গত ২০ বছরে টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি২০—দক্ষিণ আফ্রিকা সফর মানেই বাংলাদেশের হাহাকারের আরেক নাম। সুদীর্ঘ এই সময়ে দেশটিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটে কোনো ম্যাচ না জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার এই বদনাম ঘুচিয়ে দিতে মরিয়া তামিম ইকবালরা। দক্ষিণ আফ্রিকা যাত্রার আগে ঢাকায় অধিনায়ক বলে গেছেন, এবার শুধু ভালো খেলার জন্য যাচ্ছেন না, জিততেই খেলবেন তারা। তামিমের এই অঙ্গীকার পূরণের মিশন শুরু আজ। সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে শুক্রবার প্রথম ওয়ানডে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৫টায়।

 

গতিময় ও বাউন্সি উইকেটের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬ টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডে খেলে কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। চারটি টি২০ ম্যাচেও ধরা দেয়নি জয়।

 

সুপারস্পোর্ট পার্কে ওয়ানডে বা টি২০ খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই। এখানে বাংলাদেশ শুধু একটি টেস্ট খেলেছে ২০০৮ সালে। এ মাঠ নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলনায়ক তামিম ইকবাল মনে করেন, এখানে শুরু থেকে তাদের ওপর চড়াও হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই নিজেদের শুরুটা ভালো করার প্রয়োজন দেখছেন তিনি।

 

২০০৮ সালে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যাওয়া ওই ম্যাচে খেলেছিলেন তামিম। সেই দলে ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমও। পরিসংখ্যান ঘেঁটে সেঞ্চুরিয়নের মাঠ নিয়ে একটা ধারণা পেয়ে গেছেন তামিম। কিন্তু খেলায় পরিসংখ্যানই তো সব নয়, নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলতে হবে মাঠের ক্রিকেটে।

 

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, এখানে আমাদের ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি, এখানে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবে। যদি পরিসংখ্যানের দিক থেকে বলি, এটা এমন একটা মাঠ যেখানে অনেক রান হয়, সেটা মাঠের আকৃতি কিংবা গতিময় আউটফিল্ডের জন্য। তবে পরিসংখ্যান যতই দেখি না কেন আমাদের মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, কোনো সন্দেহ নেই তারা আমাদের ওপর চড়াও হতে চাইবে। ওই বিষয়টি আমাদের ভালো করে সামাল দিতে হবে। সাম্প্র্রতিক সময়ে বিশ্বকাপে আমরা ওদের বিপক্ষে ভালো খেলেছি। তাই এখানেও ভালো না খেলার কোনো কারণ দেখি না।

 

এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্ট জয়। গত বছর প্রথমবারের মতো যেকোনো ফটম্যাটে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়ের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। বিদেশ জয়ের সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও প্রথম জয় পেতে চান তামিম ইকবালরা। সংস্করণ ভিন্ন হলেও তামিমদের বিশ্বাস, নিউজিল্যান্ডের ওই জয় ছেলেদের দারুণভাবে উদ্দীপ্ত করছে।

 

সাকিব আল হাসান ছুটির দাবি ফেলে দলে যোগ দেয়ায় বাংলাদেশও পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারছে। এতে পাঁচজন আক্রমণের জন্য ফ্রন্টলাইন বোলার পাচ্ছেন তামিম। আবার ব্যাটিংয়ে ৭ ও ৮ নম্বরে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন ব্যাটিংয়ের শক্তি বাড়াবেন, যা কিনা পেসবান্ধব বিদেশি উইকেটে সব সময় বাংলাদেশ দলের প্রত্যাশা থাকে। ব্যাটিংয়ে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের ফর্ম আশা দেখায় বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিটা মুশফিকের।

 

তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের পেস বোলিং আশা জাগায়। দুই বছর আগে বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি শরিফুলের কাছে এখানকার কন্ডিশন চেনা।

 

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেন, অবশ্যই আমরা এখানে আন্ডারডগ হিসেবে এসেছি, এখানে আগে কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। তবে আমাদের ওয়ানডে দল নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা লম্বা সময় ধরে এই সংস্করণে ভালো খেলেছি। খেলোয়াড়রা তাদের ভূমিকা সম্পর্কে জানে। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি সিরিজ আশা করছি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্যই ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে।