প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ল স্পেনের মেয়েরা। আজ মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের শহর অকল্যান্ডের এডেন পার্কে নবম নারী বিশ্বকাপ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর তারা ২-১ গোলে হারায় বিশ্বের দ্বিতীয় র‍্যাংকধারী দল সুইডেনকে।

 

বুধবার বিকাল চারটায় সিডনিতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচের বিজয়ী ফাইনালে খেলবে স্পেনের বিপক্ষে। ২০ আগস্ট সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় শিরোপার লড়াই। সেদিনও কি লেখা হবে স্প্যানিশ রূপকথা?

 

পঞ্চম সেমিফাইনাল খেলা সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে আধিপত্য করে প্রথমবার সেমিতে আসা স্পেন। শুধু গোলই পাচ্ছিল না লা রোজারা। প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। বদলি খেলেয়াড় ১৯ বছর বয়সী সালমা প্যারালুয়েলো ডিফেন্স চেরা শটে ডেডলক ভাঙেন ৮১ মিনিটে। ৮৮ মিনিটে রেবেকা ব্লোমকিভিস্ট সুইডেনের হয়ে সমতা আনলে প্রাণ ফেরে ম্যাচে। যদিও মাত্র ৯৩ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এই সমতা। ৮৯ মিনিটে স্পেন অধিনায়ক ওলগা কারমোনা বুলেট গতির শটে লক্ষ্যভেদ করলে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয় স্পেনের। প্রথম সেমিফাইনালের তিনটি গোলই আসে শেষ ১০ মিনিটে।

 

স্পেনের সামনে এখন পঞ্চম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। ফাইনাল নিশ্চিত করার পর স্পেন কোচ হোর্হে ভিলদা বলেন, ‘এটা ঐতিহাসিক দিন। আমরা ফাইনালে, যা সবাই মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম।’

 

নরওয়ের ইসাবেল হারলাভসেন (১৯ বছর ৯৫  দিন) ও জার্মানির ফাতমিরে বাজরামাজের (১৯ বছর ১৭৮ দিন) পর প্রথম টিনএজ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার কৃতিত্ব দেখালেন স্পেনের ১৯ বছর ২৭৫ দিন বয়সী প্যারালুয়েলো। তিনি ৫৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।


  

নারী বিশ্বকাপে নবম আসরের মধ্যে প্রথম ছয় আসরেই খেলার সুযোগ পায়নি স্পেন। ২০১৫ সালে যখন প্রথমবার বৈশ্বিক আসরে খেলার সুযোগ মিলল, সেই থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি করে বিশ্ব এলিটদের কাতারে উঠে যেতে থাকল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চলমান ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ল ‘লা রোজা’রা। গ্রুপ পর্বে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া স্পেন ১৫ দিনের ব্যবধানে এখন ফাইনালের টিকিট পেল! বিশ্বকাপে তিনবারের চেষ্টাতেই এখন শিরোপার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ওলগা কারমোনা ও অ্যালেক্সিস পুতেলাসরা।

 

বিশ্বের দ্বিতীয় র‍্যাংকধারী সুইডিশরা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলল, যার চারটিতেই তারা হেরেছে। সফলতা আসে শুধু ২০০৩ আসরে, যেবার তারা রানার্সআপ হয়। বিশ্বকাপে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার হারল সুইডিশরা। এখন তারা ব্রিসবেনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

 

ম্যাচ শেষে মাঠের যেন দুটি রঙ। একদিকে চলছিল উৎসব; আরেকদিকে শ্মশানের নীরবতা, কান্না। সুইডিশ খেলোয়াড়রা কান্না ভেঙে পড়েন। এ নিয়ে দলটির কোচ পিটার গেরহার্ডসন বলেন, ‘এ মুহূর্তে অনেক অনেক আবেগ ছুঁয়ে যাচ্ছে। সবার মধ্যে অনেক বেশি কষ্ট আর হতাশা।’

 

গেরহার্ডসন জানান, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জন্য তার দল পুরোপুরি তৈরি থাকবে। তিনি মনে করেন, এবার স্পেনই শিরোপা জিতবে।