এখনো অর্ধেকটা পথ বাকি। গ্রুপ পর্বের খেলাই যে শেষ হয়নি। গতকাল সকাল পর্যন্ত তিনটি গ্রুপের খেলা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি নয়টি গ্রুপের মীমাংসা শেষে শুরু হবে নকআউটের নখ কামড়ানো উত্তেজনা। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নরা শিরোপা নিয়ে উদযাপনে নামার আগ পর্যন্ত আরো ৫০টি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

এবার স্বাগতিক দেশ তিনটি—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। এ তিন দেশই জায়গা করে নিয়েছে নকআউট রাউন্ডে। যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কারো সংশয় ছিল না। তাদের সঙ্গে নকআউটে যাচ্ছে অন্য দুই স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো ও কানাডাও। এবারের আসরের তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো শীর্ষ তারকারা জ্বলছেন তারা হয়ে। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি পাঁচ গোল করে চার্টের শীর্ষে। আর্জেন্টিনা খেলছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আশা নিয়ে। সেই আশার পালে হাওয়া দিচ্ছেন মেসি। কিলিয়ান এমবাপ্পে দুই ম্যাচে চার গোল করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফ্রান্সকে তুলে নিয়েছেন নকআউট পর্বে। জ্বলছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড আর ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকাও।

স্টেডিয়ামগুলোও মোটামুটি পরিপূর্ণ থাকছে, যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ফিফা কর্মকর্তারা। এর বাইরে কিছু হৃদয়কাড়া ঘটনারও সাক্ষী হয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। যেমন নবাগত দল কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা এবং তার মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে এসে ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখার গল্প।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো একটি টিভি চ্যানেলকে বলছিলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সেরাটা এখনো বাকি।’ অন্যভাবে বললে একটি ম্যাচের যেমন দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে লড়াইটা জমে ওঠে, তেমনটি ফিফা বিশ্বকাপের বাকি দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই হতে পারে বেশ জমজমাট, হয়তো লুকিয়ে আছে অনেক চমকও।

বিশ্বকাপে গতকাল রাতে ‘ই’ গ্রুপে মুখোমুখি হয় আইভরি কোস্ট ও কুরাসাও এবং একুয়েডর ও জার্মানি। এ দুটি ম্যাচের আগ পর্যন্ত ১৩টি দেশ শেষ বত্রিশ রাউন্ডের টিকিট পেয়েছে। ‘এ’ গ্রুপ থেকে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা; ‘বি’ গ্রুপ থেকে সুইজারল্যান্ড, কানাডা এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা; ‘সি’ গ্রুপ থেকে ব্রাজিল ও মরক্কো; ‘ডি’ গ্রুপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র; ‘ই’ গ্রুপ থেকে জার্মানি; ‘আই’ গ্রুপ থেকে ফ্রান্স ও নরওয়ে, ‘জে’ গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনা এবং ‘কে’ গ্রুপ থেকে কলম্বিয়া উঠে গেছে নকআউটে। এর মধ্যে মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও আর্জেন্টিনা গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে উঠেছে। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে জর্ডান ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে গ্রুপ পর্বের লড়াই। ওইদিন চূড়ান্তভাবে জানা যাবে, কারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, কারা গ্রুপ রানার্সআপ আর কারা যাচ্ছে তৃতীয় হওয়ার দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি থেকে। সেই থেকে শুরু হয়ে যাবে নকআউটের নাটকীয়তা, উত্তেজনা আর স্নায়ুক্ষয়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সবশেষ নকআউটের টিকিট পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর মন্টেরেই স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা নকআউটে কোয়ালিফাই করে। একই সময় মেক্সিকো সিটিতে ‘এ’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় মেক্সিকো। এ জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় অন্যতম স্বাগতিক দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল ‘বাফানা বাফানা’খ্যাত দলটি। এছাড়া, ‘সি’ গ্রুপে তৃতীয় হয়েও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। গতকাল শেষ ম্যাচে তারা ৩-১ গোলে কাতারকে হারিয়ে দেয়।

কিছু দল এরই মধ্যে জেনে গেছে, তারা খেলবে নকআউট পর্বে। আবার কিছু দলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপ থেকে এবার দেশে ফিরে যাবে চেক প্রজাতন্ত্র, হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান, কাতার, পানামা। গতকাল রাতের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ১৩টি দল নকআউট পর্বে উঠে গেছে, বিদায় নিয়েছে সাতটি। শেষ বত্রিশের বাকি ১৯টি টিকিটের লড়াইয়ে ছিল ২৮টি দল।

আজ সকালে ‘ডি’ গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ। সান ফ্রান্সিসকোয় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, আর লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি তুরস্ক। টানা দুটি ম্যাচ হেরে তুরস্ক এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এরই মধ্যে উঠে গেছে শেষ বত্রিশে। গ্রুপ থেকে আরেকটি দল উঠবে নকআউটে। বাকি টিকিটের জন্য লড়বে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া। উভয়েরই পয়েন্ট সমান ৩ করে। কাজেই এ ম্যাচের বিজয়ী দলটি পাবে শেষ বত্রিশের টিকিট। আর ম্যাচটি ড্র হলে শ্রেয়তর গোল গড়ের সুবিধা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাবে পরের রাউন্ডে। ‘এফ’ গ্রুপে তেমনি জাপান ও সুইডেনের মধ্যকার বিজয়ী এবং ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যে বিজয়ী দল যাবে নকআউটে।

নকআউট পর্ব মানেই হলো হারলে নকআউট বা বিদায়। তবে সেমিফাইনালে হারলেও তখন বিদায় ঘটবে না। পরাজিত দুই দল তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।

কোনো দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে নকআউট পর্বে পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হবে।