ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি, সংক্ষেপে ভিএআর। ফুটবল ম্যাচে রেফারির ছোট্ট একটি ভুল হতে পারে লাখো সমর্থকের হূদয় ভাঙার কারণ। স্বপ্ন ভাঙে দেশ, জাতি কিংবা ফুটবলারদের। এজন্য সর্বোচ্চ ভুল এড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ভিএআর পদ্ধতি গ্রহণ করে ফিফা।

রিভিউ, গোল হয়েছে কিনা, সরাসরি লাল কার্ড দেয়ার মতো ঘটনা, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত এবং কোনো ফাউল রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলে সেটা দেখিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে রেফারিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে ভিএআর। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অন্তত ফিফার ১০০ সদস্য দেশ এর ব্যবহার করে।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইতালির সান নিকোলা স্টেডিয়ামে ইতালি-ফ্রান্স প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার ভিএআরের ব্যবহার হয়। ছয় বছর পর এটি এখন ফুটবলের নির্ভুলতার বৃহৎ অংশ।

ক্রিকেটে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পল হকিন্স ২০০১ সালে ‘হক আই’ আবিষ্কার করেছিলেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে বলের গতিবেগ নির্ণয়, পিচে বলের ঘূর্ণন, বাউন্সের পরিমাপ এবং স্ট্যাম্পের কোথায় বলটি আঘাত করতে পারে তা নির্ণয় করে থাকে। অন্য সব ক্রীড়া ফেডারেশন থেকে সমৃদ্ধ হলেও নির্ভুল সিদ্ধান্তের জন্য প্রযুক্তি নিয়ে আসতে একটু দেরিই করেছে ফুটবল।

শুরুর দিকে সমালোচনা হলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০১৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপেও ভিএআর ব্যবহার করে ফিফা। ওই বছরের ১৬ মার্চ বোগোটায় এক সভায় রাশিয়া বিশ্বকাপে ভিএআর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা কাউন্সিল।

সময়ের সঙ্গে এ নিয়ে আরো বেশি গবেষণা করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চার বছরের মাথায় আসন্ন কাতার বিশ্বকাপে আসছে আরো অত্যাধুনিক পরিবর্তন। ভিএআরের সঙ্গে কাজ করবে ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ (এসএওটি)। যেখানে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিতে ভিএআরের গড়ে ৭০ সেকেন্ড সময় লাগত। ভুল ও সময় কমিয়ে ২৫ সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে সেমি-অটোমেটেড।

ফুটবলের সুনিপুণতা বাড়িয়ে দেয়া ভিএআরের আগমনী ইতিহাস ২০১০ সালে থেকে শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড। ম্যাচের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ১০৩ মিনিটে থিয়েরি অঁরি হাত দিয়ে বলের গতিপথ রোধের মাধ্যমে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দেন। ওই হারে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় আইরিশদের। রেফারি মার্টিন হ্যানসনের চোখ এড়িয়ে যায় অঁরির হ্যান্ডবল। ওই বিশ্বকাপেই জার্মানির বিপক্ষে ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের একটি গোল নিয়ে বিতর্ক বেঁধেছিল! এরপর নানা তর্ক-বিতর্ক শেষে বিশ্বকাপে গোল লাইন প্রযুক্তির দেখা মেলে।

ফিফার মতে, ২০১৮ বিশ্বকাপে ভিএআর পদ্ধতির সাফল্যের হার ছিল ৯৯.৩ শতাংশ, ভিএআর ছাড়া রেফারিদের সঠিক কল ছিল ৯৫ শতাংশ।

ভিডিও অপারেশন কক্ষ (ভিওআর) থেকে ভিএআর মাঠে রেফারির সঙ্গে কথা বলে। স্টেডিয়ামে স্থাপন করা ক্যামেরা থেকে ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ফুটেজ যায় ভিওআর কক্ষে। এখান থেকেই ফাইবার লিংকড রেডিও ব্যবস্থার মাধ্যমে রেফারির সঙ্গে কথা বলে ভিএআর। মাঠে থাকে সুপার স্লো মোশন ক্যামেরা ও আলট্রা সুপার স্লো মোশন ক্যামেরা। দুটি বিশেষ অফসাইড নির্ধারণী ক্যামেরা থাকে এবং দুই গোলবারের পেছনে স্থাপন করা হয় দুটি আলট্রা সুপার স্লো মোশন ক্যামেরা।

একটা কথা মনে রাখা দরকার, যেকোনো ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুই মাঠের রেফারি। ভিএআর দল শুধু তাকে সাহায্য করবে।