সিরিজের দ্বিতীয় টি২০তে পাকিস্তানের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়ে গেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের। সোমবার শেষ টি২০ ম্যাচে ভালো করতে না পারলে হোয়াটইওয়াশের লজ্জার মুখে পড়বে স্বাগতিকরা।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও কিছু ব্যক্তিগত ইনিংস এবং বোলাররা আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম না বোলিং-না ব্যাটিং কোনো কিছুতেই বাংলাদেশকে চেনা যায়নি।
উল্টো অতিথিদের হয়ে বল হাতে আফ্রিদি-শাদাব, ব্যাট হাতে ফখর-রিজওয়ানরা বাংলাদেশকে প্রতিরোধই গড়তে দেননি। অতিথি দলটি ১০৮ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। হাসান আলীর জায়গায় নেমে আগুন ঝরালেন শহিন শাহ আফ্রিদি। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। জবাবে ফখর জামানের অর্ধশতকে ভর করে ১১ বল হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। এজন্য তারা খুইয়েছে মাত্র দুটি উইকেট। এ জয়ে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল বাবর আজমের দল।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েই নামে দলটি। অপরদিকে পাকিস্তান একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। হাসান আলীকে বিশ্রাম দিয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে নামে সফরকারীরা।
প্রথম ম্যাচের পর আজও ব্যর্থ বাংলাদেশের ওপেনাররা। গত ম্যাচে ১ রান করলেও এ ম্যাচে রানের খাতাই খোলা হয়নি সাইফ হাসানের। শাহিন আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে সাজঘরে ফেরেন সাইফ। নাঈম শেখের দৌড়ও বেশিদূর যায়নি। গত ম্যাচে এক রান, এ ম্যাচে ২ রান। দলীয় ৫ রানে দুই টপ অর্ডারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন বাংলাদেশেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। দলের স্কোর বোর্ডে যখন ৫১ রান, তখন আফিফ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিজওয়ানকে। শাদাব খানের শিকার হওয়ার আগে ২১ বলে ২০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ১৫ বলে ১২ রান করে। দেখে-শুনে খেলে রান বাড়াচ্ছিলেন শান্ত। কিন্তু ৮২ রানের মাথায় তাকে ফিরিয়ে শাদাব খান রানের চাকা স্লো করে দেন। ৩৪ বলে ৪০ রান করেন শান্ত। ইনিংসে ছিল ৫টি চারের বাউন্ডারি। একটা সময় বাংলাদেশ দেড়শো পেরেনোর সম্ভাবনা দেখালেও একশোর আগে ছয় ব্যাটারকে হারিয়ে তা আর হয়নি।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদি ৪ ওভারে ১৫ রান
দিয়ে ২টি ও শাদাব ৪ ওভারে ২২ রানের
বিনিময়ে ২টি উইকেট নেন।
১০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বেগ পায় পাকিস্তান। ১২ রানের মাথায় ওপেনার বাবর আজমকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। গত ম্যাচে তাসকিনের বলে আর আজ মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হন পাকিস্তান অধিনায়ক। আজ তার উইলো থেকে আসে ১ রান। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে দলকে জয়ের একমদ কিনারায় নিয়ে যান ফখর জামান ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ফখর তুলে নেন টি২০ ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক। দু’জনের ৮৬ রানের জুটি ভাঙে যখন পাকিস্তান জয় থেকে মাত্র ১২ রান দূরে।
লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম
বিপ্লবের বলে হিট করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাইফ হাসানের হাতে ধরা পড়েন রিজওয়ান। ৪৫
বলে ৪টি বাউন্ডারিতে ৩৯ রান করেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। এর পর আর কোনো উইকেট
হারাতে দেননি সফরকারীরা। হায়দার আলীকে সঙ্গে করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফখর। ৫১ বলে ৫৭
রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। তিন ছক্কা ও দুটি চারে সাজান ইনিংসটি। হায়দার
৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ও আমিনুল একটি করে উইকেট
নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ফখর জমান।










