বাংলাদেশ নারী ফুটবলের অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে আর খেলবেন না বলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্রোহ করে আসছিলেন সাবিনা খাতুনসহ নারী দলের বেশ কিছু শীর্ষ খেলোয়াড়। অবশেষে ফুটবলাররা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তারা বাটলারের অধীনেই অনুশীলনে ফিরতে রাজি হয়েছেন বলে আজ রোববার জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

আজ বাফুফেতে এক সংবাদ সম্মেলনে কিরণ বলেন, ‘আমি আজ তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা অনুশীলনে ফিরতে রাজি হয়েছে।’

অবশ্য তাদের অনুশীলনে ফিরতে একটু সময় লাগবে। বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের আসন্ন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে তারা থাকছেন না। বিদ্রোহ করা ফুটবলাররা ছুটিতে গিয়ে ফিরে এসে অনুশীলন শুরু করবেন বলে জানান মাহফুজা। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যাবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। টিমও সেদিন চলে যাবে আরব আমিরাতে। এই সময়ে সিনিয়র মেয়েরাও (১৮ বিদ্রোহী ফুটবলার) চাচ্ছে একটা ছুটিতে যেতে। এটা তাদের জন্য একটা বিরতি বলতে পারেন। এরপর আবার তারা ক্যাম্পে ফিরবে এবং অনুশীলন শুরু করবে।’

আজ দুপুরে কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ১৮ ফুটবলারের সঙ্গে বৈঠক করেন মাহফুজা। সেখানে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত নারী উইংয়ের প্রধান মেয়েদের দ্রুত অনুশীলনে ফেরার তাগিদ দেন। আলোচনার একপর্যায়ে নিজেদের আল্টিমেটাম প্রত্যাহারের কথা জানান সাবিনা ও ঋতুপর্ণারা।

গত ৩০ জানুয়ারি বাফুফে ভবনের সামনে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন বিদ্রোহ করা ফুটবলাররা। বাটলারকে কোচ রেখে দেয়া হলে অনুশীলনে যোগ দেবেন না এবং সবাই একযোগে অবসরের হুমকি দেন। বাটলারও পরে জানান, তিনি থাকবেন নয়তো মেয়েরা।

পরিস্থিতি জটিল হলে সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসানকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বাফুফে। সেই কমিটি তদন্ত শেষে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর কয়েক দফা বাফুফে সভাপতিও এই বিদ্রোহী ফুটবলারের অনুশীলনে ফেরার আহ্বান জানান। কিন্তু এই ১৮ ফুটবলার সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি হননি। অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন।

কোচের বিরুদ্ধে মেয়েদের অভিযোগের মধ্যে ছিল ‘গালিগালাজ করা’, ‘বডি শেমিং’, ‘মানসিক নির্যাতন’। পিটার থাকলে ‘পদত্যাগের’ হুমকিও দেন তারা। পুরো বিষয়টি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে মনে করেন কিরণ। তিনি বলেন, ‘তারা বুঝতে পেরেছে যে, ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তো সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। তারা একসঙ্গে অনুশীলন করবে, ক্যাম্পে থাকবে, যদি তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং অসন্তোষ থাকে, তাহলে তো কাজগুলো ঠিক ভালোভাবে হবে না। এজন্য দুই পক্ষের সাথে একসাথে বসে সেগুলো সমাধান করা হবে। মেয়েরা আমাকে বলেছে ফিরে এসে তারা অনুশীলন করবে, চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।’

বাটলারের অধীনে অনুশীলন বয়কট করেছিলেন মনিকা চাকমা, মাসুরা পারভীন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, ঋতুপর্না চাকমা, মারিয়া মান্দা, রুপনা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সানজিদা আক্তার, শিউলি আজিম, তহুরা খাতুন, নিলুফার ইয়াসমীন নীলা, সাগরিকা, কৃষ্ণা রানী সরকার, স্বর্না, নাসরিন, সাথী, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও সাবিনা খাতুন।

২৪ ফেব্রুয়ারি নতুনদের নিয়ে গড়া দল নিয়ে আরব আমিরাত যাবেন বাটলার।