টেস্টে নিজেদের ইতিহাসে ২১তম জয়ের খোঁজে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এ মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের বিশাল জয় পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তির বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বপ্ন টাইগারদের। গতকাল প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ২৭৪ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। জিতলেই প্রথমবার পাকিস্তানকে সিরিজে হারানোর গৌরবে ভাসবেন মুশফিকরা।
টেস্ট অভিষেকের পর ছিল দীর্ঘ জয়-খরা। প্রথম ৩৪ ম্যাচে কোনো জয় নেই। একের পর এক হারে বিপর্যস্ত দেশের ক্রিকেট। সমালোচনার তীর আসছিল চারদিক থেকে। সেই সময় অনেকেই বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা প্রদানের সমালোচনা করেন।
অবশেষে ৩৫তম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারাতে সমর্থ হয় টাইগাররা। তার আগের ৩৪ টেস্টে মাত্র তিনটি ড্র করে বাংলাদেশ, বাকিগুলোয় জুটেছিল হার। যা-ই হোক, জিম্বাবুয়েকে দিয়ে শুরু। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ১৪৩ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ২০টি। রাওয়ালপিন্ডিতে গত সপ্তাহেই ধরা দেয় ২০তম জয়, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম।
এ সিরিজের আগে ১৩ টেস্টের লড়াইয়ে কখনই পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১২টি জয় পায় পাকিস্তান, আর ড্র হয় একটি ম্যাচ। অবশেষে ১৪তম ম্যাচে ধরা দেয় প্রথম জয়। দেশের বাইরে এটা সপ্তম জয়। বাকি থাকল শুধু ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই দুটি দেশকে হারাতে পারলেই সব দেশের বিপক্ষে জয় পাওয়া হবে বাংলাদেশের।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে পরপর দুই টেস্টে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। এছাড়া ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে হোম সিরিজে জিম্বাবুয়েকে টানা তিন টেস্টে হারায় বাংলাদেশ। একই দেশকে ২০১৮ সালে তিন ম্যাচের হোম সিরিজে আরেকবার হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। ২০২৩ সালে টানা তিনটি টেস্ট জয় আসে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এর প্রথম দুটি মিরপুরে ও পরেরটি সিলেটে। এছাড়া দুই দেশের বিপক্ষে মিলিয়ে টানা জয় আছে ২০১৭ সালে। সেবার শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরপর দুটি টেস্ট জয় ধরা দেয়। আরেকবার টানা দুটি টেস্ট জয়ের হাতছানি দিচ্ছে টাইগারদের।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুবার টানা তিনটি জয় ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দুটি টেস্ট (২০০৯ ও ২০১৮ সালে দুবার) জয়ের গৌরব আছে বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউন ও গ্রেনাডার সেন্ট জর্জে টানা দুই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারান সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা। তবে সেটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দল। বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বে খর্বশক্তির একটি দল মাঠে নামাতে বাধ্য হয় ক্যারিবীয় বোর্ড। সেই সুযোগে ফ্লয়েড রেইফারের দলকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে আরেকবার টানা দুই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় টাইগাররা।
টেস্টে প্রথম জয় ২০০৫ সালে এলেও গৌরবোজ্জ্বল প্রথম মুহূর্তটি আসে ২০১৭ সালে। সেবার মিরপুরে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়ে হইচই ফেলে দেয় টাইগাররা।
টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম একবার করে জয় আছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পরে টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে শুধু আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান। এখন শুধু ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট জয়ের অপেক্ষা। তবে তার আগে পাকিস্তানকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে সিরিজের ট্রফি জয়ের হাতছানি মুশফিকদের সামনে।










