১৯৬৩ সালের অক্টোবরে দ্য জার্নাল অব দ্য রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটি অব গ্রেট ব্রিটেন অ্যান্ড আয়ারল্যান্ড-এ প্রকাশিত ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক আবু ইমামের প্রবন্ধ Sir Alexander Cunningham (1814-1893): The First Phase of Indian Archaeology-এর ভাষান্তর। অনুবাদ করেছেন কাব্য কৃত্তিকা। অনুবাদটি সংক্ষেপিত রূপে প্রকাশিত হলো

 

গত একশ বছর বা এ রকম সময় ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে প্রত্নতত্ত্বের বিকশিত হওয়ার পরস্পর যুক্ত ইতিহাসকে উপস্থাপনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও ভারতে এর বিকাশের ক্ষেত্রে কাছাকাছি কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। ডেনমার্ক, এজিয়ান, মিসর ও ক্র্যানবোর্ন চেজে প্রত্নতত্ত্ব এমনভাবে বিকশিত হয়েছিল যেন অনেক পরীক্ষাগারে এ নতুন শাস্ত্রের কর্মপদ্ধতি ও কৌশল নিখুঁতভাবে তৈরি হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, কেন এ পদ্ধতিগুলো ভারতে উৎপাদিত হলো না, যেখানে কিনা আক্ষরিক অর্থেই শত শত প্রত্নস্থান প্রত্নতাত্ত্বিকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক দৃশ্যপটে ঠিক কেমন পরিস্থিতি প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, বিকশিত চিন্তা এবং কৌশলের পরিচয় করানোর ক্ষেত্রে এ রকম দৃশ্যমান দেরি হয়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আমাদের অবশ্যই সেই পর্যায়কে পরীক্ষা করতে হবে, যখন ভারতের প্রত্নতত্ত্ব কানিংহাম ও বারজেসের নিয়ন্ত্রণে ছিল কিংবা তাদের মতের আধিপত্য ছিল।

১৮৩৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সেনা প্রকৌশলী হিসেবে কোম্পানির কাজে আলেকজান্ডার কানিংহাম ভারতে এসেছিলেন। তার চাকরি জীবন পরিষ্কারভাবে দুটি পর্বে বিভক্ত—প্রথমটি ১৮৬০ সাল পর্যন্ত তার সেনাবাহিনীর জীবন, দ্বিতীয়টি ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সার্ভের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন।

ওই সময়ের ব্রিটিশ কলকাতায় কোম্পানির অফিসারদের মধ্যে একজন জেমস প্রিন্সেপ কলকাতা টাঁকশালের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময়ে কোম্পানির মুদ্রা ব্যবস্থা বদলের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ-নিরীক্ষণ করার প্রয়োজন হয়েছিল, যা ভারতের অতীতের মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে তাকে আগ্রহী করে তোলে।

পাশাপাশি ওই সময়ে রণজিৎ সিংয়ের ফরাসি সেনাপতি ভেনচুরা পাঞ্জাব ও পর্বতের সীমানাঘেষাঁ ভূমিতে খনন করতে মনস্থির করেন এবং রণজিৎ সিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ব্যবহার করে খননের আদেশ লাভ করেন। খননে তার প্রাপ্তি আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অন্যরা এ উদাহরণ অনুসরণ করে। আগ্রহ আরো উদগ্র হয়ে ওঠে, যখন প্রচুরসংখ্যক ব্যাকট্রিয়ান, রোমান ও ইন্দো-স্কিথিক মুদ্রা প্রাপ্তি শুরু হয়। প্রিন্সেপের হাতে সূচনা হওয়া জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল এসব বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যায়। এভাবেই প্রিন্সেপ ভারতীয় ইতিহাসের অজানা অঞ্চলকে জানার এ নতুন কারবারের ক্রীড়নকে পরিণত হন।

আরো একটি তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে—ক্যাপ্টেন কটলে খাল খননের সময় আকস্মিকভাবে বেহাতের কাছাকাছি একটি প্রাচীন শহরের অবশেষ আবিষ্কার করেন। কানিংহাম এসব স্বতঃস্ফূর্ত কর্মকাণ্ডের মাঝামাঝি সময়ে এখানে এসে পৌঁছেন। এটা কোনো আশ্চর্য বিষয় নয়, তিনি মুহূর্তেই এ ঘূর্ণনের মধ্যে ধরা পড়েন এবং খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রিন্সেপের সবচেয়ে কাছের সহযোগী হয়ে ওঠেন। তার চোখের সামনে ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী লিপির পাঠোদ্ধার করা হয়। পিয়াদাসীর শিলালিপি পঠিত হয়। টার্নার আবিষ্কার করেন, এ পিয়াদাসী আর কেউ নয় বরং বৌদ্ধ ঐতিহ্যের উদযাপিত সম্রাট অশোক।

ভেনচুরার দেখাদেখি কানিংহাম নিজেই সারনাথের বৃহৎ ধামেক স্তূপ উন্মুক্ত করেন। ১৮৪২ সালে তিনি সংকাশ্যর প্রত্নস্থান আবিষ্কার করেন। ১৮৩৯, ১৮৪৬ ও ১৮৪৭ সালের কাশ্মীর ও লাদাখের জরিপের সময় তিনি তার প্রাত্যহিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে প্রণালিবদ্ধভাবে প্রাচীন নিদর্শনের খোঁজে লিপ্ত হন।

একই সময়ে উনিশ শতকের ত্রিশের দশকের দিকে একই ঐতিহাসিক সময়ে হগসন, টার্নার, সোমা, রেমুসাট, বুর্নফ ও ল্যাসেলের যৌথ গবেষণার মাধ্যমে বৌদ্ধ নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। এটা ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসতত্ত্ব বা ইতিহাস রচনার ভবিষ্যৎ ধারা এবং একই সঙ্গে ভারতীয় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব চর্চার ক্ষেত্রে কানিংহামের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি বৌদ্ধমত এবং ভারতে এর প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। এ সময় থেকে ভারতের প্রত্নতত্ত্বে বৌদ্ধধর্মীয় নিদর্শনের আধিপত্য বিস্তার শুরু হয়। সারনাথে কানিংহামের কার্যক্রম, হিউয়েন সাংয়ের ভাষ্যের পক্ষে তার প্রবন্ধ এবং চূড়ান্তভাবে ১৮৪২ সালের সংকাশ্যর জরিপ, ১৮৫১ সালের সাঁচী খনন তার বৌদ্ধদর্শনকেন্দ্রিক প্রত্নতত্ত্বের দিকে ধাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। কার্যত ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের গবেষণার ক্ষেত্রে বৌদ্ধদর্শনই তাকে সবচেয়ে উত্তম প্রেরণাটি দিয়েছিল।

সংকাশ্যর প্রত্নস্থান আবিষ্কার করার খবরটি লন্ডনে থাকা কর্নেল সাইকেস প্রদান করেন এই বার্তাসহ যে একটি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ প্রতিষ্ঠান তৈরি করা ‘রাজনৈতিকভাবে ভারতীয় সরকার এবং ধর্মীয়ভাবে ব্রিটিশ জনগণের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হবে।’ প্রথমত এটা দেখাবে যে ভারত সাধারণত অগণিত রাজ্যে বিভক্ত ছিল, যা প্রতিটি উল্লেখযোগ্য আক্রমণের পরও একই রকম ছিল। কিন্তু যখনই এটি কোনো একক শাসকের অধীনে ছিল, তখনই সবসময় এ দেশ বিদেশী শক্তিকে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে এটা দেখাবে যে ব্রাহ্মণ্যবাদ অপরিবর্তনশীল ও অপরিবর্তনীয় ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে টিকে আছে এবং যার উদ্ভব তুলনামূলকভাবে আধুনিক উৎস থেকে এবং ক্রমাগত সংযুক্তি ও বিযুক্তিকে গ্রহণ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে খ্রিস্টধর্মের গোড়াপত্তন ভারতে অবশ্যই সাফল্যমণ্ডিত হবে। বৌদ্ধদর্শন ও এর প্রত্নতত্ত্ব এখানে গবেষণা করা হয়েছে মূলত খ্রিস্টধর্মকে প্রচার করার উদ্দেশ্য।

সাইকেস চিঠি লেখার সময়ে তার মাথায় একটা সার্ভে তৈরি করার চিন্তা খেলা করছিল। সংকাশ্যর আবিষ্কার তাকে বিস্ময়ের মধ্যে ফেলে দিল। স্কাইসকে ওই একই চিঠিতে তিনি লেখেন—‘যদি কেউ সময় নিয়ে কাজটা করার সুযোগ পেত, সব স্থান (যা আগ্রহোদ্দীপক বিষয়বস্তুর ইঙ্গিত করে) হেঁটে হেঁটে দেখার সুযোগ পেত, তাহলে কী হতে পারত... এগুলো উন্মুক্ত করা এবং ভারতের সব বৌদ্ধধর্মীয় স্থাপনার অবশেষ শনাক্ত করার কাজ বৃহত্তর আগ্রহের এবং গুরুত্বপূর্ণ। কী পরিমাণ আনন্দ ও উৎসাহ নিয়েই কেউ ফা হিয়েনের মথুরার যাত্রাপথ, তার প্রথম ভারতীয় স্টেশন, শ্রীলংকার দিকে তার যাত্রা করার রাস্তা শনাক্ত করবে।’ ১৮৪৮ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গলের নিজ আবাসে এ বিষয়গুলো আরেকটি পত্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে। ভারতের ইতিহাসকে চিত্রায়িত করার জন্য বেদ ও পুরাণ ছাপানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বুদ্ধিজমের টিকে থাকা অবশেষও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উপরন্তু, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের অবশেষগুলো প্রতিনিয়ত ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছিল এবং লিপিগুলো ভাঙা ও বিকৃত হয়ে পড়ছিল। ‘ভারতে বৌদ্ধ সংস্কৃতি অনেক শতক ধরে বিকশিত হয়েছিল এ সত্যটি কেবল মনুমেন্ট বা স্মৃতিস্তম্ভ থেকেও মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।’ তিনি আরো নির্দেশ করেন কীভাবে ‘ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের একজন অনুসন্ধানকারীর চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এবং ফা হিয়েনের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত।’

এটাই ছিল চিন্তার সেই ভুল, যেটাকে তিনি পরবর্তী সময়ে দেখতে পাবেন। ফ্রান্সিস বুকাননের জরিপ, সাম্প্রতিক সময়ে যা সুবিস্তৃতভাবে পরিচিত হয়েছে মার্টিনের করা ডাইজেস্টের মধ্যদিয়ে। ম্যাকেঞ্জি ও টডের দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিল। এটা সেই সময় যখন ফার্গুসন (১৮৩৫-৪২) মাত্রই তার প্রত্নতাত্ত্বিক ভ্রমণ সম্পন্ন করেন এবং তাদের এ উপলব্ধিগুলো কানিংহাম বিশেষ গুরুত্ব দেননি। উনিশ শতকের শুরুর দিকে করা ত্রিকোণমিতিক ও ট্রপোগ্রাফিক জরিপগুলোও উদ্দীপ্ত হওয়ার একটি উৎস ছিল। কিন্তু কানিংহামের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ গতিপথ ঠিক করে দেয় দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা ফা হিয়েনের ভারত ভ্রমণ বিবরণীর অনুবাদ।

প্রথমবারের মতো অনুবাদটির প্রকাশনার মাধ্যমে ভারতীয় ইতিহাস এমন এক ধরনের বাস্তবতার দিকে গেল, যা এ সময়ের পূর্ব পর্যন্ত অপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ফা হিয়েনের ভাষান্তর—যতটাই খুঁত সম্পন্ন হোক না কেন, ভারতের হারিয়ে যাওয়া শহরগুলোর চিহ্নগুলো শনাক্ত বা খুঁজে বের করার কিছু তাগিদের জোগান দিয়েছিল। ফা হিয়েনের অনুবাদকরা তাদের টেক্সটে ভৌগোলিক নোটগুলো যুক্ত করেছিল, যদিও স্বীকার করা যায় এটি খুব বেশি কার্যকর নয়। কিন্তু JRAS-এ উইলসনের একটি আলোচনার পরেই এটি প্রমাণিত হয়। এ গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধে উইলসন প্রায় সব প্রত্নস্থানকে নিখুঁতভাবে নিরূপণ করেছিল। ১৮৫৭ ও ১৮৫৮ সালে স্ট্যানিসলাস জুলিয়ানের করা হিউয়ান সাংয়ের অনুবাদটি ফা হিয়েনের অনুবাদের ধারায়ই হয়েছিল, যেটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং একইভাবে সুদূর প্রভাব রেখেছিল। উপরন্তু এটি ভারতের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের আরো বিস্তৃত নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে। এ অনুবাদের মূল্য আরো বাড়ে ভি সেইন্ট মার্টিনের উচ্চমানের ভৌগোলিক আলোচনার সংযুক্তির মাধ্যমে।

বইটি সঠিক সময়েই আসে। একটি সার্ভে প্রতিষ্ঠিত করার এর চেয়ে ভালো সময় আর কি হতে পারত? ভারতীয় ইতিহাসের সামগ্রিক রূপ পূর্বের থেকে আরো স্পষ্টতর হচ্ছিল। বুদ্ধিজম সম্পর্কিত বেশি নির্ভরশীল উপাদানগুলো তখন স্কলারদের আয়ত্তের মধ্যে ছিল। ভারতের শিল্পকলার ইতিহাসের কিছু বিষয় ওই একই সময়ে জানা যায়। খরোষ্ঠী ও ব্রাহ্মী উভয়ই পঠিত হয়। রাজনৈতিকভাবে ভারত ব্রিটিশ শাসনের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণের অধীনে একত্র ছিল। প্রান্তীয় অঞ্চল যেখানে এতদিনে প্রবেশাধিকার সহজ ছিল না তা সহজগম্য হয়েছিল। বিদ্রোহ (সিপাহি) পরবর্তী গণহত্যার পরে The Pax Britannica আরো প্রতিপত্তির সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার করে। কানিংহাম তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পরে নিজেই অবসরের দিকে যাচ্ছিলেন।

১৮৬১ সালের নভেম্বরে কানিংহাম লর্ড ক্যানিংয়ের উদ্দেশে একটি মেমোরান্ডাম লেখেন, যেখানে তিনি ভারতের প্রাচীন নিদর্শনের প্রতি সরকারের অনুভূতিহীনতার অভিযোগ করেন। এটা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয় না, সরকার তখন পর্যন্ত ব্রিটিশরাজের বিস্তার ও সুসংহতকরণের দিকে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু প্রাচীন ভারতের যত প্রকার স্থাপত্য বিদ্যমান, ব্রিটিশ রাজের মর্যাদা রক্ষায় সমপরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে এদের নিয়মতান্ত্রিক নিরীক্ষণ করার সময় চলে এসেছিল। এ কাজ সমাপ্ত হলে ভারতের ওপরের দিককার অংশের যত প্রত্নতাত্ত্বিক অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, তার একটি বিস্তারিত ও নিখুঁত ছবি পাওয়া যেত। বিদ্রোহপরবর্তী সে অবস্থায় সরকার মুহূর্তেই চিন্তাটি গ্রহণ করে এবং লর্ড ক্যানিং দ্রুতই কানিংহামকে সার্ভের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আদেশ জারি করেন, ‘ভারতের এ অঞ্চলে অন্য যেকোনো কর্মকর্তার চেয়ে বেশি এ দেশের এন্টিক্যুইটিকে তার গবেষণার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন’ সেই মানুষ হিসেবে। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিউয়েন সাংয়ের দেখা শহরগুলো এবং সেই শহরের দালানগুলো শনাক্ত করা। তার মতে, ধ্বংসাবশেষ দেখে প্রাচীন শহরগুলোর শনাক্তকরণের দক্ষতা একজন প্রত্নতাত্ত্বিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি প্রত্নস্থান পরিদর্শন করতেন, চারপাশের জঙ্গল সাফ করতেন এবং বিশাল শ্রমিক দলকে মুদ্রা, শিলালিপি ও ভাস্কর্য খোঁজার জন্য নিয়োগ দিতেন। তারপর তিনি হয়তো নিজেই গ্রামাঞ্চল, বাগান, ঝোঁপ ও মানুষের বাসস্থান নিজের হাতে পরিষ্কার করতেন। এভাবেই তিনি বহুসংখ্যক শিলালিপি ও ভাস্কর্য সংগ্রহ করেছেন, বিশেষত ভারহুত, কৌসাম্বী ও মথুরা থেকে।

যাহোক, তার প্রত্নতত্ত্ব সীমিত সুযোগের মধ্যেও হয়তো চর্চায় ছিল, তত্ত্বগতভাবে তার অন্তত অনেক বেশি বিশদ চিন্তা ছিল একটি আইডিয়া, যা কার্যতই বর্তমানের যেকোনো চিন্তার মতোই সুসংহত। তিনি এটি তার Memorandam of Instruction-এ ব্যক্ত করেন, যেটা তিনি ১৮৭১ সালে তার সহকারীদের কাছে তুলে ধরেন এবং তার প্রতিবেদনের তৃতীয় ভলিউয়মে প্রকাশ করেন।

তিনি এ ঘোষণা দিয়ে শুরু করেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব ভাঙা ভাস্কর্য, পুরনো দালান ও ধ্বংসাবশেষের ঢিবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং পৃথিবীর ইতিহাসে যা কিছু রয়েছে সবই ধারণ করে।’ যদিও স্থাপত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বস্তু ‘সব প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের গবেষণা বৃদ্ধি করা উচিত, যা তাদের পূর্ববর্তী সময়ের আচরণ ও প্রথাগুলোকে তুলে ধরতে সাহায্য করবে’ এভাবেই তার প্রত্নতত্ত্বের সংজ্ঞা প্রায় সম্পূর্ণটাই নৃবিজ্ঞান এবং সমাজতত্ত্বের গুণাগুণসম্পন্ন হয়ে ওঠে। প্রাগৈতিহাসিক বস্তুগুলো নিয়ে তার যে সচেতনতা তাও আগ্রহোদ্দীপক। অনেকেই সন্দেহ করেন যে তার ১৮৬৬ ও ১৮৭০ সালের মধ্যকার ইউরোপে অবস্থান প্রত্নতত্ত্বের চিন্তা তৈরি হওয়ার পাটাতন হিসেবে কাজ করে। নির্দিষ্টভাবে যখন আমরা মনে করতে পারি যে এটাই সে সময় ছিল, যখন লায়েল, লুব্বক ও টাইলরের বইগুলোর মাধ্যমে প্রাগিতিহাস বিস্তৃতভাবে পরিচিতি পাচ্ছিল। একই সঙ্গে ওই সময়ে নৃবিজ্ঞান ও সমাজতত্ত্বের মঞ্চেও দ্রুততার সঙ্গে গুরুত্ববহ গবেষণাগুলো চলছিল এবং এটার প্রভাব এড়িয়ে যাওয়া কঠিন ছিল।

ভারতে এর সীমানার বাইরে যত পদ্ধতি ও কৌশলের বিকাশ হচ্ছে, তা সম্পর্কে আমরা একটি অবিশ্বাস্য রকমের অসচেতনতা শনাক্ত করতে পারি। কার্যতই কানিংহামের লেখায় কেউ কদাচিৎ তার সমসাময়িক অন্য প্রত্নতাত্ত্বিকদের উল্লেখ পাবে। ১৮৭০ সালে দ্বিতীয় সার্ভের প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে ১৮৬১ সালের মতো একই উপায়ে তিনি তার অসমাপ্ত কাজগুলো আবার তুলে নেন। বছরের পর বছর একই রকমের অনুসন্ধান, খনন ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে যে মনে হয় যেন এ সময়ের মধ্যে প্রত্নতত্ত্বের বিজ্ঞানে নতুন কিছুই ঘটেনি। তিনি ভারতে তার সঙ্গে ঢিবি খননের ব্রিটিশ ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে আসেন এবং আসলে কখনই এর বাইরে বের হতে পারেননি।

কানিংহাম নিশ্চিতভাবেই আধুনিক প্রত্নতত্ত্বের কিছু মূল গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো ভারতে বিকশিত করতে পারতেন, যেহেতু তার বিস্তৃত এবং প্রতিশ্রুতিমূলক গবেষণাক্ষেত্র ছিল, যেমন তক্ষশীলা, বৈশালী, শ্রাবস্তী, কৌসাম্বি ইত্যাদি। যদিও তিনি কখনই তাদের খননে প্রকাশিত অদ্ভুত সমস্যাগুলো ঠিকভাবে বোঝেননি, এমনকি লেয়ার্ডের প্রশ্নের গুরুত্বও তিনি কখনো অনুধাবন করেননি। এ ভাবনার পেছনে অবশ্যম্ভাবীভাবে বাধা প্রদান করেছে যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তা হলো ভারতের ইতিহাসের এপিগ্রাফিক ও লিখিত নথিগুলোর অস্তিত্ব—তার আগ্রহের সময়ের যেকোনো ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘বুদ্ধিস্ট পর্যায়’।

মুলতানে তিনি ৫০ ফিট উচ্চতার একটি সঞ্চয়নের মুখোমুখি হন, যেখানে তার নিজস্ব পথে তাকে নির্দেশনা দেয়ার পছন্দের চিহ্নগুলো—স্থাপনার অবশেষ, ভাস্কর্যের টুকরো বা মুদ্রা এবং লিপি—অনুপস্থিত ছিল। মরিয়া হয়ে তিনি খনন করেন যেটাকে তিনি একটি ‘প্রত্নতাত্ত্বিক কুয়া (archaeological well)’ নাম দেন। একটা বিশাল সেকশন কাটা হয়েছিল, যা ৪০ ফিট গভীর পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যেখানে তিনি কর্ষণহীন মাটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। ফলাফল একটি ট্যাবুলার ফরমে দেয়া হয়। ছকটি এমন একটি নীতির ভিত্তিতে অংকিত হয়েছিল বর্তমানের প্রত্নতত্ত্বে যার কোনো স্থান নেই। যেহেতু তিনি ‘প্রত্নতাত্ত্বিক কুয়া’য় লেভেলে এর সমস্যা ও এদের কাল নিরূপণের সমস্যার মুখোমুখি হলেন, তিনি চেষ্টা করেছিলেন একটি সময় পরীক্ষা করার ছক বানাতে, যার ভিত্তি হবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সঞ্চয়নের পুরুত্বের হার কীরূপ তার ওপর, যাতে সেকশনের যেকোনো নির্দিষ্ট গভীরতায় একটি স্বয়ংক্রিয় কালানুক্রম পাওয়া যায়। এ পদ্ধতি যা দ্বিধাহীনভাবেই একটি মহৎ উদ্যোগ ছিল, তা এরই মধ্যে অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিকদের দ্বারা ব্যবহূত এবং বাতিলকৃত হয়েছে এটার অবশ্যম্ভাবী কিছু সংকটের কারণে। যাই হোক, মোটামুটি অযৌক্তিকভাবে কিছু ফিগারের ভুলভাবে পরিবর্তন করে তিনি এ নির্দিষ্ট ঘটনায় (মুলতান খনন) প্রতি এক-দেড় ফিট সঞ্চয়নকে এর একেকটি শতকের বলে চিহ্নিত করেন।

আরেকবার তার ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এক ধরনের স্তরায়ণবিদ্যায় নীতি তার আওতার মধ্যে প্রায় চলে আসে। এটা ঘটে যখন বোধগয়ায় পুনরানয়নের কাজ চলছিল। মন্দিরের মেঝে সম্পূর্ণরূপে খোঁড়া হয়েছিল এবং মেঝের উন্মোচন হয়েছিল, যা একটার নিচে আরেকটা এমনভাবে অবস্থিত ছিল, যা বিভিন্ন কালপর্বের পুনর্নির্মাণের সাক্ষ্য প্রকাশ করছিল। কাল নির্ণয় করা সম্ভব এমন বস্তুর সঙ্গে মেঝেগুলোর তুলনা করে বিভিন্ন কালপর্বের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তার বোধগয়ার প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন মেঝের কথা বলেছেন অশোকীয় এবং অন্যান্য, সেখানে এমনকি কিছু প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন মন্দিরের বাইরের মাটির স্তরের সঙ্গে ভেতরের মেঝের সংযোগ নির্ণয় করার এবং আরো একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ভিন্ন ভিন্ন ইপোকে প্রত্নস্থানের অ্যাপিয়ারেন্স পুনর্নির্মাণ করার। এটা কার্যতই সামনের দিকে এগোনোর একটি দীর্ঘ পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু এটা অনেক দেরিতে এসেছিল, তিনি তখন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে।

এটা জানা আগ্রহোদ্দীপক হবে, তার অনুশীলনকৃত প্রত্নতত্ত্বের ধরন নিয়ে তার সমসাময়িকদের কীরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল। ঘরের এবং বাইরের উভয় দিকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা অস্থির হয়ে পড়েছিল তার বছরের পর বছর একই অপেশাদারি ভঙ্গিমায় প্রকাশ করা ভ্রমণ প্রতিবেদন নিয়ে, যা সঠিক সেকশন, অনুলিপি ও আলোকচিত্র ছাড়াই প্রকাশ করা হতো। বারজেস কানিংহামের প্রতিবেদন বিষয়ে শেষ করেন এভাবে ‘এগুলো মূলত কিছু অসম্পর্কিত ভ্রমণের প্রতিবেদন... এবং বৈজ্ঞানিক বা গ্রহণযোগ্য নয়’। এর অনেক আগেই ফার্গুসন ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের অবস্থান নিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বুহলার অধৈর্য্য নিয়ে আশা করছিলেন যে তক্ষশীলা, পাটালীপুত্র ও মথুরার মতো রাজধানীগুলোতে ‘পূর্ণাঙ্গ খনন’-এর কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সব স্থাপনাগুলো যা খননকৃত... মূলত বুড্ডিস্ট, যা বর্তমানের গবেষণা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতরভাবে দেখিয়েছে যে কোনোভাবেই এগুলো সর্বপ্রাচীন নয়, এমনকি এরা প্রাচীন ভারতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়।

তাহলে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে কানিংহামের অবস্থান কোন জায়গায়? কানিংহাম ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সার্ভের ‘পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা’। কানিংহাম হিউয়েন সাং এবং ফা হিয়েনকে অনুসরণ করেছিলেন। তিনি লিপির একজন বিশাল পাঠোদ্ধারকারী ছিলেন। তিনি একজন উঁচুমানের মুদ্রা বিশেষজ্ঞ ছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এ চতুর্মুখী কার্যক্রমের কোনোটিই নিয়মতান্ত্রিক গবেষণায় রূপ নেয়নি। লিপিবিদ্যার একজন ফ্লিটের জন্য, মুদ্রাবিদ্যার একজন র্যাপসনের জন্য এবং খননের একজন মার্শালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

যখন এসব কিছু বলা হচ্ছে, তখনো এ বিষয়টা সত্যই রয়ে যায়, তিনি ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের জন্য যা করেছেন তার গুণমান যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক এবং পরিমাণ হিসাব করলে এর কোনো তুলনাই হয় না। সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল সমগ্র উত্তর ভারতের অসংখ্য প্রত্নস্থানের তালিকা তৈরি করা। এসব কিছুর মধ্যে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কারো মাথায় আসতে পারে তা হলো ভারতের বিন্ধ্যাঞ্চলের বুনো-দুর্গম অঞ্চল ও মালওয়া এবং রাজস্থান দ্বারা পরিবেষ্টিত অঞ্চল। এমনকি ভারতের শিলালিপির সংকলনে চোখ বুলিয়ে গেলেও আমরা তার কাছে আমাদের ঋণ স্বীকার করতে বাধ্য হই, যেহেতু এগুলো আমাদের দেখায় যে কি বিপুলসংখ্যক শিলালিপি তিনি আবিষ্কার ও সংরক্ষণ করেছেন। একই ঘটনা মুদ্রার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি সর্বকালের সেরা একজন সংগ্রাহক ছিলেন এবং অনেক নতুন ধরনের ও বৈচিত্র্যের বস্তু তার দ্বারাই প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। তিনি আমাদের সর্বপ্রথম একটি কালানুক্রমিক কাঠামো প্রদান করেন ভারতীয় প্রাচীন মুদ্রাগুলোর সম্পূর্ণ সিরিজের, যা তিনি JASB এবং Numismatic chronicle নামক জার্নালে উল্লেখ করেন।

মনে করা হয় কানিংহামের খ্যাতি তার প্রাচীন ভারতের প্রত্নস্থানগুলোর শনাক্তকরণ এবং প্রাচীন ভারতের ভূগোল ব্যাখ্যা করার মধ্যে নিহিত। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বে স্বীকার্য হিসেবে একটি কানিংহাম পর্যায় মেনে নেয়াটাও ভুল। ভারতীয় ঐতিহাসিক গবেষণায় উত্তর ভারতের অদ্ভুত অধিক আধিপত্যশালী অবস্থা, যা কানিংহামকে সম্ভবত একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ গুরুত্ব প্রদান করেছে। তিনি কখনই লিপিবিদ্যা, মুদ্রাতত্ত্ব, স্থাপত্য ও দক্ষিণের ভাস্কর্যগুলোর ব্যাপক বিস্তৃত কাজের (পরিসর) স্থানের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করেননি, যেখানে বিশাল মাপের ফলপ্রসূ কাজ ফ্লিট, হাল্টজ, কিয়েলহর্ন, রেয়া, রাইস ও সিওয়েলের দ্বারা সাধিত হয়েছে। তার সমসাময়িকদের মধ্যে আরো একজন যার দ্বারা দক্ষিণের বিশেষত পশ্চিম ভারতের বিশদ কাজ হয়েছিল ড. বার্জেসের দ্বারা।

কানিংহামের যদি মেধা থাকে, বার্জেসের ছিল পদ্ধতি। তার প্রতিবেদনগুলো অধিকতর দক্ষভাবে তৈরি এবং অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক ছিল কানিংহামেরগুলোর থেকে। তিনি ভারতের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক ছিলেন, যিনি ওই সময়ে বিকশিত হওয়া আলোকচিত্র শিল্পের বিশদ ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিশেষায়িত জ্ঞানের এবং জ্ঞানজ সহযোগিতার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন এবং তার লিপিবিদ্যা ও মুদ্রাতত্ত্বের জন্য বিশেষজ্ঞদের ওপরে নির্ভর করেছিলেন। ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব এবং ইতিহাসের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে Indian Antiquity ও Epigraphia Indica জার্নালদ্বয়, যা একদল মেধাবী মানুষদের সক্রিয় করেছিল, তাদের সঠিক ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বুহলার, ফ্লিট, হান্টজ ও কিয়েলহর্নের মতো মানুষ, যারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসের সম্পূর্ণ আঙ্গিক বদলে দিয়েছিল।

ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বে কানিংহামের আসল স্থান অনেক আগে সঠিকভাবে ভোগেল নির্ণয় করে গিয়েছিলেন। চাম্বাকে নিয়ে বলার সময় তিনি লেখেন—‘এখানে, অন্যখানের মতোই, ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের মহৎ পথপ্রদর্শক শুধুমাত্র গবেষণাক্ষেত্রকে আলাদা করে অন্যদের কাছে দিয়ে গিয়েছিল এর পরবর্তী অনুসন্ধানের লক্ষ্যে।’ তিনি কার্যতই একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন এবং পরবর্তীদের স্বীকৃতিই তার সর্বোচ্চ পাওনা।