প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে জাপান। গত ২০ মার্চ এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে বাহরাইনকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে পূর্ব এশিয়ার দেশটি। এর ঠিক ছয়দিন পর বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বুধবার ভোরে ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার আনন্দ উদযাপন করে আর্জেন্টিনা। যদিও এদিন মাঠে নামার আগেই তাদের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায়। বলিভিয়া নিজেদের মাঠে উরুগুয়েকে হারাতে ব্যর্থ হওয়ায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
এ ম্যাচে না থেকেও ছিলেন আরেক লিওনেল—তিনি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক চোটের কারণে সর্বশেষ দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। এতে সমর্থকদের মধ্যে ছিল হতাশা। যদিও সতীর্থরা তার অভাব বুঝতেই দেননি। দল ও সমর্থকদের কাছে মেসি এমনই এক প্রাণভোমরা যে জয়শেষে আলোচনায় সেই মেসি, যিনি ছিলেন ৭ হাজার কিলোমিটার দূরের মায়ামিতে। হুলিয়ান আলভারেজসহ সতীর্থ ও কোচ স্কালোনিকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় মেসিকে নিয়ে। তিনি থাকলে ফল কেমন হতো কিংবা তিনি বিশ্বকাপে খেলবেন কিনা—এমন নানা প্রশ্ন।
লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ জিততে না পারা নিয়ে ছিল দীর্ঘ হাহাকার, আক্ষেপ। অবশেষে ২০২২ সালে সেই আক্ষেপ ঘুচেছে। কাতারে মেসির নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা। এরপর মাঝে দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা পরের বিশ্বকাপে খেলার টিকিটও নিশ্চিত করে ফেলেছে। প্রশ্ন জেগেছে, মেসি কি খেলবেন ২০২৬ বিশ্বকাপে?
প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। মেসির নেতৃত্বে ২০২২ সালে কাতার থেকে বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা। এটা ছিল দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ মুকুট। মেসিকে ঘিরেই আরেকবার বিশ্বকাপ জিততে চায় আর্জেন্টাইনরা। যদিও খেলোয়াড়টি সরাসরি এখনো কিছু জানাননি। তবে তার পরিকল্পনায় অনেকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি ইউরোপ কিংবা সৌদি আরবের কোটি কোটি ডলারের হাতছানি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিকে বেছে নিয়েছেন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই। এ থেকে অনুমান করে নেয়া কঠিন নয়।
গত বুধবার ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনির কাছে মেসির খেলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়, এখনো তো অনেক সময় আছে। আসলে তার সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দিতে হবে, দেখি না কী হয়। সে যখন চাইবে, তখনই সিদ্ধান্ত নেবে। এ নিয়ে তাকে পাগল করে দেয়া উচিত হবে না।’
তবে মেসিকে যে দলে প্রয়োজন রয়েছে সেটা তার সতীর্থদের চেয়ে কে আর ভালো জানে। ব্রাজিল ৪-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ বললেন, ‘মেসি থাকলে আমরা হয়তো আরো ২-৩ গোল বেশি করতাম।’
মেসির ‘বডি গার্ড’খ্যাত রদ্রিগো ডি পল কী বলছে শুনুন, ‘আমরা তখনই সবচেয়ে বেশি ভালো খেলি, যখন ১০ নম্বর খেলেন। কারণ তিনিই সর্বকালের সেরা।’
সতীর্থদের কথায়ই মনে হয়, ফিট থাকলে মেসিকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে আর্জেন্টিনা। কারণ বয়স ৩৭ হয়ে যাওয়ায় গতি খানিকটা কমলেও ধার কমেনি। এখনো তার ড্রিবলিং, পাসিং মোহনীয়। ফিট থাকলে নিশ্চিতভাবেই তাকে ঘিরে আরেকবার রণকৌশল সাজাবেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। মেসিও নিভৃত মনে নিজেকে তৈরি করে চলেছেন। আর বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের জন্যই তো যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ফুটবলকে বেছে নিয়েছেন। এখন সময়ই বলে দেবে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত আকাশি-সাদা জার্সিতে আরেকবার বিশ্ব আসরে মেসিকে দেখা যাবে কিনা।
ইউরোপ অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে খেলবে সর্বোচ্চ ১৬টি দল। এছাড়া আফ্রিকা থেকে ৯টি ও এশিয়া থেকে ৮টি দল অংশ নেবে। দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল (কনকাকাফ) থেকে অন্তত ৬টি করে দল অংশগ্রহণ করবে, আর ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি খেলবে একটি দল। বাকি দুটি দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়েছে ৭টি দেশের।
এশিয়া মহাদেশে এখনো বাকি ছয়টি দল। উজবেকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া সুবিধাজনক স্থানে আছে। বাছাইপর্ব থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইরাক, ওমান, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়ারও।
আফ্রিকায় ৯ গ্রুপের শীর্ষ ৯টি দল বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে। ১০ ম্যাচের গ্রুপ পর্বের ৬টি করে ম্যাচ শেষে গ্রুপের শীর্ষে আছে মিসর, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেপ ভার্দে, মরক্কো, আইভরি কোস্ট, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও ঘানা।
কনকাকাফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি জায়গা পাওয়ায় এখানের হিসাবটা ভিন্ন। কোস্টারিকা, জ্যামাইকা ও হন্ডুরাসের মতো দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করবে। তৃতীয় রাউন্ডে তিন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। এখনো দ্বিতীয় রাউন্ডই শেষ হয়নি।
দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনাসহ সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে প্রথম ছয়টি দল। বাকি পাঁচটি জায়গার লড়াইয়ে কাগজে-কলমে টিকে আছে সব দলই। তবে একুয়েডর, উরুগুয়ে, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও কলম্বিয়া সুবিধাজনক স্থানে আছে। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সর্বশেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও ১৪ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এখনো বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে।
ওশেনিয়ায় একটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে, এরই মধ্যে টিকিট পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।
ইউরোপে এ মহাদেশে চলতি মাসেই শুরু হয়েছে বাছাইপর্ব। ১৬টি স্থানের জন্য ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়ছে দলগুলো। তবে মার্চে মাত্র ৬টি গ্রুপের খেলাই শুরু হয়েছে। বাকি ছয় গ্রুপের খেলা শুরু হবে সেপ্টেম্বরে।










