বাংলাদেশকে সিরিজে হারানো ও কানাডাকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই উড়িয়ে দেয়ার ঘটনা যে নিছকই কোনো অঘটন ছিল না, সেটি প্রমাণ করল যুক্তরাষ্ট্র। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হওয়া ম্যাচে সুপার ওভারে পাকিস্তানকে পাঁচ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পর এবার দ্বিতীয় টেস্ট খেলুড়ে দেশ পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারাল তারা এবং বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো টেস্ট দলকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো অঘটন।
মোহাম্মদ আমিরের করা সুপার ওভার থেকে ১ উইকেটে ১৮ রান তুলে নেন অ্যারন জোন্স ও হারমিত সিং। এর মধ্যে ওয়াইড থেকেই ৭ রান দেন আমির! জবাব দিতে নেমে সৌরভ নেত্রভালকারের করা ওভার থেকে পাকিস্তান ১ উইকেটে ১৩ রান তুলতে সমর্থ হয়।
এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলায় পাকিস্তানের ৭ উইকেটে করা ১৫৯ রানের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ৩ উইকেটে ১৫৯ রান তুলে নেয়। জিততে শেষ ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে ৪০ বলে ৯৪ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক অ্যারন জোন্স ছিলেন বলে আশাও বেঁচে ছিল স্বাগতিক দলের। সঙ্গে ছিলেন নিতিশ কুমার। হারিস রউফের করা শেষ ওভার থেকে এই দুজন সমীকরণ পুরোপুরি মেলাতে না পারলেও ঠিকই ১৫ রান তুলে নিলে ম্যাচ টাই হয়ে পড়ে। এমনকি শেষ তিন বল থেকে ১১ রান তুলে নেয়ার কৃতিত্ব দেখান দুজন।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রানের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, উসমান খান ও ফখর জামানের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে বাবর আজম (৪৩ বলে ৪৪) ও শাদাব খানের (২৫ বলে ৪০) লড়াইয়ে দল পায় ৭ উইকেটে ১৫৯ রানের পুঁজি। যুক্তরাষ্ট্রের নসতুস কেনজিগে ৩০ রানে তিনটি ও নেত্রভালকার ১৮ রানে দুটি উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বলে স্টিভেন টেইলের উইকেট হারায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় উইকেটে মোনাঙ্ক প্যাটেল (৩৮ বলে ৫০) ও আন্দ্রিস গুসের (২৬ বলে ৩৫) ব্যাটে ভর করে ১৩ ওভারের মধ্যে শতরান পেরিয়ে যায় মার্কিনিরা। এরপর ডেঞ্জারম্যান জোন্স (২৬ বলে ৩৬) ও নিতিশ কুমার (১৪ বলে ১৪) দলকে অবিশ্বাস্যভাবেই জয়ের রেসে রাখেন।
এরপর সুপার ওভারের নাটকীয়তা। বিপর্যস্ত পাকিস্তান ৯ জুন নিউইয়র্কে ভারতের মুখোমুখি হবে।










