হারে হারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের মাধ্যমে। মরুর দেশ থেকে মাতৃভূমিতে ফেরার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যরা। শুক্রবারই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু তার আগে বাংলাদেশকে খেলতে হবে আরো একটি ম্যাচ। টানা চার হারের পর মনোবল ভঙ্গুর এখন দলটির। এ অবস্থায় সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নামছে মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। লক্ষ্য অন্তত একটি স্বান্তনার জয়। চূড়ান্ত পর্বে জয়হীন দলটি শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে সান্ত্বনা পেতে চায়। আগামীকাল দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। টি-স্পোর্টস, গাজী টিভি ও বিটিভি খেলাটি সম্প্রচার করবে।
অস্ট্রেলিয়ার এটি
চতুর্থ ম্যাচ। সেমিফাইনালের পথে এখনো অটল ক্যাঙ্গারুরা। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-১ এ তাদের অবস্থান
তৃতীয়। ৪ ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচে
তিন জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফিঞ্চ-ম্যাক্সওয়েলদের হাতে
এখনো দু’টি
ম্যাচ রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি জিতলে তারা সেমির দৌড়ে ভালোভাবে টিকে
থাকবে। তাদের পরের ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। উইন্ডিজরা ৩ ম্যাচ খেলে এক জয়
ও দুই হারে ২ পয়েন্টে টেবিলের পাঁচে অবস্থান করছে। সবার নিচে থাকলো পয়েন্টশূন্য
বাংলাদেশই।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ওমান ও পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে বাছাইপর্ব ডিঙিয়ে সুপার টুয়েলভে পা রেখেছিল দলটি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭ ম্যাচের ৫টিতেই হেরেছে তারা।
অপরদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে ছন্দে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেজেলউডকে নিয়ে পেস, অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যাস্টন আগারকে নিয়ে অজিদের স্পিন আক্রমণ মোকাবেলা করা বাংলাদেশে জন্য চ্যালেঞ্জই হবে।
ব্যাট হাতে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভেন স্মিথ ও মিচেল মার্শরা। যদিও টপ অর্ডার নিয়ে ভুগছে দলটি।
বিশ্বকাপের কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে তুলোধুনো করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই সেই সিরিজে ছিলেন না। দলের বাজে অবস্থার মধ্য দিয়েও মার্শ পুরো সিরিজজুড়ে ছিলেন ছন্দে। চেনা-জানা বোলিংয়ে বাংলাদেশের জন্য এ ম্যাচেও বাধা হতে পারেন এই অলরাউন্ডার।
সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নুরুল হাসান সোহান ও মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়াই অজিদের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ছাড়া কেমন করবে বাংলাদেশ? সেটাও থাকছে প্রশ্ন। গত ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৮৪ রানেই অলআউট হয়েছিল মাহমুদুল্লাহ-মুশফিকরা। দুবাইয়ের রুক্ষ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার স্পিড স্টারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। যেমনটা গত ম্যাচে দিয়েছে রাবাদা-পেটারিয়াসদের কাছে। আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই নামছে বাংলাদেশ, তা এক প্রকার নিশ্চিতই। কারণ সাকিব, সাইফউদ্দিন ও সোহানরা চোটাক্রান্ত হওয়ার পর, আর কোনো ক্রিকেটারকে ডাকেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত ম্যাচে এই উইকেটে তাসকিন আহমেদ ভালো সুবিধা আদায় করেছেন। বড় জোর এ ম্যাচে রুবেল হোসন দলে আন্তর্ভূক্ত করতে পারেন। এছাড়া আর কোনো ক্রিকেটারই নেই নির্বাচকদের হাতে।
এতো হারে
মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত টাইগার শিবির। তবুও একটি জয় প্রয়োজন সম্মানের। সেই
সান্ত্বনার জয় কি পাবে বাংলাদেশ?










