সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই সোমবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কৃতী এ অলরাউন্ডারকে ছাড়া একাদশ সাজাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। তিনি আশা করছেন, সাকিবের অভাব অনেকটাই পূরণ করবেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া, সদ্য বরখাস্ত হওয়া কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রসঙ্গও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। শান্ত বলেছেন, তারা আপাতত বাইরের জিনিস নিয়ে নয়, ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন।
আজ রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে নিয়েই বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েন শান্ত। এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বেশ সতর্ক ও কৌশলী ছিলেন।
সাকিব যেন মিরপুর টেস্ট খেলতে না পারেন সেজন্য মিরপুরসহ ঢাকার একাধিক জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছে। ফলে সাকিব দেশে আসতে পারেননি। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে শান্ত বলেছেন ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। এমনটি হওয়া উচিৎ হয়নি। তবে ম্যাচের আগের তিন আমরা এ নিয়ে কথা বলে খুব বেশি সময় নষ্ট করতে চাই না। সাকিবের আসার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, কাজেই আমরা এ নিয়ে খুব বেশি ভেবে সময় নষ্ট করতে পারি না। আমরা এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচে মনোযোগটা দিতে চাই এবং খেলোয়াড়রা সেটাই করছে।’
সাকিব ছিলেন একের ভেতর দুই। একজন বোলার ও ব্যাটার হিসেবে দলে অবদান রাখতেন। এখন কে তার শূন্যতা পূরণ করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘অন্য কাউকে দিয়ে সাকিবের জায়গা পূরণ করা কঠিন, বিশেষ করে একজন অধিনায়কের জন্য তো বটেই। তিনি থাকলে আমরা একজন বাড়তি বোলার ও ব্যাটার পেতাম। এখন ৭ নম্বর পজিশনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঠিক সাকিব ভাইয়ের মতো কাউকে আমরা পাইনি। তবে মিরাজ ভালো একজন বিকল্প হতে পারে। সে টেস্টে দারুণ বোলিং ও ব্যাটিং করছে। আরো অনেক দায়িত্ব আছে, সেজন্য মিরাজ প্রস্তুত রয়েছে। সে তার ব্যাটিংয়ে উন্নতি করেছে, দলকে বিপদের সময় টেনে তুলছে। আশাকরি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সে জায়গাটি (সাকিবের) নিয়ে নেবে।’
সাকিব হয়তো বিদায়ী সংবর্ধনা পেতেন। তবে তার কিছুই হলো না। এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আগামীকাল আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। এটা সাকিবের বিদায়ী টেস্ট হলে ভালো লাগতো। কিন্তু তিনি কেন আসতে পারলেন না তা আমরা সকলেই জানি। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে বিদায় দেয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।’
এদিকে, গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসুম আহমেদের গায়ে হাত তোলা ও বাড়তি ছুটি কাটানোর অভিযোগে বাংলাদেশ দলের কোচের চাকরি হারিয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তবে বোর্ডের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীলংকান কোচ। আজ সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শান্তর বলেন, ‘আমি এই ব্যাপারে আসলে জানিই না। সত্যি বললাম, আমি জানি না।’
হাথুরুকে বরখাস্ত করার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, দল বাইরের জিনিসগুলো নিয়ে ভাবছে না। আগামীকাল খেলা। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমরা আগে কখনো জিতিনি। আমাদের ঘরের মাঠে খেলা, আমরা ঘরের মাঠে ভালো দল। আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য দারুণ কিছু করার ভালো সুযোগ।’
নতুন কোচ ফিল সিমন্সকে নিয়ে তিনি বলেন ‘আমার সঙ্গে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। তিনি খুবই নতুন। আশা করছি, দু-তিন ম্যাচের মধ্যে মানিয়ে নিতে পারব। এই কোচ খুব বেশি পরিকল্পনা দেননি। উনি মাত্রই এলেন। আমরা যেহেতু এ মাঠে অনেক ম্যাচ খেলেছি, নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই সবকিছু করার চেষ্টা করছি।’










