রোববার সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের ফুটবলাররা যখন একে একে পদক নিচ্ছিলেন তখনই ঘটে যায় অপ্রীতিকর এক ঘটনা। পদকমঞ্চে অতিথির তালিকায় ছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, স্পেনের রানী আর স্পেন ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট লুইস রুবিয়ালেস। এ সময় চ্যাম্পিয়ন লা রোজাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আলিঙ্গন করেন রুবিয়ালেস। কাউকে বা মুখেও চুমু দিচ্ছিলেন। একটি পর্যায়ে ফরওয়ার্ড জেনিফার হারমোসোর ঠোটেই চুমু দিয়ে ফেলেন!

 

পরে এ নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হলে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ পড়ে যায়। হারমোসো তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এ ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করলে ক্ষোভ বাড়ে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতেই হয়তো পরে একে আবেগের মুহূর্তে ‘স্বাভাবিক’ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন হারমোসো। রুবিয়ালেসও এ নিয়ে যারা সমালোচনা করেন তাদের ‘নির্বোধ’ বলে দাবি করেন। তিনি একে ‘কোনো অর্জনের পর দুই বন্ধুর উদযাপনের অংশ হিসেবে চুমু’ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু তাতে সমালোচনা থামছিল না। অবশেষে রুবিয়ালেসের চেতনা ফিরল। তিনি প্রকাশ্যে হারমোসোর ঠোটে চুমু খাওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

 

হারমোসো ইনস্টাগ্রামে বলছিলেন, ‘আমি এটা পছন্দ করিনি।’ পরে অবশ্য তার পক্ষ থেকে রুবিয়ালেসকে রক্ষা করতেই একে ‘স্বাভাবিক’ ঘটনা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের অপরিসীম আনন্দের কারণে এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত পারস্পরিক অঙ্গভঙ্গি। প্রেসিডেন্ট এবং আমার মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। আমাদের সবার প্রতিই তাঁর আচরণ অনুকরণীয় এবং এটি ছিল স্নেহ ও কৃতজ্ঞতার স্বাভাবিক প্রকাশ।’

 

কিন্তু হারমোসা রক্ষা করতে পারছিলেন না ফেডারেশন প্রেসিডেন্টকে। প্রচন্ড চাপের মুখে আজ সোমবার সন্ধ্যায় রুবিয়ালেস বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণরূপেই ভুল ছিলাম। আমাকে এটা স্বীকার করতেই হবে। আমি অনুতপ্ত। চরম উত্তেজনার মুহূর্তে এতে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। ওই মুহূর্তে এক আমরা স্বাভাবিক হিসেবেই নিয়েছিলাম। কিন্তু বাইরে এ নিয়ে একটি আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। আমি বুঝতে পারছি, যখন আপনি প্রেসিডেন্ট তখন আরো সতর্ক থাকতে হবে।’

 

স্পেন সরকারের কিছু মন্ত্রীও রুবিয়ালেসের কঠোর সমালোচনা করেন। এছাড়া বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্পেনের লিঙ্গ সমতা বিষয়কমন্ত্রী ইরেনে মন্তেরো বলেন, ‘নারী প্রতিদিন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, এটি তারই একটি ধরণ। একে আমরা স্বাভাবিক হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি না। সম্মতি ছাড়া কাউকে চুমু দেয়ার ভান করা উচিত নয়, যেটা এদিন ঘটেছে।’

 

স্পেনের ক্রীড়ামন্ত্রী মিকুয়েল ইসেতা স্পেনের সরকারি রেডিওকে বলেছেন, এটা ‘অগ্রহণযোগ্য’। তার কথায়, ‘প্রথমেই তাকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে ও দুঃখপ্রকাশ করতে হবে।’

 

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পাইস শিরোনাম লিখেছেন, ‘রুবিয়ালেসের চুমু পছন্দ করেনি জেনি, আমরাও না।’

 

স্পেন ফুটবল ফেডারেশন এর আগেও বিতর্কে জড়ায়। গত বছর সেপ্টেম্বরে ফেডারেশন জানায়, ১৫ জন খেলোয়াড় কোচ হোর্হে ভিলদার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে দল থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেন। তারা তাদের ‘মানসিক অবস্থা’ ও ‘স্বাস্থ্য’কে গুরুত্ব প্রদানের দাবি তোলেন। ফেডারেশন অবশ্য সেই ঘটনায় ভিলদারই পাশে থাকে। এমনকি বিশ্বকাপ জয়ের পরও ‘ভিলদা ইন’ লিখে পোস্ট দিয়েছে অফিশিয়াল ‘ট্রেন্ডিং অন এক্স’ পেজে।

 

সর্বশেষ চুমুর ঘটনায় রুবিয়ালেস দুঃখপ্রকাশ করে হয়তো পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নারী ফুটবলাররা তাদের নিজ ফেডারেশনেই কি নিরাপদ?