সকারুদের হয়ে গোল করেন নেস্তুরি ইরানকুন্ডা ও কনোর মেটকাফ। তুরস্কের আক্রমণের ঝড় সফলভাবে সামলেছেন গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ, যিনি একাদশে সুযোগ পেয়েছেন অনেকটা আকস্মিকভাবে। ম্যাট রায়ানের জায়গায় সুযোগ পান তিনি। এটাই ছিল বিচের প্রথম বড় কোনো আসরে অস্ট্রেলিয়ার গোলবার সামলানোর অভিজ্ঞতা। সেই ম্যাচেই কিনা তিনি নায়ক। মোট আটটি শট রুখে দেন তিনি। তবে সব ছাপিয়ে এ ম্যাচে আলোচনায় তাঞ্জানিয়ায় জন্মগ্রহণ করা ইরানকুন্ডা।

ম্যাচের শুরুতেই (২৭ মিনিট) ইরানকুন্ডার গোল দলকে এগিয়ে নেয়। সেই লিড ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক একের পর এক আক্রমণ চালালেও অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। পুরো ম্যাচে তিনি আটটি অন টার্গেট শট রুখে দেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সেভগুলো করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষকের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স এটি।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মেটকাফের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান ২-০ হয়ে যায়। দূরপাল্লার এ শট রুখে দেয়ার সুযোগই পাননি তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান চাকির। শেষদিকে তুরস্ক মরিয়া হয়ে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার শক্ত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। উঁচু বলের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা আধিপত্য ধরে ধরে রাখেন ম্যাচজুড়ে।

পল ওকোন-ইংস্টলারের বাম উইং থেকে বাড়ানো পাসে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে কিছুটা জায়গা বানিয়ে দুর্দান্ত এক নিচু শটে গোল করেন ইরানকুন্ডা। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এখন তিনি। ওয়াটফোর্ডের এ ফরওয়ার্ডের বয়স গতকাল ছিল ২০ বছর ১২৫ দিন। তিনি পেছনে ফেলেন ব্রেট হলম্যানকে।

টনি পোপোভিচের দলে নতুনই রয়েছেন ১০ জন, যাদের অন্যতম ইরানকুন্ডা। সকারুদের গড় বয়স ২৪ দশমিক ৬ বছর, যা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম দল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স নামিয়েছিল কনিষ্ঠতম দল। তাদের এবার পেছনে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া।

তাঞ্জানিয়ায় জন্ম, অ্যাডিলেডে বেড়ে ওঠার পর অস্ট্রেলিয়ার যুব ফুটবলে ঝলক দেখাতে থাকেন ইরানকুন্ডা। এরপর ঘরোয়া ফুটবলে ভালো করে তিনি নাম লেখান বায়ার্ন মিউনিখে। সেখান থেকে ওয়াটফোর্ডের জার্সি পরে মাঝেমধ্যেই আলো ছড়ান। তাতেই এবারের আসরে তাকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়তে থাকে। প্রথম ম্যাচেই তিনি সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন।

জয়শেষে সর্বকনিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়া ইরানকুন্ডা বলেন, ‘দারুণ লাগছে, আমার অভিষেক বিশ্বকাপে গোল করেছি। এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জিতেছি আমরা। আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং আশা করি, দেশের মানুষও এ নিয়ে গর্ব করছে। সত্য বলতে কি, ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আমি অত কিছু ভাবি না। আমি জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার সময় কেবল নিজের সেরাটা দিতে চাই। যে দেশটি আমাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই দেশের জন্য আমি নিজের সবটুকু নিংড়ে দিতে চাই।’

২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তারপর এটাই সবচেয়ে ভালো ফল। এ জয়ে ‘ডি’ গ্রুপের টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রকে ছুঁয়ে ফেলল অস্ট্রেলিয়া। ১৯ জুন মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানকুন্ডা ও তার সতীর্থরা মূলত সমালোচনা আর সংশয়বাদীদের মুখ বন্ধ করতে পেরেছেন। এ নিয়ে খেলোয়াড়টি বলেন, ‘আমরা এটা জানতাম যে কী করতে যাচ্ছি এবং এটাও জানতাম যে আমরা কী করতে পারি। এটা কিন্তু আমাদের সেরা পারফরম্যান্স নয়। কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং যতটা সম্ভব ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। আর হৃদয় দিয়ে রক্ষণ সামলেছি, আক্রমণ করেছি। দিনশেষে আমরা কিছু গোল পেয়েছি আর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছি। খুবই শিহরিত আমরা। যেসব মানুষ আমাদের নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তাদের বলছি, আমাদের সেরাটা এখনো আসেনি।’