টোকিও অলিম্পিকের
চ্যাম্পিয়ন নীরাজ চোপড়াকে হারিয়ে প্যারিস অলিম্পিকে ছেলেদের জ্যাভেলিন নিক্ষেপে চ্যাম্পিয়ন
হয়েছেন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম। ৩২ বছর অলিম্পিকে পদক পেল পাকিস্তান। তার এই সাফল্যে
উচ্ছ্বাসে ভাসছে গোটা দেশ।
এর আগে অলিম্পিকে
পাকিস্তানের সর্বশেষ পদক আসে ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা আসরে ও সর্বশেষ স্বর্ণপদক আসে ১৯৮৪
সালের লস অ্যাঞ্জেলেস আসরে। দুটিই ছিল ফিল্ড হকিতে। এবার স্বর্ণপদক এলো ব্যক্তিগত ইভেন্ট
থেকে।
বৃহস্পতিবার
রাতে নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছেন আরশাদ। তিনি ৯২.৯৭ মিটার দূরে জ্যাভেলিন
নিক্ষেপ করে নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়েছেন। এ পথে তিনি ভেঙেছেন ২০০৮ সালের অলিম্পিকে
নরওয়ের আন্দ্রেস থরকিল্ডসেনের ৯০.৫৭ মিটারের রেকর্ড। আরশাদ নাদিম ছাড়িয়ে যান নীরাজ
চোপড়ার ৮৯.৪৫ মিটারের স্কোরটা। চোপড়া রৌপ্য পদক জিতেছেন। গ্রেনাডার অ্যান্ডারসন পিটার্স
পেয়েছেন ব্রোঞ্জ।
আরশাদ নাদিমকে
অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন,
‘সাবাস আরশাদ, তুমি ইতিহাস গড়েছো। তুমি গোটা জাতিকে গর্বিত করেছো।’
এটা অলিম্পিকে
পাকিস্তানের ১১তম পদক। ৪টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ জিতেছে এশিয়ার দেশটি। ৪টি
স্বর্ণের মধ্যে ৩টি এসেছে ফিল্ড হকি থেকে, বাকিটা জিতলেন আরশাদ নাদিম। পাকিস্তানের
১১টি পদকের মধ্যে ৮টিই জিতেছে ফিল্ড হকি দল, আর ব্যক্তিগত পদক এসেছে তিনটি। নাদিমের
আগে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে মুহাম্মদ বশির ও ১৯৮৮ সালের সিউল
গেমসে বক্সিংয়ে হুসাইন শাহ ব্রোঞ্জ জয় করেন।
নাদিমের মা
রাজিয়া পারভিন পূর্ব পাঞ্জাবের শহর মিয়াঁ চান্নুতে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ছেলের
খেলা দেখেছেন। তিনি পুরোটা সময় কুরআন শরীফ হাতে রেখেছেন এবং ছেলের জন্য প্রার্থনারত
ছিলেন। তার বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা সিজদায় পড়ে যান এবং একে অপরের সঙ্গে
আলিঙ্গন করেন। আত্মীয়জনেরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
আরশাদ নাদিমের
মা বলেন, ‘আমার ছেলেকে এমন সম্মান দেয়ায় আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমার মন বলছিল, সে স্বর্ণপদকটি জিততে পারবে।’
গত ৩০-৪০ বছরে
পাকিস্তানে ক্রিকেট এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে হকির মতো খেলাটিও তাদের দেশে ম্লান
হয়ে পড়ে। ২০২৮ সালের অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। পাকিস্তান নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটে অন্যতম
ফেভারিট হিসেবে খেলবে।










