খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিক বকেয়া পড়া ও বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় বিপিএলের দল দুর্বার রাজশাহীর কর্ণধার শফিকুর রহমানকে গতকাল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেয়া হলে তিনি নিজের দায় স্বীকার করে এক সপ্তাহের মধ্যে তিন কিস্তিতে ক্রিকেটার ও কোচদের পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই মোতাবেক গতকাল প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন। রাজশাহীর মিডিয়া ম্যানেজার ইশতিয়াক পারভেজ গতকাল বিকালে বণিক বার্তাকে জানান, পেমেন্ট শুরু হয়ে গেছে। অর্ধেকেরটা হয়ে গেছে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাকিদেরও হয়ে যাবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানায়, পারিশ্রমিক পরিশোধে বারবার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানার পর সোমবার প্রথম প্রহরে শফিকুর রহমানকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে নিজের দায় মেনে নিয়ে তিন কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের কথা বলেছেন তিনি।

পেমেন্ট ইস্যুতে এবারের আসরে সমালোচনার জন্ম দেন রাজশাহীর কর্ণধার। খেলোয়াড়দের টাকা বাকি পড়ায় অনুশীলন বয়কটের হুমকি, চেক বাউন্স করা, বিদেশীদের ম্যাচ না খেলে হোটেলে অবস্থান করা, হোটেলের বিল বাকি পড়ার মতো লজ্জাজনক ঘটনার অবতারণা হয়। অবশেষে গত শনিবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে শফিকুর রহমান বলেন, ‘রোববারের মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতিও রাখতে না পারায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়েছে বলে জানানো হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।’

রোববার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন রাজশাহীর কর্ণধার। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘টালমাটাল অবস্থা সামাল দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের পাওনা বুঝিয়ে দিতে ৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) প্রথম প্রহরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দলটির (দুর্বার রাজশাহী) বিতর্কিত মালিক শফিকুর রহমানকে। সংকট নিরসনে সমাধান জানতে চাইলে, নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়ে ২৫ শতাংশ হারে ৩, ৭ ও ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তথা তিন কিস্তিতে দলের সমস্ত পাওনা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।’