ইনিংসের শেষ বলে নির্ধারণ হলো বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচের ফলাফল। রোমাঞ্চকর করেও ম্যাচটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটের জয় তুলে ৩-০’য় টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করলো সফরকরীরা।
সহজেই ম্যাচটি জয় করে নিতে পারত পাকিস্তান, তবে সেটি হতে দেননি টাইগার পেসার শহিদুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। তাদের ১৮ ও ১৯তম ওভারের দুর্বার বোলিংয়ে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভার পর্যন্ত। ওভারটিতে চমক দেখান টাইগার কাপ্তান। কিন্তু জয় রয়ে যায় অধরা।
২০তম ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ওভারে আসেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। প্রথম বল ডট, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে সরফরাজ আহমেদ ও হায়দার আলীর উইকেট শিকার করেন তিনি। চতুর্থ বলে ইফতেখার ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আবার জমিয়ে তোলেন। কিন্তু পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান।
শেষ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২ রানের। মাহমুদউল্লার বলে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান বল ছেড়ে দিলে ‘ডেড কল’ হয়। বলটি ছেড়ে না দিলে হয়ত ম্যাচের ফলাফল হতো অন্য। কিন্তু মিড উইকেটে চার হাঁকিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন মোহাম্মদ নওয়াজ।
১২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৩২ রান তোলে পাকিস্তান। ফর্মের তুঙ্গে থাকা বাবর আজম টি-২০ সিরিজ শেষ করলেন নিষ্প্রভ হয়ে। এ ম্যাচে ২৫ বল খেলে করেছেন ১৯ রান। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড-উইকেটে ধরা পড়েন নাঈমের হাতে। দ্বিতীয় উইকেটে হায়দার আলীকে নিয়ে আরেক ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। ৮৩ রানের মাথায় রিজওয়ান ফিরলে দুজনের ৫১ রানের জুটি ভাঙে। শহিদুল ইসলামের শিকার হওয়ার আগে ৪৩ বলে ৪০ রান করেন পাক উইকেটকিপার। পরে ৩৮ বলে ৪৫ রান করে ফেরেন হায়দারও। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ইনিংস সাজান তিনি। সরফরাজ ৬ ও ইফতেখার ৬ রানে ফেরেন। নওয়াজ ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদউল্লাহ ১ ওভারে ১০ রান দিয়ে তিনটি, আমিনুল ও শহিদুল একটি করে উইকেট নেন।
আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটসম্যানদের টেস্ট সুলভ ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। নাঈম শেখ সর্বোচ্চ ৫০ বলে ৪৭ রান করেন। জবাবে রিজওয়ান ও হায়দার আলীর ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
আজ ম্যাচটিতে একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল। দলে যুক্ত হন শামীম পাটোয়ারী, নাসুম আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম। বাদ পড়েন সাইফ হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। পাকিস্তান একাদশে আনে চার পরিবর্তন। সন্তানের অসুস্থতায় শেষ ম্যাচ না খেলে দেশে ফিছেন শোয়েব মালিক। বিশ্রাম দেয়া হয়েছে ফখর জামান, শাদাব খান ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। তাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলে নেয়া হয় সরফরাজ আহমেদ, ওসমান কাদির, ইফতেখার আহমেদ ও শাহনওয়াজ দাহানিকে।
নাঈম শেখের সঙ্গে এ ম্যাচে সাইফ হাসানের জায়গায় ওপেনিং করতে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। ৫ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। ওয়ানডাউনে নেমে ২৩ বলে ২২ রানের মন্থর ইনিংস খেলে ফেরেন শামীম পাটোয়ারী। ২১ বলে ২০ রান করেন আফিফ হোসেন। ওপেনার নাঈম ৫০ বলে ৪৭ রান করেন। দুটি চার ও ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। ১৪ বলে ১৩ রান আসে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। নুরুল হাসান করেন ৪ রান।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ ওয়াসিম চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে দুটি ও চার ওভারে ৩৫ রানের বিনিময়ে ওসমান কাদিরও নিয়েছেন দুটি উইকেট।










