মার্গারেট মেকপিস
অনুবাদ: হাসান তানভীর
প্রতি এপ্রিল মাসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অংশীদাররা পরের বছরের জন্য ২৪ জন ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করতেন। পরিচালকরা তাদের মধ্য থেকে দুজনকে বেছে নিয়ে একজনকে চেয়ারম্যান এবং আরেকজনকে তার ডেপুটি হিসেবে নির্বাচন করতেন। এ ‘বণিকরাজদের’ বিদেশের মাটিতে এক বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনার পাশাপাশি ঘরোয়া কর্মীদের ছোটখাটো আবেদন-নিবেদনের মতো প্রশাসনিক ব্যাপারগুলোও দেখতে হতো। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালকের জন্য একটি সাধারণ কার্যদিবসের কার্যক্রম কেমন ছিল চলুন দেখে নেয়া যাক।
পরিচালকরা লন্ডন শহরের লিডেন হল স্ট্রিটের ইস্ট ইন্ডিয়া হাউসে কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কিত সব রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য যেতেন। কোরাম গঠনের জন্য কমপক্ষে ১৩ জন পরিচালককে উপস্থিত থাকতে হতো। প্রতি সপ্তাহে একবার এ ধরনের মিটিংয়ের আয়োজন করতে হতো। কার্যক্রম সাধারণত বেলা ১১টায় বা দুপুরে আবার কখনো সকাল ১০টায়ও শুরু হতো। মিটিং সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা বা ৭টার মধ্যে শেষ হতো, যদিও আড্ডা অনেক সময় রাত ১০টা পর্যন্তও চলত। অনুপস্থিত থাকার জন্য জরিমানা করা হতো। বৈঠকে অগুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা চললে কিছু পরিচালক ইস্ট ইন্ডিয়া হাউজের অন্যান্য অংশে ঘোরাফেরা করতে পারতেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনা উপস্থাপন করা হলে সব পরিচালককে ডেকে পাঠানো হতো।
শেষ অধিবেশন থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সব কাগজপত্র পড়ার মাধ্যমে বৈঠক শুরু হতো। ভারত থেকে পাঠানো নথিগুলো ইস্ট ইন্ডিয়া হাউজের বিভিন্ন বিভাগে পাঠানোর আগে পাঠ করা হতো। তবে লন্ডনে অনুলিপিকৃত মতামতের বিপুলসংখ্যক নথির মধ্যে কেবল প্রয়োজনীয়গুলোই পাঠ করা হতো। মাঝেমধ্যেই দীর্ঘ বিতর্ক হতো। বিষয়গুলো হয় তাত্ক্ষণিকভাবে সমাধা করা হতো অথবা পরিচালকদের বিশেষায়িত কমিটির কাছে পাঠানো হতো। ১৮১৩ সালে ১৬টি কমিটি ছিল। সেগুলো হলো ক্রয়, কলেজ, প্রতিনিধি, সরকারি বাহিনী ও স্টোর, বাড়ি, আইন, গ্রন্থাগার, সামরিক তহবিল, সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যক্তি বাণিজ্যের বৃদ্ধি রোধ, বেসরকারি বাণিজ্য, গোপনীয়তা, পরিবহন, কোষাগার ও গুদামঘর।
এরপর কোর্ট অব ডিরেক্টরসদের বৈঠক মুলতবি করা হতো এবং পরিচালকদের কমিটিগুলো একত্র হতো। বিকাল ৫টা নাগাদ কমিটিগুলোর প্রতিবেদন বিবেচনা করতে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পরিচালকরা আবার একত্র হতেন। পরিচালকরা কোম্পানির জাহাজের ক্যাপ্টেন ও অফিসারদের শপথ করাতেন এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মচারীদের ভারতে ফিরে যাওয়া তদারক করতেন। ইস্ট ইন্ডিয়া হাউজে বিক্রয়বিষয়ক সভায় সভাপতি পরিবর্তন করা হতো। পরিচালকরা যখন মিটিং করতেন না সে সময় কমিটিগুলো মিটিংয়ে বসত। অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদে চেয়ারম্যান ও তার ডেপুটি প্রতিদিন সকালে ইস্ট ইন্ডিয়া হাউজে আসতেন এবং দিনের শেষ অবধি সেখানে উপস্থিত থাকতেন। মন্ত্রী এবং সরকারি দপ্তরের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ ছিল। সরকারি কাজের জন্য তাদের মাঝেমধ্যেই শহরের পশ্চিম প্রান্তে যেতে হতো।
পরিচালকরা তাদের সেবার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু বেসামরিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদানের অধিকার ভোগ করতেন। পাশাপাশি ১৭৯৩ সালে তাদের জন্য বছরে ৩০০ পাউন্ড এবং চেয়ারম্যান ও ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রত্যেকের জন্য ৫০০ পাউন্ড বেতন নির্ধারিত হয়। ১৮১৪ সালে জেনারেল কোর্ট অব প্রোপ্রাইটরস চেয়ারম্যানের জন্য ১২০০ পাউন্ড, তার ডেপুটির জন্য ১০০০ পাউন্ড এবং পরিচালকদের জন্য ৫০০ পাউন্ড (সিক্রেট কমিটি বা প্রতিনিধি কমিটির সদস্যদের জন্য ৭০০ পাউন্ড) বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করে। তবে সব অংশীদার এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল না। এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট ছিল ৫১টি আর বিপরীতে ভোট ছিল ২১টি।





