ডালাস স্টেডিয়ামে শনিবার দিবাগত রাত ২টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। র্যাংকিংয়ের ৮ ও ১৮ নম্বর দলের এ লড়াই শুরুতে ছিল ধীরগতির, দ্বিতীয়ার্ধে তা দারুণ আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে। এ লড়াইয়েও শেষ পর্যন্ত কেউ হারেনি।
ডাচরা দু-দুবার এগিয়ে যায়, বিপরীতে জাপানও দুবারই সমতাসূচক গোল করে। প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর (৫১ মিনিট) লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক নিচু হেডে গোল করে এগিয়ে দেন ডাচদের। ছয় মিনিট পরই জবাব দেয় জাপান। গোল পরিশোধ করেন কেউতো নাকামুরা। ডাচ গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে মাটি কামড়ানো শটে তিনি বলকে জালে জড়ান।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ওয়েস্ট হ্যামের খেলোয়াড় ক্রাইসেনসিও সামারভাইল নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন (২-১)। বাম পায়ের জোরালো শটে বল বাম কোনা দিয়ে জালে আশ্রয় নেয়। এ গোলের পর ডাচরা জয়ের পথেই ছিল। তবে জাপানি চমক যে বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে দাইচি কামাদা কর্নারের বলে হেড থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে জাপানকে আবার সমতায় ফেরান।
প্রায় নিশ্চিত এক জয় হাতছাড়া হওয়ায় ডাচদের হতাশ হওয়ারই কথা। তবে দলটির মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং জানিয়েছেন, পয়েন্ট হারালেও ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলোতে নজর দিচ্ছেন তারা। বার্সার এ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের রক্ষণভাগ ভালো ছিল এবং বলের দখলেও আমরা ভালো করেছি। আমরা ধৈর্যশীল ছিলাম। কাজটা কঠিন ছিল কারণ তারা লো ব্লকে ভালোভাবে ডিফেন্ড করেছে। এর পরও আমরা ভালো কিছু পরিস্থিতি আর সুযোগ তৈরি করতে সমর্থ হই। শেষ পর্যন্ত আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য ভালো একটি ম্যাচ ছিল।’
ডালাসের এ লড়াই শেষে ‘ইন্টারস্টেট ৪৫’ হাইওয়ে ধরে হিউস্টন যাত্রা করবে ডাচরা। সেখানে শনিবার তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন, যারা ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আরব দেশ তিউনিসিয়াকে।
এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে ডাচ সেন্টার ব্যাক ইয়ান পল ভ্যান হেকের। তিনি অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বকাপে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা বড় সম্মানের। বিশেষ করে, আমেরিকায় তো এটি অভাবনীয় ব্যাপার এবং এই স্টেডিয়ামটিতে খেলাও দারুণ ব্যাপার। আমি যেসব স্টেডিয়ামে খেলেছি তার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা।’
ডি ইয়াংয়ের মতোই শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ভ্যান হেক। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আমরা তিন পয়েন্ট পাইনি বলে শেষ পর্যন্ত আমি কিছুটা হতাশ, তবে এটা ভুলে আমাদের সামনে তাকাতে হবে।’
তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিল সুইডেন: বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দুর্দান্ত সূচনা করল সুইডেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল সকালে মেক্সিকোর মন্টেরেইতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাবার জন্মভূমি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। এছাড়া গোল পেয়েছেন আলেকসান্দার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেস।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারকাবহুল সুইডেন। ইসাক, ইয়োকেরেসসহ ইউরোপ মাতানো এক ঝাঁক তারকা নিয়ে গড়া দলটি আফ্রিকান-আরব দল তিউনিসিয়াকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারায় জার্মানি। তারপর সুইডেনের জয়টিই চলতি আসরে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এছাড়া ১৯৩৮ সালের পর বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সুইডেনের পাঁচ গোল করার প্রথম ঘটনা এটি। ১৯৩৮ সালে তারা কিউবাকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল।
সুইডেন শুরু থেকেই ম্যাচে কর্তৃত্ব করে। ৭ মিনিটে ইয়াসিন আয়ারির দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। এরপর কাউন্টার অ্যাটাকে ইসাক ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বিরতির আগে তিউনিসিয়ার ওমর রেকিক হেডে গোল করে ব্যবধান কমালেও দ্বিতীয়ার্ধে আবারো নিয়ন্ত্রণ নেয় সুইডেন। ৫৯ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্সেনাল তারকা ভিক্টর ইয়োকেরেস (৩-১)। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে মাতিয়াস সভেনবার্গ আর স্টপেজ টাইমে আয়ারি নিজের দ্বিতীয় গোল করলে সুইডেনের বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
একুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট: গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শেষ মিনিটের গোলে লাতিন দল একুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আফ্রিকান দল আইভরি কোস্ট। বদলি খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালো গোল করে পশ্চিম আফ্রিকার দলটিকে নাটকীয় জয় এনে দেন।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দলই বেশকিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। একুয়েডরের তিন তিনটি শট ক্রসবারে লাগে। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এন্নার ভ্যালেন্সিয়া, জন ইয়েবোয়া ও অ্যালান মিন্দা ক্রসবারে লাগিয়েছেন। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের এলিয়ে ইয়াহিয়া একবার বল লাগান। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৯০তম মিনিটে আসে ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। উইলফ্রিড সিঙ্গোর বাড়ানো বল প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার দিয়ালো। তাতেই নিশ্চিত হয় আইভরি কোস্টের জয়।
একুয়েডর ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে গনসালো প্লাতার দূরপাল্লার শট আইভরি কোস্ট গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা ঠেকিয়ে দেন।
এ হারের আগে ১৯ ম্যাচে অপরাজিত ছিল একুয়েডর। এমনকি আগের ১২টি ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার গৌরব দেখায় সেবাস্তিয়ান বেক্কাচির দল। আইভরিয়ান তারকা ইয়ান দিওমান্দে ও তার সতীর্থদেরও হতাশ করছিলেন একুয়েডরের রক্ষণভাগ। এরপর দিয়ালা ত্রাতা হয়ে এসে তিন পয়েন্ট এনে দেন আইভরি কোস্টকে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আইভরি কোস্ট কোনো গোল না খেয়েই মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। সেই ফর্ম তারা ধরে রাখল বিশ্বকাপেও। দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলটি আইভরি কোস্টকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আইভরি কোস্টের মূল একাদশে দিয়ালোর না থাকাটা ছিল বিস্ময়ের। সেই দিয়ালোই বদলি হিসেবে নেমে জয় এনে দিলেন এলিফ্যান্টদের।
শনিবার রাত ২টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে জার্মানির মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট। রোববার ভোর ৬টায় কানসাস সিটিতে একুয়েডর খেলবে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।










