মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৬টায় মিসরের আল আহলি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ২১তম ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ আসরের। স্বাগতিক হিসেবে এ আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া ইন্টার মায়ামি উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে। ‘এ’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৪টায় ব্রাজিলের পরাশক্তি পালমেইরাস খেলবে পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোর বিপক্ষে। লাতিন ও ব্রাজিলের সব ধরণের ট্রফি জেতা পালমেইরাসের সামনে এবার বৈশ্বিক শিরোপা জয়ের চ্যালেঞ্জ।

পালমেইরাসের জন্য এই আসর বেশ গুরুত্বপূর্ণ, অর্থবহ: এই শিরোপাটি জিততে পারলে তাদের জন্য একরকম ‘শাপমোচন’ হবে।

কোচ আবেল ফেরেইরার অধীনে ২০২০ সাল থেকে দুটি কোপা লিবার্তাদোরেস (লাতিন মহাদেশের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার ট্রফি) ও ব্রাজিলিয়ান লিগ, কাপ ও রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছে পালমেইরাস। এমনকি ফেরেইরার আগেও ক্লাবটি একবার লাতিন মুকুট ও ১১ বার লিগ শিরোপা জিতেছে। একমাত্র যে শিরোপাটির স্বাদ তারা পায়নি তা হলো ক্লাব বিশ্বকাপ।

ব্রাজিল থেকে এবার অংশ নিচ্ছে আরো তিন দল—ফ্লামেঙ্গো, ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগো। ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগো আগে কখনো ক্লাব বিশ্বকাপ জেতেনি। তবে ১ কোটি ৬০ লাখ সমর্থকপুষ্ট দল পালমেইরাসের সমস্যা মূলত তিন স্থানীয় ক্লাব করিন্থিয়ান্স, সাও পাওলো ও স্যান্টোসকে নিয়ে, যারা প্রত্যেকেই অন্তত দুবার করে এই শিরোপাটি জিতেছে। এর ফলে গত দুই দশক ধরে অনেক ঠাট্টা-মশকরা ও অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। গত মাসে ফেরেইরা বলছিলেন, ‘এটা সত্য যে, আমাদের ট্রফিটি জেতার ১০% সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই, এই ১০% সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই আমরা প্রথম গোলের মধ্য দিয়ে শুরু করব এবং গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যেতে চেষ্টা করব, আমরা অবশ্যই এর যোগ্য।’

২০২১ সালের কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার ক্লাব বিশ্বকাপে আসা পালমেইরাসের গ্রুপ প্রতিপক্ষ পোর্তো, মিসরের আল আহলি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামি। ফ্লামেঙ্গো, ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগোও কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পেয়েছে। আর কোনো দেশ থেকে এত বেশি ক্লাব এবার সুযোগ পায়নি।

পালমেইরাস সমর্থক ম্যাথিউস ফ্লোর মনে করেন, এর চেয়ে বরং ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয় করা তার দলের জন্য সহজ, যেটি অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত আসর। যদি আগামী নভেম্বরে কোপা লিবার্তাদেরস শিরোপা জিততে পারে পালমেইরাস তবে ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার সুযোগ পাবে তারা। ম্যাথিউস বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে, ইউরোপিয়ান ক্লাবকে খেলতে হয় শুধু ফাইনালে। সেক্ষেত্রে আমি দুবাই, টোকিও কিংবা যেকোনো জায়গায় টাকা খরচ করে গিয়ে খেলা দেখতে রাজি আছি। এবার, আমরা খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নই, কারণ. জানি যে এটা কঠিন।’

নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে পালমেইরাস-পোর্তো ম্যাচে চোখ রাখবেন সাও পাওলোর ফুটবল সমর্থকরা।