২৬ বছরের জীবনে শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগটাই জেতা হয়নি ফরারি বিস্ময় খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পের। টিনএজ বয়সেই পৌঁছেন সর্বোচ্চ শিখরে, ২০১৮ সালে ফ্রান্সের পেয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ক্লাবের হয়ে ফরাসি লিগ, কাপ সবই জমা পড়ে তার শোকেসে। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় কিছুতেই হয়ে উঠছিল না।

অধরা সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে ফরাসিদের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন করে তিনি পাড়ি জমান স্পেনে। ‘ইউরোপের রাজা’দের হয়ে ভাগ্য পরীক্ষায় নামেন। গত বছর জুলাই মাসে রিয়ালে নাম লেখানোর পর শুরুতে নিজেকে খুঁজে ফিরেছেন। তারকার ভিড়ে নিজের জাতটা যেন কিছুতেই চেনাতে পারছিলেন না। ধীরে ধীরে তিনি স্বরূপে ফিরতে থাকেন। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে হ্যাট্রটিক করে রিয়াল মাদ্রিদকে দাপটে তুলে নিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয়। এর মধ্য দিয়ে রেকর্ড ১৬তম ইউরোপিয়ান মুকুট জয়ের আশাও বেঁচে থাকল রিয়ালের।

প্লে-অফের প্রথম লেগে সিটির মাঠে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছিল রিয়াল। বুধবার দ্বিতীয় লেগে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। দুই লেগ মিলে ৬-৩ গোলের জয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে হারের ঘাটতি কাটিয়ে উঠে বার্নাব্যু জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামলেও এমবাপ্পের কাছে নাকাল হয় পেপ গার্দিওলার দল। তৃতীয় মিনিটেই গোল করে সিটিকে হতবিহ্বল করে দেন এমবাপ্পে। এরপর ৩৩ মিনিটে গোল ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। ৬১ মিনিটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। নিকো গঞ্জালেস যোগ করা সময়ে এক গোল পরিশোধ করলেও তা সিটিকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

সিটিকে গুঁড়িয়ে দেয়ার পর এমবাপ্পে বলেন, ‘এটা ছিল পারফেক্ট এক রাত। আমরা জিততে চেয়েছি এবং এভাবেই করতে সমর্থ হলাম। রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের সামনে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েছি এবং ম্যানসিটির বিপক্ষে অসাধারণ পারফর্ম করেছি, যারা কিনা সব সময়ই কঠিন এক প্রতিপক্ষ।’

চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে এটা এমবাপ্পের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। ২০২১ সালে বার্সার বিপক্ষে নকআউটে ও ২০১৯ সালে ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপ্পে। এছাড়া দুটি করে হ্যাটট্রিক আছে লিওনেল মেসি, করিম বেনজেমা ও রবার্ট লেভানডভস্কির। সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরির রেকর্ড ধরে রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদ গ্রেট ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

AP25050773637081

এমবাপ্পের সামনে অসহায় ম্যানসিটির ডিফেন্স। ছবি: এপি

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি মনে করেন, রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার সামর্থ্য আছে এমবাপ্পের। তিনি বলেন, ‘এমবাপ্পের মধ্যে রোনালদোকে ছোঁয়ার সামর্থ্য আছে। তবে রোনালদো নিজেকে এতটাই উঁচুতে নিয়ে গেছে যে তার ছুঁতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এমবাপ্পেকে।

সতীর্থ জুড বেলিংহ্যামের প্রশংসায়ও ভেসেছেন এমবাপ্পে। ইংলিশ তারকা বলেন, ‘এমবাপ্পে খুবই আলাদা মানের এক খেলোয়াড়, এটা সবাই জানে এবং তার প্রমাণ করারও দরকার নেই। খেলোয়াড়ের চেয়েও বরং সে ভালো একজন মানুষ। তার এই গোল আমাদের টেনে তুলেছে।’

পরের রাউন্ডে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কিংবা জার্মানির লেভারকুসেনের বিপক্ষে পড়তে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ভ্রমণের ঝক্কি এড়াতে অ্যাটলেটিকোকেই চান এমবাপ্পে। তিনি বলেন, ‘সত্য বলতে কী, আমি চাইব অ্যাটলেটিকো সামনে পড়ুক। তারা দুটিই বড় ক্লাব, কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে পরের রাউন্ডে রাউন্ডে ভ্রমণ করা না লাগলে সেটা দারুণ হবে।’

রিয়াল ছাড়াও পিএসজি, পিএসভি আইন্দহোফেন ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড বুধবার শেষ ষোলোর টিকিট পেয়েছে। মঙ্গলবাল শেষ ষোলোয় খেলা নিশ্চিত করে ফেইনুর্ড, ক্লাব ব্রুগে, বায়ার্ন মিউনিখ ও বেনফিকা। এর আগে আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোয় উঠেছে।