্মি বহাল থাকে, তারপর ইন্ডিয়ান আর্মি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
বণিক
ও লাঠিয়ালের সম্পর্কের শুরুটা আরো অনেক আগে। পর্তুগিজরা যতটা না বণিক হিসেবে, তার চেয়ে বেশি আত্মপ্রকাশ করে জলদস্যু হিসেবে। ব্রিটিশরা বণিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পর্তুগিজ জলদস্যু কিংবা অন্য কোনো দেশীয় থেকে আক্রান্ত হয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকে। বলা বাহুল্য আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো নয়, সড়কপথেও নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন সম্ভব ছিল না, নদী ও অন্যান্য ভোগান্তি সড়ক যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। অধিক পরিমাণ পণ্য পরিবহনের একমাত্র পথই ছিল নৌ ও সমুদ্রপথ। পণ্যবাহী জাহাজে যেমন সশস্ত্র প্রহরী রাখা হতো, বাণিজ্য কেন্দ্র ও গুদাম প্রহরায় নিযুক্ত করা হতো সশস্ত্র ওয়াচম্যান। মূলত কোম্পানির এই ওয়াচম্যানরাই উপমহাদেশীয় সেনাবাহিনীর প্রথম পূর্বসূরি।
ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত সম্রাটের অনুমোদন নিয়ে উপকূলীয় শহর মাদ্রাজে প্রথম দুর্গ ১৬৩৯ সালে নির্মাণ করে (সেইন্ট জর্জ ফোর্ট নামের এ দুর্গই এখন তামিলনাড়ুর রাজ্যসভা ভবন)। ১৬৬৫ সালে ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হওয়ার সংবাদ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পৌঁছলে তারা দ্রুত মাদ্রাজ দুর্গ গ্যারিসন বৃদ্ধি করে দুর্গকে আরো সশস্ত্র করে তুলল। দুর্গের গ্রাচীর ২০ ফুট উঁচু, ফরাসি গোলার আঘাতেও ভেঙে পড়েনি। তবে ১৭৪৬ থেকে ১৭৪৯ তিন বছর তা ফরাসিদের দখলে ছিল, তারা ইংরেজদের তাড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছিল। অস্ট্রীয় যুদ্ধের বিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মাদ্রাজ দুর্গ ইংরেজরা ফিরে পায়।
ভারতে
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিষ্ঠিত দুর্গগুলোই তাদের সামরিক প্রস্তুতির কথা বলে দেয়।
কেরালার
থেলাসারি দুর্গ: জলবেষ্টিত দুর্গটি কোম্পানি ১৬৮৩ সালে নির্মাণ করে।
মালাবার
অনচুথেঙ্গু দুর্গ: ১৬৯৬ সালে নির্মিত। ব্রিটিশবিরোধী প্রথম সংগঠিত বিদ্রোহ মালাবার রিভোল্ট এ দুর্গের সৈনিকরাই দমন করে।
বোম্বের
মাহিম দুর্গ: ১৬৬৯ সালে মাদ্রাজের সেইন্ট জর্জ দুর্গের চেয়েও বৃহদাকৃতির এ দুর্গ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বোম্বে হয়ে ওঠে বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র।
বোম্বে
সেত্তরি দুর্গ: ১৬৮০ সালে নির্মিত। এটি পরবর্তী সময়ে কারাগার হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে।
কন্যাকুমারীর
কাছে ভাত্তাকোত্তাই দুর্গ: ভারতের সর্ব দক্ষিণের এ দুর্গের চারদিকে ২৫ থেকে ২৬ ফুট উঁচু গ্রানাইট ওয়াল আছে। এটি কোম্পানির সমুদ্রমুখী ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে কাজ করত।
কলকাতায়
ফোর্ট উইলিয়াম: কোম্পানি এবং ভারতের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা নদীর দিকে মুখ করা এ দুর্গের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক রক্তাক্ত ইতিহাস। ভারতের স্বাধীনতা বিলুপ্তি এবং কোম্পানি শাসনের সূচনা ১৬৯৬ সালে নির্মিত এ দুর্গের শক্তিকে কেন্দ্র করেই। পলাশীর বিজয়ের পর ক্লাইভ দুর্গটির ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন।
ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে নিজস্ব লাঠিয়াল পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে আর তাদের শক্তিই কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছে ভারতের মতো একটি সামাজ্য ও উপমহাদেশ।
কোম্পানি
আমলে তিনটি প্রেসিডেন্সির আওতায় বাণিজ্য পরিচালিত হতো বোম্বে, মাদ্রাজ ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি। কোম্পানির ওয়াচম্যানদের তিনটি সেনাকেন্দ্রের আওতায় নিয়ে আসা হয়: বোম্বে প্রেসিডেন্সি আর্মি, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি আর্মি ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি আর্মি। সব মিলিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রেসিডেন্সি আর্মি ১৮৯৫ পর্যন্ত বহাল ছিল। এ বাহিনী যেসব গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: পলাশীর যুদ্ধ, বক্সারের যুদ্ধ, কর্ণাটক যুদ্ধ, মহীশুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ভেলোর বিদ্রোহ দমন, নেপাল ও বার্মার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আফগানিস্তান ও পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
প্রেসিডেন্সি
আর্মির কমান্ডার ইন চিফদের মধ্যে রয়েছেন: স্ট্রিঙ্গার লরেন্স, রবার্ট ক্লাইভ, চার্লস নেপিয়ার, চার্লস কর্নওয়ালিশ, আর্থার ওয়েলেসলি, আর্চিবন্ড ক্যাম্পবেল, জেমস আউট্রাম, জেরার্ড লেক, হিউ গাফ।
কোম্পানি
শাসনের অবসান হয়ে পুরোদস্তুর ব্রিটিশ শাসন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে এ সেনাবাহিনী হয়ে ওঠে রয়াল আর্মি বা ক্রাউন আর্মি বা ব্রিটিশ আর্মি ইন ইন্ডিয়া।
মেজর
জেনারেল স্ট্রিঙ্গার লরেন্সই এ সেনাদলকে সুসংগঠিত করেন, রণকৌশলে পারদর্শী করে তোলেন। তাকেই বলা হয় ভারতে ব্রিটিশ রয়াল সেনাবাহিনীর জনক।
১৮২৪
সালে তিন প্রেসিডেন্সিতে কোম্পানির সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ, অফিসারদের সবাই ব্রিটিশ, তবে ১৭৪ জন সাদা সিপাহিও ছিল এ প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৬টি ইউরোপিয়ান রেজিমেন্ট ছিল।
১৮৪৪
সালে তিন প্রেসিডেন্সির সৈন্যদের মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৬ জন ছিল নেটিভ আর ১৪ হাজার ৫৮৪ জন ব্রিটিশ। বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির জন্য রবার্ট ক্লাইভ একটি পৃথক সিপাহি ব্যাটালিয়নও করতে চেয়েছেন, যে ব্যাটালিয়নের সদস্যরা হবে ভারতীয়, তবে প্রশিক্ষণ হবে ‘লাল কুর্তা’ (ব্রিটিশ)
সৈন্যদের মতোই। পোশাকের কারণে ব্রিটিশ সৈন্যদের বলা হতো ‘লাল কুর্তা’। প্রেসিডেন্সি আর্মিতে ব্রিটিশ অফিসার বাড়তে থাকায় ভারতীয়দের গুরুত্ব কমতে থাকে। কোম্পানির সৈনিকদের নির্মমতার মধ্যে ছিল সিপাহি বিদ্রোহোত্তর ঢাকায় ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকয় বহু সংখ্যক সিপাহিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা।
সিপাহি
বিদ্রোহের পর প্রেসিডেন্সি আর্মির আর্টিলারি থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে দেয়া হয়। আর্টিলারি কেবল ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। কোম্পানির সৈন্যরা লড়াই করতে ভারতের সীমানা পেরিয়ে আবিসিনিয়া পর্যন্ত গিয়েছে এবং লড়াই করেছে।
বেঙ্গল
আর্মিতে ১৭৫৭ সালেই প্রথম বাঙালি, বিহারি, রাজপুত, পাঠান ও ভুহিহার (বিহারের) নিয়োগ শুরু হয়। ১৭৫৯ থেকে ১৭৬৪ পর্যন্ত বেঙ্গল আর্মিতে অতিরিক্ত ২৪টি ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করা হয়। ১৮৫৭ সালে বেঙ্গল আর্মির মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৬১ জন সদস্যের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৩ জন ছিল ভারতীয়।
১৮৫৭-এর সিপাহি বিদ্রোহে বেঙ্গল আর্মি ৬৪ জন গোলন্দাজ ও অশ্বারোহী সৈন্য বিদ্রোহ করেছিল। তারপর বেঙ্গল আর্মিতে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাভাষী বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে নিয়োগ করা হয়। যে যুক্তি এর পেছনে কাজ করে তা হচ্ছে হরেক রকম মানুষ একই রকম চিন্তা করে বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারবে না। বেঙ্গল আর্মিতে গোটা চাকরি জীবন কাটিয়ে দেয়া স্যার জন ম্যালকম মন্তব্য করেছেন, বেঙ্গল আর্মি হলেও এর শ্রেষ্ঠ সৈনিকরা ক্ষত্রিয় গোত্রভুক্ত রাজপুত।
বেঙ্গল
আর্মির ১০টি লাইট ক্যাভালরি রেজিমেন্টের আটটি সিপাহি বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল।
বোম্বে
প্রেসিডেন্সি আর্মি ১৬৬২ থেকে কর্মরত ছিল, ১৮৭৬-এ এর সদস্য সংখ্যা ৪৪ হাজার, একই সময়ে মাদ্রাজ আর্মির সদস্য ৪৭ হাজার।
পণ্যগুণ
কিংবা অর্থনীতির জন্য কোনো তত্ত্ব খাটিয়ে নয়, সৈনিকের শক্তি ব্যবহার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকরী সংগঠনে পরিণত হয়।
উইলিয়াম
ড্যালরিম্পল মন্তব্য করেছেন: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সব কিছু নিয়েই জুয়া খেলেছে এবং সব কয়টাতেই জিতেছে।
বেঙ্গল
প্রেসিডেন্সির ৩ জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল
বেঙ্গল
কমান্ডের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার উইলিয়াম কিডস্টন এলেস কমান্ডার-ইন-চিফ থাকা অবস্থায় ১৮৯৬-এর ৫ আগস্ট কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্ম ১৮৩৭ সালে, স্যান্ডহার্স্ট-এ পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ। তিনি ১৮৫৫ সালে ক্রিমিয়ান যুদ্ধ, ১৮৫৭-এর সিপাহি বিদ্রোহ মোকাবেলা করেন। তিনি মাদ্রাজ আর্মির ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন, প্রায় নয় বছর মহারানী ভিক্টোরিয়ার এডিসির দায়িত্ব পালন করেন। তৃতীয় ইংরেজ-বর্মী যুদ্ধের পর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল নিযুক্ত হন, ১৮৯৫ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হয়ে কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্ব নেন। ভারতের শিমলায় তিনি সমাহিত হন।
স্যার
বেকার ক্রিড রাসেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল এলেসের পরপরই মেজর জেনারেল হিসেবে বেঙ্গল কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৮৯৭ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন; জেনারেল পদে ব্রিটেনে ফিরে যান এবং পোর্টসমাউথ ঘাটির কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ৫৬ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন এবং ২৫ নভেম্বর ১৯১১ ইংল্যান্ডের কেন্ট শহরে মারা যান। তিনি কর্মজীবনে ভারতের সিপাহি বিদ্রোহ, ইংরেজ-জুলু যুদ্ধ, মিসর যুদ্ধ মোকাবেলা করেন।
জেনারেল
স্যার জর্জ লাক জেনারেল রাসেলের পর বেঙ্গল কমান্ডের কমান্ডার ইন চিফ নিযুক্ত হন। ১৯০৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাকে ১৫ হুসার্স বাহিনীর কর্নেল হিসেবে অবসর গ্রহণের পর জেনারেল করা হয়। তার জন্ম ১৮৪০ সালে কেন্ট শহরে, মৃত্যু ১৯১৬ ইংল্যান্ডের উইল্টশ্যায়ারে। জেনারেল স্যার আলফ্রেড গ্যাসলি বিশিষ্ট ধর্মযাজক রেভারেন্ড গ্যাসলির পুত্র, জন্ম এসেক্স শহরে ১৮৪৪ সালে। পড়াশোনা প্রশিক্ষণ স্যান্ডহার্স্ট মিলিটারি একাডেমিতে। তার সেনাজীবনের শুরু ভারতের উত্তর পশ্চিমে সীমান্তে, তারপর বাংলায়, ইংরেজ-আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পঞ্চম গোর্খা রাইফেলের প্রথম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়ে বেঙ্গল কমান্ডের প্রধান হন এবং এ পদে তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ১৯০৬ সালে জেনারেল। ১৯১৮ সালে গিল্ডফোর্ডে তার মৃত্যু হয়।
পাদটীকা:
১৮০০ সালে ব্রিটেনে মোট ব্রিটিশ সেনাসদস্যের সংখ্যা ছিল আনুমানিক এক লাখ। লন্ডনের একটি ছোট ভবনে কর্মরত ৩৫ জন স্থায়ী সদস্যের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মোট সৈন্যসংখ্যা ছিল দুই লাখ।
এমএ
মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা





