সদ্য সমাপ্ত একাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ছিল বিতর্কে ঘেরা। বিশেষ করে দেশী ও বিদেশী খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক প্রদানে টালবাহানা করে দুর্বার রাজশাহীর মালিক পক্ষ সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়ে। তাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা অনুশীলন বয়কটের হুমকি দিলেও পরে সেই পথে হাঁটেননি। দলটির বিদেশী ক্রিকেটাররা তো রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই বয়কট করেন। ফলে শুধু স্থানীয়দের নিয়ে খেলে রাজশাহী। দুর্বার রাজশাহীর মালিকের দেয়া চেক বাউন্স করা ছিল আরেক কেলেঙ্কারির ঘটনা।

চট্টগ্রাম কিংসের মালিক সামির কাদের চৌধুরী তার দলের খেলোয়াড় পারভেজ হোসেন ইমনের পাওনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, ‘টাকা কি গাছে ধরে?’ তার এ মন্তব্য বিরাট বিতর্কের সৃষ্টি করে। সেই ইমন পরবর্তী সময়ে দুটি ঝড়ো ফিফটি করে জবাব দেন। তার দল ফাইনালে গিয়ে ফরচুন বরিশালের কাছে হেরেছে।

বিসিবির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় বিদেশীদের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ না হওয়ায়। পারিশ্রমিক ইস্যুতে দেশে-বিদেশে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, সেটা যাতে ভবিষ্যতে আর না হয় তা নিশ্চিত করতেই উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে বিপিএলের ড্রাফটে থাকা সব বিদেশী ক্রিকেটারের দায়িত্ব নেবে বোর্ড। গতকাল বিসিবির দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিসিবির পক্ষ থেকে তিন ধরনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। বিদেশী খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের সরাসরি ব্যবস্থাপনা এবং বিপিএল ড্রাফটে থাকা খেলোয়াড়দের চুক্তি ও ম্যাচ ফির অর্থ স্বচ্ছভাবে ও সময়মতো পরিশোধের দায়িত্ব নেবে বিসিবি; সার্বিক লজিস্টিক্যাল সহায়তা। বিপিএল শেষে বিদেশী খেলোয়াড়দের নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সব লজিস্টিক্যাল বিষয় তত্ত্বাবধান করা হবে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আর্থিক প্রটোকল উন্নততর করা, খেলোয়াড়দের স্বার্থ ও পারিশ্রমিক পরিশোধের প্রক্রিয়া সুরক্ষিত করতে ও আরো নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রটোকল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবির সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ বিপিএলে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব ক্রিকেটারদের জন্য একটি পেশাদার অভিজ্ঞতা দেয়ার ব্যাপারে বিসিবির অঙ্গীকারকে প্রমাণ করে। আর্থিক ও পরিচালনার ক্ষেত্রকে আরো শক্তিশালী করতে বিসিবি বাকি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে।’

দুর্বার রাজশাহীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বিসিবিকে। কেননা দুর্বার রাজশাহীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করে কেন বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজির মালিকানা দেয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বিসিবি। এবার ফাইনাল শেষে পরবর্তী আসর থেকেই বিদেশী ক্রিকেটারদের নিয়ে যাতে বিতর্কের মুখে পড়তে না হয়, তাই আগেভাগেই উদ্যোগী হলো বিসিবি।