উপিন্দর সিং ভারতীয় ইতিহাসবিদ।
বর্তমানে অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক।
এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
তিনি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক আলোচিত গ্রন্থের প্রণেতা।
বর্তমান লেখাটি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত তার The World of India’s
First Archaeologist: Letters from Alexander Cunningham to JDM Beglar গ্রন্থের অংশবিশেষ।
দ্য ওয়্যার-এ প্রকাশিত এ অংশটি অধ্যাপক উপিন্দর সিংয়ের অনুমতি সাপেক্ষে সিল্করুটে ভাষান্তরিত হলো।
অনুবাদ করেছেন হারুন রশীদ
উনিশ শতকে
সীমিত জনবল
দিয়ে ভারতবর্ষের
বিশাল এলাকায়
প্রত্নতাত্ত্বিক খনন
এবং অনুসন্ধানী
অভিযান চালাতে
হয়েছিল আলেকজান্ডার
কানিংহামকে। কাজের
সুবিধার্থে প্রতিটি
এলাকাকে সতর্ক
পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
এমনভাবে ভাগ
করে নিয়েছিলেন
যাতে সর্বোচ্চ
ফল অর্জিত
হয়। সচরাচর
ভাবা হয়
চীনা ভিক্ষু
ফাহিয়েন ও
হিউয়েন সাংয়ের
দেখানো পথ
দিয়েই এসব
খননকাজের পরিকল্পনা
করা হয়েছিল।
কিছু কিছু
ক্ষেত্রে হিউয়েন
সাংয়ের দেয়া
তথ্য গুরুত্বপূর্ণ
ছিল সেটা
ঠিক। যেমন
বুদ্ধগয়া, রাজগির
ইত্যাদি এলাকায়
তাদের দুজনের
দেয়া তথ্যের
ওপর ভিত্তি
করে অনুসন্ধান
চালানো হয়েছিল।
কিন্তু সপ্তপর্ণী
গুহায় অনুসন্ধান
চালানোর সময়
চৈনিক ভিক্ষুদের
দেয়া তথ্যের
ব্যাপারে কানিংহাম
বিরক্তি প্রকাশ
করেছিলেন। তিনি
বলেছিলেন, ‘চীনা
ভিক্ষুদের উল্টাপাল্টা
বিবরণের কারণে
আমরা এখানে
এসে কোনো
কূলকিনারা দেখতে
পাচ্ছি না।’
সুতরাং তিনি
যে একদম
অন্ধের মতো
তাদের অনুসরণ
করেছেন তা
ঠিক নয়।
অভিযানের রুটম্যাপ
ও কর্মসূচি
আগে আহরিত
তথ্যগুলোর ফাঁকফোকর
পূরণ করে
এমনভাবে তৈরি
করা হতো
যেখানে নতুন
প্রত্নস্থল খুঁজে
পাওয়ার সম্ভাবনা
সবচেয়ে বেশি;
সেখানেই অনুসন্ধান
চালানো হতো।
এসব কাজে
কানিংহামের প্রধান
সহকারী ছিলেন
জেডিএম বেগলার।
বেগলারের রুটটা
তৈরির সময়
যেটা প্রাধান্য
দেয়া হয়েছিল
তাহলো সচিত্র
বিবরণী তৈরির
প্রয়োজনীয়তা। যেসব
অঞ্চলে সচিত্র
বিবরণের প্রয়োজন
বেশি সেদিকে
তিনি বেগলারকে
পাঠিয়েছিলেন। আবার
কানিংহাম নিজের
রুটটা এমনভাবে
তৈরি করেছিলেন
যাতে তিনি
মাঝপথে কোথাও
বেগলারের সঙ্গে
মিলিত হতে
পারেন ও
সেখানে দুজনের
অর্জিত তথ্য-উপাত্তগুলোর
সমন্বয় করতে
পারেন। কানিংহামের
লেখা বেশকিছু
চিঠিতে এসব
কাজের পরিচিত
ও অপরিচিত
অঞ্চলের বিস্তারিত
মানচিত্র সংগ্রহের
কথা বলা
হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক
জরিপ প্রতিবেদনে
যেন মানচিত্র
যুক্ত করা
হয় তার
ওপরও জোর
দিতেন তিনি।
সব রিপোর্টে
যেভাবে বিভিন্ন
এলাকার বিশদ
বিবরণ, পথঘাটের
অবস্থা ও
দূরত্ব ইত্যাদির
বিবরণ দিয়েছেন
তাতে মনে
হয় তার
মাথার ভেতর
সবসময় একটা
মানচিত্র ঝুলে
থাকত।
যেহেতু কানিংহাম
ও বেগলার
দুজনই আলাদা
রুটে দীর্ঘ
পথ পরিক্রম
করতেন তাদেরকে
পরস্পরের গতিবিধি
হিসাব করে
কে কোন
ঠিকানায় চিঠি
পাঠাবেন সেটা
ঠিক করতে
হতো। চিঠিগুলো
পাঠানোর পদ্ধতিও
বিচিত্র ছিল।
কখনো নিয়মিত
স্থল ডাকযোগে,
কখনো গরুগাড়ির
ডাকে, কখনো
ডাকবাংলো, কখনো
হয়তো টাঙ্গা
ডাকে পাঠানো
হতো। কখনো
এমনও হয়েছে
চিঠিগুলো যখন
পৌঁছেছে প্রাপক
সেখান থেকে
চলে গেছেন।
কখনো কখনো
চিঠি মাঝপথে
হারিয়েও গেছে।
টেলিগ্রাফ ব্যবহারের
কথা প্রথম
পাওয়া যায়
১৮৭৭ সালের
একটা পত্রে।
তারপর থেকে
এর ব্যবহার
ক্রমে বাড়তে
দেখা গেছে।
চিঠিগুলোর সবচেয়ে
আকর্ষণীয় ব্যাপার
ছিল সেগুলোতে
উল্লেখিত বিভিন্ন
সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক
আবিষ্কারের কথাগুলো।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ
বেশ কিছু
আবিষ্কারের তাত্ক্ষণিক
তথ্য পাওয়া
যায় চিঠিগুলোতে।
আবিষ্কৃত প্রত্নস্থল
দেখে তাদের
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
কি ছিল,
কীভাবে তারা
সেই আবিষ্কারের
কাছাকাছি পৌঁছলেন
সেগুলো নিয়েও
আকর্ষণীয় বর্ণনা
আছে। ১৮৭৫
সালের শরত্কালের
একটা চিঠিতে
কানিংহাম লেখেন—
আমি একটি
প্রমাণ পেয়েছি
যাতে পরিষ্কার
বোঝা যাচ্ছে
পাটালীপুত্র সোন
নদীর তীরে
অবস্থিত ছিল।
তার মানে
সোন নদী
হচ্ছে গ্রিকদের
উল্লিখিত ইরানোবোয়াস,
যেটা আমি
সবসময় তোমাকে
বলে এসেছি।
(চিঠি নং-৪৩)
রাজগির
থেকে ১৮৭৫
সালের ডিসেম্বরের
চিঠিতে লেখেন—
আমি তিনদিন
রাজগিরে কাটালাম
যেখানে কয়েকটি
নতুন গুহা
আবিষ্কার করেছি—
যার দুটো
আমাদের কথিত
সপ্তপর্ণী গুহা...
আমার লোকজন
প্রথমে উপর
দিক থেকে
তোমার গুহায়
পৌঁছেছে! তার
ঠিক উপরেই
৭০ ফুট
দীর্ঘ দুটো
সত্যিকারের গুহা
আছে, কিন্তু
সেখানে ভালুক
ছাড়া আর
কেউ কখনো
বাস করেছে
মনে হয়
না। (চিঠি
নং-৫২)
মথুরা
থেকে ১৮৮২
সালের মার্চে
লিখেছেন—
আমি এখানে
একটিমাত্র ভাস্কর্য
ছাড়া কিছু
পেলাম না।
তবে এটা
সত্যিকারের দামী
জিনিস মনে
হচ্ছে যেখানে
একদল হারকিউলিস
একটা নিমিয়ান
সিংহকে হত্যা
করছে। ভাস্কর্যটা
এখন আমার
হাতে। এটা
তিন ফুটের
বেশী উঁচু।
জিনিসটাকে আমি
পেয়েছি একটা
গোয়ালের পাশে।
বলদের পানি
খাবার পাত্রের
এক পাশে
দেয়ালের ইটকাদার
মধ্যে জবরজং
অবস্থায় ছিল।
জিনিসটা কী
তা ভালোভাবে
দেখার আগেই
তার গায়ে
থাকা শিল্পকর্মটির
মর্ম বুঝতে
পারি। আমার
ইচ্ছে এটাকে
সিমলায় নিয়ে
ক্রাডকের মাধ্যমে
ছবি তুলে
রাখা। (চিঠি
নং-১৫৫)
একটি চিঠিতে
কানিংহাম শ্রাবস্তীর
গন্ধকুটি মন্দির
ও বৌদ্ধস্তূপ
আবিষ্কারের ব্যাপারে
লিখেছিলেন। সে
সঙ্গে লিখেছিলেন
সংকাশ্যে অশোকের
হস্তীস্তম্ভ মূর্তির
স্তম্ভমূল আবিষ্কারের
কথা। ১৮৮০
সালে সুলতানগঞ্জের
আবিষ্কার সম্পর্কে
ওই সালের
মাচ-এপ্রিলের
বেশ কয়েকটি
চিঠিতে লিখেছিলেন।
প্রথমদিকে বেগলার
কিছু খুঁজে
পাননি। পরে
তিনি একটা
স্তূপ আবিষ্কার
করলেন। তারপর
সে স্তূপের
মধ্যে কিছু
পুরাকীর্তির ধ্বংসাবশেষ
আবিষ্কার করেন।
কানিংহাম খুব
উচ্ছ্বসিত হয়ে
সে ধ্বংসাবশেষগুলো
পাঠিয়ে দিতে
বললেন। তিনি
সেগুলো দেখতে
চান ও
তার ছবি
আঁকতে চান।
শ্রীলংকার প্রধান
ধর্মগুরু সেই
ধ্বংসাবশেষের হাড়গোড়
সংগ্রহ করতে
চেয়েছিলেন। ওই
ব্যাপারে কানিংহাম
লেখেন—
আমার ধারণা
তিনি (ধর্মগুরু)
ওটা দিয়ে
বুদ্ধমূর্তির মতো
একটা ভাস্কর্য
তৈরি করবেন।
তারপর ওটার
সামনে লোকজনকে
পুজো করতে
বাধ্য করবেন।
(চিঠি নং-১৬৭)
উনিশ শতকে
কানিংহাম তার
অভিযানের সময়কালে
যেসব পত্র
বিনিময় করেছেন
সেগুলোর মধ্যে
অভিযানের নানা
ঝক্কিঝামেলার বিষয়
পাওয়া যায়।
তিনি সবসময়
ঘোড়া কিংবা
হাতির পিঠে
চড়ে অভিযানে
যেতেন। যাত্রার
আগে তিনি
উট, হাতি
এবং তার
কর্মী বাহিনীকে
আগেভাগে পাঠিয়ে
দিতেন। মালপত্র
প্যাক করা,
ওজন করা,
ট্রেনের ব্যাগেজ
ওয়াগনে তোলা
ইত্যাদি খুব
ঝামেলাপূর্ণ কাজ
ছিল। মাঝে
মাঝে দেখা
যেত কানিংহাম
গন্তব্যে পৌঁছে
গেছেন কিন্তু
মালপত্র পৌঁছেনি।
কখনো দেখা
যেত তিনি
এমন গুরুত্বপূর্ণ
কোনো জিনিস
ফেলে এসেছেন
যেটা গন্তব্যস্থলে
আর পাওয়া
সম্ভব নয়।
যেমন লেখার
কাগজ। তার
এসব ভ্রমণে
খালাসি ও
চাকরবাকররাও সঙ্গী
হতো। যাত্রাপথে
বিশেষ করে
উট নিয়ে
সবসময় ঝামেলা
হতো। উটচালকরা
সচরাচর বিশ্বস্ত
হতো না,
তাদের সঙ্গে
দরাদরি নিয়ে
সবসময়ই একটা
টানাহেঁচড়া লেগে
থাকত। এসব
অভিযানে রেলপথ
ব্যবহারের প্রথম
উল্লেখ দেখা
যায় ১৮৭৪
সালে। অবশ্য
এর পরও
উট আর
হাতির ব্যবহার
চালু ছিল।
এছাড়া আরো
নানা ধরনের
বিচিত্র বাহনে
করে তিনি
ভ্রমণ করেছেন,
যার মধ্যে
গরুর গাড়ি,
ডাকের গাড়ি,
টাঙ্গা গাড়ি,
ঠেলাগাড়ি ইত্যাদি
ছিল। ১৮৭৫
সালের অক্টোবরে
তার দ্বিতীয়
সহকারী কার্লাইল
ঘোড়ায় টানা
গাড়ি থেকে
ছিটকে পড়ে
এত মারাত্মকভাবে
আহত হয়েছিলেন
যে, তার
একটা হাত
স্থায়ীভাবে অচল
হয়ে যায়।
এসব
দীর্ঘ ক্লান্তিকর
ভ্রমণগুলোর কোনো
কোনো পর্যায়ে
নদীও পারাপার
করতে হয়েছে
তাদের। এক
চিঠিতে বলছেন—
সোন নদীতে
উপচে পড়া
জলস্রোত ছিল।
এ কারণে
নদী পার
হওয়া খুব
কঠিন হয়ে
গিয়েছিল। কোথাও
নদীর পাড়
ভেঙ্গে গেছে,
কোথাও চর
পড়ে গেছে।
হাতি আর
উটগুলো মালামাল
বা সওয়ারী
ছাড়া কোনমতে
পার হলো।
(চিঠি নং-৫০)
নদী পার
হতে গিয়ে
মাঝে মাঝে
দুর্ঘটনাও ঘটত।
১৮৭৭ সালের
ফেব্রুয়ারিতে একবার
লিখেছিলেন—
আমার তিন
ও চার
নম্বর বাক্সের
সবগুলো বই
নষ্ট হয়ে
গেছে। মালবাহী
উটটা নদী
পার হতে
গিয়ে হঠাৎ
করে মাঝপথে
বসে পড়েছিল
মালামালসহ। আমার
বাবুর্চিটাকে তো
প্রায় ডুবিয়েই
মারতে বসেছিল।
(চিঠি নং-৭৮)
যাত্রাপথে মাঝে
মাঝে হাতি
এবং চিতার
মুখোমুখি হতে
হয়েছে। আবার
চলার পথে
হঠাৎ করে
অসুস্থ হয়ে
সহযাত্রীর মৃত্যু
হয়েছে তেমন
ঘটনাও আছে।
১৮৮২ সালের
জানুয়ারিতে গহর
খান নামের
একজন পথের
মাঝে অসুস্থ
হয়ে মারা
গিয়েছিলেন।
এসব অভিযানে
তাঁবু খাটানোর
জন্য টুকটাক
জিনিসপত্র কেনার
দরকার হতো।
যেমন দড়ি,
হুক, পেরেক
ইত্যাদি। সে
সঙ্গে খাবারদাবারও
কিনতে হতো—রুটি,
মাখন, মাংস
ও চা
ইত্যাদি। ১৮
ডিসেম্বর ১৮৭৪
তারিখে কানিংহাম
ও বেগলার
যখন আলোচনা
করছিলেন কোথায়
তাদের পরবর্তী
দেখা হতে
পারে, কানিংহাম
বলছিলেন যে
তাদের উচিত
উচেরাতে আস্তানা
গাড়া, কারণ
‘সেখানে
জিনিসপত্র সুলভ।
রেলস্টেশন এবং
পোস্ট অফিস
নিকটবর্তী।’ (চিঠি
নং ২৩)।
তবে
মাঝে মাঝে
উটকো বিপদও
নেমে আসত
তাদের ওপর।
১৮৭৫ সালের
ফেব্রুয়ারিতে ভিলশা
থেকে লেখা
চিঠিতে জানাচ্ছেন—
আমি এখন
ডাকবাংলোর বাইরে
বসে আছি।
এটার ছাদ
ভেঙ্গে গেছে।
তার উপর
জায়গাটা বোলতায়
ভরপুর। (চিঠি
নং-৩৪)
আবহাওয়া
নিয়ে তো
তাদের নিত্য
যন্ত্রণা ছিল।
নির্ধারিত সময়ের
তিন সপ্তাহ
আগেই প্রচণ্ড
ঝড়ো হাওয়া
শুরু হলো।
তবে আমি
খুব সহজেই
সোন নদী
পার হলাম।
মাত্র হাঁটুজল
ছিল তাতে।
(চিঠি নং-১৩৯)
গরমের
উৎপাত নিয়ে
অভিযোগ ছিল
নিরন্তর:
ফেব্রুয়ারীর শেষ
দিকে হঠাৎ
করে প্রচণ্ড
গরম পড়তে
শুরু করেছে।
উচেরা পৌঁছানোর
আগ পর্যন্ত
কোনমতে পার
করেছি... রেলে
করে এলাহাবাদ
পৌঁছালাম ঠিকই,
কিন্তু টাকার
জন্য অপেক্ষা
করতে করতে
রক্তচোষা মশার
ভোজের শিকার
হয়ে পড়েছি।
(চিঠি নং-৩৬)
কানিংহামের
জন্য গরমকালটা
ছিল অসহ্য।
তিনি এ
সময় হাঁসফাঁস
করতেন। বিশেষ
করে কলকাতা
তার জন্য
একটা বিরক্তিকর
জায়গা ছিল।
১৮৮২ সালের
ফেব্রুয়ারিতে তিনি
বেগলারকে লিখলেন—
কলকাতার গরম
সহ্য হচ্ছে
না আর।
এখন আমি
গরমে গলে
গলে যাচ্ছি।
আমি খুব
আনন্দিত হতাম
যদি এই
নরক থেকে
মুক্তি পেতাম।
(চিঠি নং-১৫৪)।
এ যন্ত্রণা
থেকে মুক্তির
জন্য যখনই
সুযোগ পেতেন
তিনি সিমলার
শীতল পরিবেশের
দিকে ছুট
লাগাতেন।
টাকা-পয়সা
ও হিসাবের
ব্যাপারগুলো ছিল
চিঠিপত্রের নিত্য-নৈমিত্তিক
বিষয়। কানিংহাম
তার সহকারীদের
কাছে প্রতিনিয়ত
স্মরণ করিয়ে
দিতেন বিল,
ভাউচার, রসিদ
ইত্যাদির ব্যাপারে
সতর্ক থাকার
জন্য। কাগজপত্রে
ভুলত্রুটির জন্য
বিল পাসে
ঝামেলা হতে
পারে ও
কম্পট্রোলার জেনারেলের
অফিসের লাল
ফিতায় আটকে
যেতে পারে।
তিনি প্রায়ই
সরকারের কাছে
টাকাপয়সা চেয়ে
চিঠিপত্র লিখতেন।
আর্কিওলজিস্টদের কাছে
টাকা পাঠানো
হতো কখনো
চেকে, কখনো
মানি অর্ডারে,
কখনো বা
নগদে। বেগলার
প্রায়ই টাকার
সংকটে ভুগতেন।
তিনি অভিযানের
খরচাপাতি মেটানোর
জন্য টাকার
জন্য লিখতেন।
এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও
তার অর্থসংকট
ছিল। যে
কারণে তিনি
আরো ভালো
একটা চাকরির
সন্ধানে ছিলেন...
আবহাওয়া, টাকা-পয়সা,
হিসাব-কিতাবের
বিষয় ছাড়াও
চিঠিগুলোতে অনুসন্ধানী
কাজ চলাকালে
শারীরিক অসুস্থতার
বিষয়গুলো আলাপ
হতো। বেগলার
একটু দুর্বল
শরীরের মানুষ
ছিলেন। তিনি
প্রায়ই জ্বর
এবং মাথাব্যথায়
কাবু থাকতেন।
কানিংহাম সবসময়
তার শরীরের
অবস্থা নিয়ে
উদ্বিগ্ন ছিলেন
ও তাকে
সবসময় প্রয়োজনীয়
পরামর্শ দিতেন।
সে রকম
এক চিঠিতে
তিনি বলছেন—
আমার মনে
হয় তুমি
রোদের মধ্যে
বেশী ঘোরাঘুরি
করছো। তোমার
উচিত সূর্যের
শক্তিকে আরো
সমীহ করে
চলা এবং
শরীর ঠাণ্ডা
রাখে তেমন
পিল খাওয়া।
সেই সাথে
জ্বরের সময়
কুইনাইন খাওয়া
দরকার। আমার
মনে আছে
তুমি বারহাট্টায়
খালি মাথায়
রোদের মধ্যে
ঘুরে বেড়াতে।
তোমার বোঝা
উচিত এতে
করে সূর্যের
ক্রোধ তোমার
মাথার ওপর
আছড়ে পড়ার
সুযোগ পায়।
(চিঠি নং-৫৭)
...আসলে
বেশকিছু চিঠি
থেকে জানা
যায়, কানিংহাম
তার জীবনের
সবচেয়ে ফলপ্রসূ
বছরগুলোতে নানা
ধরনের শারীরিক
অসুস্থতা ও
সমস্যার মধ্য
দিয়ে কাটিয়েছিলেন।
১৮৭৮ সালের
জুন মাসে
তার অনেক
কিছু লেখার
ছিল, কিন্তু
তিনি বাতের
ব্যথায় এত
কাহিল ছিলেন
যেকোনো কাজই
করতে পারেননি।
বিশেষ করে
হাঁটু ও
কোমরের বাত
তাকে বেশি
কাবু করে
রেখেছিল। সে
সময় তিনি
এমনভাবে আক্রান্ত
হয়েছিলেন যে
শোয়া থেকে
উঠে বসাও
কঠিন হয়ে
পড়ে। তখন
তিনি গরম
পানির সেক
নেয়া কিংবা
ব্র্যান্ডি মালিশ
করার কথা
ভাবতেন। ২৬
এপ্রিল ১৮৮০
তারিখে তিনি
লিখেছিলেন—
আমার হাঁটু
ক্রমশ ভালো
হয়ে উঠছে।
তবে ধীর
গতিতে। আমি
ডানপাশ ফিরে
শুতে পারি
এবং একটা
ক্রাচ নিয়ে
হাঁটতে পারছি।
বলতে পারো
আমি মোটামুটি
স্বনির্ভর হয়ে
উঠেছি। কিন্তু
আচমকা ডায়রিয়ায়
আক্রান্ত হয়ে
আবার কাবু
হয়ে পড়লাম।
এটাই এখন
আসল দুশ্চিন্ত।
তবে যত
অসুবিধাই থাকুক,
আমি হিউয়েন
সাং নিয়ে
কাজ শুরু
করতে চাই।
(চিঠি নং-১২৭)
১৮৮১
সালে বিহারের
মহাবোধিতে বেগলারের
একটা আবিষ্কারে
কানিংহাম এতই
উত্তেজিত হয়ে
উঠেছিলেন যে
তিনি নিজ
চোখে তা
দেখার জন্য
মুখিয়ে উঠেছিলেন।
তোমার এই
আবিষ্কার ভীষণ
কৌতূহলোদ্দীপক। আমার
ইচ্ছে করছে
এখনই পাহাড়ে
চড়ে দেখে
আসি তোমার
উন্মোচন। কিন্তু
আমার ডান
পায়ের গোড়ালি
এতটা ফুলে
গেছে যে
এখন ব্যান্ডেজ
করে রাখতে
হয়েছে। আমি
এক রকম
পঙ্গু হয়ে
পড়ে আছি।
(চিঠি
নং-১৪৬)
আসলে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে কঠিন একটা পরিশ্রমী কাজের ছকে আটকে রাখার ফলে তার শরীরকে বিপুল ধকল সহ্য করতে হয়েছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা আরো খারাপের দিকে গেছে। কিন্তু কাজকে তিনি এত ভালোবাসতেন, এত কিছুর পরও কখনোই কাজের প্রতি তার প্রবল উৎসাহে এতটুকু ভাটা পড়েনি।





