প্যারিস অলিম্পিকে সাঁতার থেকে টানা চতুর্থ স্বর্ণপদক জিতে এক আসরেই সুপারস্টার লিওঁ মারশাঁ। ৪০০ মিটার মেডলি, ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ও ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের পর এবার ২০০ মিটার মেডলিতেও স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়লেন ২২ বছর বয়সী ফরাসি তরুণ। বসলেন সাঁতারের কিংবদন্তি মাইকেল ফেলপস ও মার্ক স্পিৎজের পাশে। 

তার জন্য ফরাসিদের চিৎকার, উদযাপন এতটাই দীর্ঘ ছিল যে তা পুল ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা প্যারিসেই। মারশাঁর ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টের খেলা হলো লা ডিফেন্স অ্যারেনায়। অথচ তার ঢেউ লাগল স্তাদ দে ফ্রান্স স্টেডিয়ামে, যেখানে চলছিল ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের খেলা। মারশাঁর স্বর্ণ জয়ের খবরে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের গ্যালারিতে সবাই দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিনন্দন জানাল ফরাসি সুপারস্টারকে। সেই মুহুর্মুহু করতালি এতটাই আওয়াজ তৈরি করে যে ডেকাথলনের ৪০০ মিটারের হিট কিছুক্ষণ বিলম্বিত হয়! 

ফ্রেঞ্চ অলিম্পিক হাউজের সামনে প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয় মারশাঁর খেলা দেখবে বলে। তাদেরই একজন ১৯ বছর বয়সী আর্থার আওয়ারসেল। তিনি বলেন, ‘সে একজন নায়ক। আমাদের নায়ক।’

লা ডিফেন্স অ্যারেনায় ১৫ হাজার দর্শকের মধ্যে ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও। তিনিও করতালিতে জাতির এ নতুন সুপারস্টারকে অভিনন্দন জানান। তাকে বলা হয় ‘নতুন মাইকেল ফেলপস’। সেই ফেলপসও ছিলেন গ্যালারিতে। তার লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছেন, তার জন্য গলা ফাটিয়েছেন এ আমেরিকান কিংবদন্তি, যিনি ২৮টি অলিম্পিক পদক জিতেছেন। এত এত শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিরাশ করেননি ২২ বছর বয়সী সাঁতারু।

জয় শেষে প্রতিক্রিয়ায় মারশাঁ বলেন, ‘আমার মনে হয় না এ সপ্তাহে কোনো ভুল করেছি। আমি ঠিক নিখুঁত ছিলাম।’

নতুন অলিম্পিক রেকর্ড ১ মিনিট ৫৪.০৬ সেকেন্ড টাইমিং করে স্বর্ণ জিতেছেন মারশাঁ। অল্পের জন্য ভাঙতে পারেননি রায়ান লকটের ১৩ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড। ২০০ মিটার মেডলিতে ব্রিটেনের ডানকান স্কট ১ মিনিট ৫৫.৩১ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য ও চীনের ওয়াং শান ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন।

প্যারিসের পুলে বিস্ময়ের পর বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছেন মারশাঁ। ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ও ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে স্বর্ণ জিতেছেন মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে! তার জয় যে মোটেও অঘটন নয় সেটি প্রতিটি রেসেই প্রমাণ করে চলেছেন। 

মাত্র চতুর্থ সাঁতারু হিসেবে একই অলিম্পিকের চারটি একক ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন মারশাঁ। অন্যরা হলেন দুই আমেরিকান গ্রেট ফেলপস (২০০৪ ও ২০০৮) ও স্পিৎজ (১৯৭২) এবং সাবেক পূর্ব জার্মানির ক্রিস্টিন ওট্টো (১৯৮৮)। 

এ গ্রেটদের ক্লাবে নাম লিখিয়ে উচ্ছ্বসিত মারশাঁ বলেন, ‘এটা তো পাগলাটে ব্যাপার। এসব মানুষ তো কিংবদন্তি। মনে হয় না আমি এখনো এটা উপলব্ধি করতে পারছি। মনে হয়, বুঝতে কয়েকটা দিন সময় লাগবে।’

স্বর্ণপদক গ্রহণের পর বেজে ওঠে ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত। জাতীয় সংগীত শেষে আবার ‘লিওঁ! লিওঁ! লিওঁ!’ ধ্বনিতে মুখরিত লা ডিফেন্স অ্যারেনা। কেউ একজন প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন ‘ধন্যবাদ লিওঁ’। জবাবে মারশাঁ বলেছেন, ‘একজন ফরাসি হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’ 

এ জয়ের পর মারশাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ লিখেছেন, ‘ফরাসিদের জন্য অসম্ভব বলে কিছু নেই। নিজ দেশের খেলায় চারটি স্বর্ণপদক। নতুন অলিম্পিক রেকর্ড—এটা ঐতিহাসিক। এটা লিওঁ মারশাঁ।’