অনুশীলন শেষে ইন্টার মিয়ামির ফ্যাসিলিটিজ থেকে লিওনেল মেসি বেরিয়ে আসার সময় একটু দেখবেন, সেই অপেক্ষায় ভিড় জমান শত সমর্থক। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে মেসির একটা সই সংগ্রহের জন্য কিংবা শুধুই হাত মেলাতে অপেক্ষা করেন। আর মেসির ১০ নম্বর জার্সি এখন দক্ষিণ ফ্লোরিডার সর্বত্র।

 

এসবই বলে দেয়, মেসি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। যে বার্সেলোনায় তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন সেখানে আরো কয়েকটি মৌসুম অবলীলায় খেলে যেতে পারতেন তিনি। কিংবা সৌদি আরবের আল হিলালে আকর্ষণীয় চুক্তিতে সই করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যে সিদ্ধান্ত নিলেন তা কোটি মানুষকে বিস্মিতই করে। ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলতে, মেজর লিগ সকারে খেলতে পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। এবং তিনি এটি করে খুশি।


 

গত ৭ জুন ইন্টার মিয়ামিতে খেলার ঘোষণা দেন মেসি। এরপর বৃহস্পতিবারই প্রথম প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন তিনি। দোভাষীর মাধ্যমে মেসি বলেন, ‘আমার শুরু থেকেই, আগমনের পর থেকেই দারুণ অভ্যার্থনা পেয়ে এসেছি। আজ আমি বলছি, যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নিয়ে আমি অনেক অনেক খুশি।’

 

পিএসজিতে দুই বছর খেলে আসা মেসি তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার পিএসজিতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না কিংবা ইচ্ছাও ছিল না। আমি বার্সেলোনা ছাড়তে চাইনি, কিন্তু সবকিছু কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন যা ঘটছে তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’

 

মেসি আসার ঘোষণা দেয়ার পরই আর্জেন্টিনার কোচ জেরার্ডো মার্টিনোকে উড়িয়ে আনে মিয়ামি। এখানে নাম লেখান মেসির সাবেক সতীর্থ সার্জিও বুসকেটস ও জর্ডি আলবা। তাদের পেয়ে মেসিও যেন বার্সার জীবনে ফিরে গেছেন। দারুণ ফর্মে থাকা এই ফরওয়ার্ড মিয়ামির হয়ে ছয় ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। সবকিছু মিলে মেসির যাত্রাটা এখন পর্যন্ত দারুণ আনন্দেরই।

 

পেলে, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, থিয়েরি অঁরি ও ডেভিড বেকহামের পর ফুটবলের আরেক মহাতারকা মেসি নাম লেখালেন মার্কিন ফুটবলে। তিনি নিশ্চিতভাবেই এই দেশটির ফুটবলকে জাগিয়ে তুলবেন। এরই মধ্যে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছেন উন্মাদনা। মেসি বলছেন, ‘আমি স্রেফ খেলাটা খেলতে ও ফুটবলটা উপভোগ করতে এখানে এসেছি।’

 

বার্সার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দশটি লা লিগা শিরোপা জিতেছেন মেসি। আর ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রেকর্ড সাতবার।