বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে ২০২৫ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। একুশে পদকে ভূষিত হয়ে আনন্দিত নারী ফুটবলাররা।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে। নেপালের সেই একইমঞ্চে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর আবারো সাফ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। ফাইনাল ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর রাঙ্গামাটির কৃতী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ৮১ মিনিটে বামপায়ের ভূবনমোহিনী এক শটে গোল করে নেপালিদের হৃদয় ভেঙে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বারের মতো এনে দেন সাফ মুকুট।
সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৩১ অক্টোবর সংবর্ধনা দেয়া হয় মেয়েদের। সাবিনা খাতুনের দলকে করে হুডখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকে নেয়া হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে। পথে পথে ছিল পুষ্পবৃষ্টি। এরপর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনসহ নানা প্রতিষ্ঠান মেয়েদের অর্থ পুরস্কার দেয়। ফুটবল ফেডারেশন দেড় কোটি টাকার ঘোষণা দিয়েছে, সেটি এখনো বুঝে পাননি সাবিনারা।
২ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা। ড. ইউনূস সবার সঙ্গে কথা বলেন ও ছবি তোলেন। তাদের নানা দিকনির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। এবার রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন সাবিনা, ঋতুপর্ণা, সানজিদারা।
সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এই অর্জন নিয়ে বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘ভালো লাগছে শুনে। অনেক সম্মানের এই পদক। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।’
জাতীয় দলের কৃতী ডিফেন্ডার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিলুফা ইয়াসমিন নীলা একুশে পদক প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো খবর, শুনে আমার অনেক ভালো লাগছে। এতো ঝামেলার ভেতরও একটু ভালো লাগা কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একুশে পদক অনেক সম্মানের একটি পদক। তো সেই হিসেবে অনেক ভালো লাগা কাজ করছে। এসব পুরস্কার ভবিষ্যতে আরো বেশি অনুপ্রেরণা দেবে।’
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার প্রত্যন্ত কলসিন্দুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ‘পোস্টার গার্ল’ হয়ে ওঠা সানজিদা আক্তার তার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘এই খবর শুনে অনেক ভালো লাগছে। অনেক সম্মানের।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ মেয়েদের একুশে পদক প্রাপ্ত নিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না যে আমার কতটা ভালো লাগছে। কতটা স্ট্রাগল, কতটা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মেয়েরা আজ এই অবস্থানে এসেছে, সেটা সবাই জানেন। আর বর্তমানে আমাদের একটা ক্রাইসিস মোমেন্ট যাচ্ছে, এই সময় এই স্বীকৃতি মেয়েদের আরো সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।’










