টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ নিউইয়র্কে ভারত-পাকিস্তান উত্তাপ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়েই আজ মাঠে নামবে ভারত। যদিও মানসিকভাবে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে পাকিস্তানিরা। বড় অঘটনের শিকার হয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে। ডালাসে ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে বাবর আজমের দলকে হারিয়েছে সহস্বাগতিক দেশটি। এটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরই অন্যতম বড় অঘটন। 

এখন চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অঘটন হওয়া ৫ স্মরণীয় ম্যাচে...

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের হার, ২০২৪: টেস্ট জাতি বাংলাদেশকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা দারুণভাবে সেরে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। দলটির পেসার আলী খান তখন বলছিলেন, এটা হঠাৎ পাওয়া কোনো সাফল্য নয়, তারা বড় দলের বিপক্ষে জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত। 

আলী খানরা কথা রেখেছেন। প্রথম ম্যাচে অ্যারন জোন্সের অভাবনীয় ব্যাটিং প্রদর্শনীতে কানাডাকে হারিয়ে শুরু। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ডালাসে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও গতবারের রানারআপ পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারিয়ে দেয় মোনাঙ্ক প্যাটেলের দল। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়া পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে। ১৬০ রান তাড়া করতে নেমে শেষ বলের বাউন্ডারিতে যুক্তরাষ্ট্রকেও ৩ উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৫৯ রান তুললে ম্যাচটা ‘টাই’ হয়ে পড়ে। এরপর সুপার ওভারে দাপট দেখিয়ে জিতেছে আইসিসির এ সহযোগী দেশটি। তাদের ১৮ রানের জবাবে পাকিস্তান ১৩ রান তুলতে সমর্থ হয়। পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে মনে হবে, যুক্তরাষ্ট্রই ছিল ফেভারিট। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় ম্যাচের জন্ম হলো ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে। 

আয়ারল্যান্ডের কাছে ইংল্যান্ডের হার, ২০২২: ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হলেও গ্রুপ ম্যাচে তাদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল প্রতিবেশী আয়ারল্যান্ড। গায়ানায় ইংল্যান্ডকে ২০ ওভারে ১২০ রানে আটকে দেয় আইরিশরা। পরে আয়ারল্যান্ড ৩.৩ ওভারে ১৪ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হয়ে যায়। আইরিশরা সেই অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত করে ১২ বছর পর মেলবোর্নে। ২০২২ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ রাউন্ডে ইংল্যান্ডকে ডিএলএস মেথডে ৫ রানে হারায় আয়ারল্যান্ড। আগে ব্যাটিং করে ১৫৭ রান তোলে আইরিশরা। জবাবে ইংল্যান্ড ১৪.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৫ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে আর খেলা হয়নি। ওই সময় বৃষ্টি আইনে ৫ রানে এগিয়ে ছিল আয়ারল্যান্ড। 

কাকতালীয়ভাবে দুটি ম্যাচেই বৃষ্টি বাগড়া দেয়। যদিও শেষেরটির ফল হয়েছে ডিএলএস মেথডে এবং তা আইরিশদের পক্ষেই যায়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, দুটি আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড!

নামিবিয়ার কাছে শ্রীলংকার হার, ২০২২: ২০২২ সালে ভিক্টোরিয়ার বন্দর শহর জিলংয়ের কার্দিনিয়া পার্কের ১৬ হাজার দর্শক ও গোটা ক্রিকেট বিশ্বকাপে অবিস্মরণীয় এক মুহূর্তের মুখোমুখি করে দেয়। আফ্রিকান জাতিটি ১৬৪ রানের শক্ত টার্গেট ছুড়ে দেয় শ্রীলংকাকে। এ টার্গেটের পেছনে ছুটতে গিয়ে ২০১৪ আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১৯ ওভারে ১০৮ রানে অলআউট। একটি সময় দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে খেলা ডেভিড উইজে এখন খেলেন নামিবিয়ার হয়ে। তিনিই বড় ক্ষতিটা করেন শ্রীলংকার। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে শিকার করেন দুই উইকেট। ২৮ বলে ৪৪ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন তার সতীর্থ ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক।

আফগানিস্তানের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার, ২০১৬: ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করার পথেই বড় এক অঘটনের শিকার হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তখনকার পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার টেন পর্বে ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তিনটি বড় দলকে হারালেও ‘পা কাটে পচা শামুকে’। সুপার টেনের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৬ রানে হার মানে ড্যারেন স্যামির দল। আফগানরা আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২৩ রান তোলে। জবাব দিতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে ১১৭ রান তুলতে সমর্থ হয়। যদিও এ হারের পরও গ্রুপ লিডার হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে স্যামির দল এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফেরেন ক্যারিবীয় তারকারা। 

নেদারল্যান্ডসের কাছে ইংল্যান্ডের হার, ২০০৯: ২০০৯ সালের আসরে লর্ডসে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে অঘটনের শিকার হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬২ রান তোলে ইংল্যান্ড। লুক রাইট ৪৯ বলে ৭১ রান করে দলকে লড়াইয়ে পুঁজি এনে দেন। যদিও এ রানও যথেষ্ট মনে হলো না। টম ডি গ্রুথের (৩০ বলে ৪৯) দৃঢ়তায় ডাচরা শেষ বলে ৪ উইকেটের স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। ইংলিশরা পরে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠলেও ডাচদের কাছে হারের ট্রমা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সুপার এইটে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিদায় নেয়। আইসিসি