আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের মাঠে খেলবে না বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে দিয়ে শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়া চলছে এখন। বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তের পর ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা) আয়ের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট! বিশ্বকাপে অংশ নিলে আইসিসির বার্ষিক রাজস্বের ভাগ (আইসিসির মোট আয়ের ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ) হিসেবে এ অর্থ আয়ের সুযোগ থাকত।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়ের বেশ কয়েকটি খাত রয়েছে— টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ। তবে বিসিবির মূল আয়ের উৎস আইসিসি। সেখান থেকেই আয়ের ভাগ পায় বিসিবি। প্রতি বছর বিসিবির আয়ের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ অর্থ আসে আইসিসি থেকে। এছাড়া ২০২৪-২৭ চক্রে আইসিসির রাজস্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশ।
তিন সংস্করণে আইসিসির আয়োজিত বৈশ্বিক আসরগুলো থেকেও রাজস্বের ভাগ পায় অংশ নেয়া দেশগুলো। শুধু অংশ নেয়ার জন্যই দেশগুলোকে নির্দিষ্ট একটি অংকের অর্থ দেয় আইসিসি। এরপর টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতি ধাপে ধাপে আয়ের সুযোগ তো থাকেই। আসন্ন দ্বাদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে এসব খাত থেকে কোনো অর্থই পাবে না বিসিবি।
এবার বিশ্বকাপে দলগুলো অংশগ্রহণ ফি হিসেবেই পাবে ৩ লাখ ডলার (৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা প্রায়)। এছাড়া টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপে উত্তরণের জন্য আলাদা করে প্রাইজমানি রয়েছে। খেলোয়াড়রা হারাবেন ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানি আয়ের সুযোগ। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে এর কিছুই পাবে না বাংলাদেশ দল।
জানা গেছে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলে এ দেশে টুর্নামেন্টটির অফিশিয়াল সম্প্রচারক টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানও প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে পারে।
গত আসরের চেয়ে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানি ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে আইসিসি। শুধু গ্রুপ পর্বে ও সুপার এইটে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য ৩১,১৫৪ ডলার বোনাস পাবে প্রতিটি দল। পঞ্চম থেকে ১২তম স্থানীয় প্রতিটি দল পাবে সাড়ে ৪ লাখ ডলার করে। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দল পাবে ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার করে। রানার্সআপ ১৬ লাখ ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দল ৩০ লাখ ডলার প্রাইজমানি পাবে।
এদিকে বিসিবিকে জরিমানাও গুনতে হতে পারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার গ্রহণযোগ্য কারণ বাংলাদেশ যদি আইসিসির কাছে তুলে ধরতে না পারে তাহলে বিসিবিকে প্রায় ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) জরিমানা গুনতে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। বৈশ্বিক আসর থেকে সরে দাঁড়ালে মেম্বার পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট (এমপিএ) অনুসারে, আইসিসি জরিমানা করতে পারবে।










