প্রথম ইনিংসে ২০২ রানে পিছিয়ে পড়েও আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ইনিংসে যাচ্ছেতাই সূচনা করে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা ৪ রানেই হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট। সাজঘরে ফিরে যান সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনই কাগিসো রাবাদার শিকার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫৫ রানের জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেয় বাংলাদেশ। শান্ত অবশ্য চাপের মুখে দলকে বিপদে রেখে ২৩ রানে আউট হয়ে যান (৫৯/৩)।

তখন বিপর্যয়ে শঙ্কা উঁকি দেয়। যদিও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মুশফিকুর রহিম ও জয়। দুজন ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নির্বিঘ্নেই দিনের বাকি সময়টা পার করে দেন। আলোকস্বল্পতায় ঘণ্টাখানেক আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০১ রান। জয় ৮০ বলে ৩৮ ও মুশফিক ২৬ বলে ৩১ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

৩১ রান করার পথেই এদিন দারুণ এক কীর্তি গড়েন মুশফিক। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৬ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। আজ পর্যন্ত তার রান ৬ হাজার ৩। টেস্টে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক মোট সেঞ্চুরি করেছেন ১১টি। ৩৮.৪৫ গড়ে তিনি রান করেছেন।

রানের রেকর্ডটা হয়তো বেশ কিছুদিন ধরে রাখতে পারবেন মুশফিক। কেননা ৫ হাজার ১৩৪ রান নিয়ে দুইয়ে থাকা তামিম ইকবাল আর খেলবেন কিনা, তা অনিশ্চিত। সাকিব আল হাসান ৪ হাজার ৬০৯ রান নিয়ে তিনে অবস্থান করছেন। তিনিও শেষ ম্যাচটি হয়তো খেলে ফেলেছেন। বর্তমানে যারা নিয়মিত খেলছেন তাদের মধ্যে ৪ হাজার ২৬৯ রান নিয়ে মুশফিকের কাছাকাছি অবস্থান করছেন মুমিনুল।

এদিকে, জয়-মুশফিক লড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১০১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। অর্থ্যাৎ, খেলা তৃতীয় দিনে গড়ালেও বড় হারের শঙ্কা এখনো কাটেনি। এখন দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটার মুশফিক ও জয় কি পারবেন দলকে ইনিংস হার থেকে বাঁচিয়ে লিড এনে দিতে?

এর আগে কাইল ভেরেইনার সেঞ্চুরিতে (১১৪) ও উইয়ান মুলডারের ফিফটিতে (৫৪) ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রান তুলে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তাইজুল ইসলাম ৫টি, হাসান মাহমুদ ৩টি ও মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ১০৬ ও ১০১/৩ (জয় ৩৮*, মুশফিক ৩১*; রাবাদা ২/১০)। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ৮৮.৪ ওভারে ৩০৮ (ভেরাইনা ১১৪, মুলডার ৫৪; তাইজুল ৫/১২২, হাসান ৩/৬৬, মিরাজ ২/৬৩)। —দ্বিতীয় দিন শেষে